সিলেট সদরে আ.লীগের প্রার্থী কে

  

পিএনএস ডেস্ক : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আবারও জানিয়েছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন না। তাঁর নির্বাচনী আসনে ছোট ভাই এ কে আবদুল মোমেন নির্বাচন করতে পারেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া না-নেওয়া নিয়ে ঘন ঘন মত বদল এবং মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার দুই দিন পর নির্বাচন না করার ঘোষণা দেওয়ায় এলাকার দলীয় নেতা–কর্মীরা কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ২০১৭-১৮ অর্থবছরের লভ্যাংশের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এ সময় তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক নেতাদের একটা বিষয় বোঝা উচিত যে ‘অবসরে যাওয়ার জন্য ৮৫ বছর যথেষ্ট। এখনো অনেক সিনিয়র রাজনীতিবিদ মাঠে রয়েছেন, যাঁদের অবসরে যাওয়া উচিত। তবে তাঁরা আরও একবার সুযোগ নিতে চান। কিন্তু আমার এখন অবসরে যাওয়ার উত্তম সময়।’

এর আগেও ঢাকা ও সিলেটের বিভিন্ন সভা-সেমিনার-সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিছুদিন পর আবার মত বদল করে পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। তবে নির্বাচন না করার ঘোষণা দেওয়ার সময় প্রতিবারই তিনি নিজের আসনে তাঁর ছোট ভাই ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি আবদুল মোমেন নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। গতকালও তা–ই বলেছেন।

নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন আবুল মাল আবদুল মুহিত। এবারের নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় তিন বছর ধরে তিনি আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে বক্তৃতা-বিবৃতিতে জানিয়ে আসছেন। কিছুদিন আগে অবশ্য তিনি মত পাল্টে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

গত শুক্রবার অর্থমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর ছেলে সাহেদ মুহিত সিলেট-১ (মহানগর ও সদর উপজেলা) আসনে বাবার জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। একই দিন একই আসনে অর্থমন্ত্রীর ছোট ভাই আবদুল মোমেনও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগমুহূর্তে অর্থমন্ত্রীর সর্বশেষ ঘোষণা সিলেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বক্তব্যের পর দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নড়েচড়ে বসেছেন।

এ আসনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক তাঁর ছোট ভাই এ কে আবদুল মোমেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান এবং সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন। তাঁরা প্রত্যেকেই দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সাংবাদিককে বলেন, এখানে তৃণমূলের পছন্দের রাজনীতিবিদকে প্রার্থী করা হোক। উড়ে এসে জুড়ে বসলে দলের জন্য কাল ডেকে আনা হবে। ছহুল হোসাইন বলেন, ‘দলের নেতা-কর্মীদের আগ্রহেই আমি মনোনয়ন চেয়েছি। আর অর্থমন্ত্রীর এখন বয়স হয়েছে। অন্যদিকে মোমেন সাহেবের ভাবমূর্তি অর্থমন্ত্রীর মতো নয়। সে ক্ষেত্রে দলের তৃণমূলের কর্মী থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের সবাই চাইছেন, আমি যেন প্রার্থী হই।’

গতকাল অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তাঁর ভাই আবদুল মোমেন বলেন, ‘তিন বছর ধরেই অর্থমন্ত্রী বলে আসছেন, তিনি আর নির্বাচনে অংশ নেবেন না। আমাকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। এখন নেত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’

অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, অর্থমন্ত্রী একজন সজ্জন ব্যক্তি। অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দীর্ঘকাল ছিলেন, আছেন। কিন্তু তিনি একবার বলছেন নির্বাচন করবেন, আবার বলছেন করবেন না। এমন বক্তব্য তৃণমূলে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। কামরান নিজের মনোনয়ন চাওয়ার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা সার্বিকভাবে বিবেচনা করে যাঁকেই মনোনয়ন দেবেন, তাঁর পক্ষেই দলীয় নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech