নরসিংদী-৫ : নৌকায় রাজু, ধানের শীষ পাচ্ছেন কে?

  



পিএনএস ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এমপি। কিন্তু বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ পাচ্ছেন কে? এ প্রশ্ন এখন এ আসনের ভোটের মাঠের সর্বত্র।

এ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপির মনোনীত দুইজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছে। ফলে দুই জনই বৈধ প্রার্থী হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধানের শীষ প্রতীক পেতে কেন্দ্রীয় ভাবে লবিং তদবির করছেন। তারা হলেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো: আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ. কে নেছার উদ্দিন।

আওয়ামী লীগের পাঁচবারের সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এবারো ষষ্ঠবারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। ১০ম সংসদ নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু এবার তাকে লড়তে হচ্ছে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সাথে। তবে এখনো ধানের শীষের প্রার্থী ঠিক হয়নি। কে পাচ্ছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক চা স্টল ও নির্বাচনী মাঠে চলছে নানা হিসাব নিকাশ।

১৯৯৬ সাল থেকে প্রায় ২২ বছর ধরে আ’লীগের দখলে এ আসনটি। আ’লীগের দখলে থাকা আসনটি পুনরুদ্ধারে চেষ্টা করছে বিএনপি। আ’লীগের হেভিওয়েট ৯ মনোনয়ন প্রত্যাশীকে পরাজিত করে রাজু এবারও নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন। অপরদিকে বিএনপির ডামি প্রার্থীসহ ২১ মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে বিএনপি দুইজনকে মনোনয়ন দাখিলের চিঠি দেয়। ফলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিএনপি মনোনীত চূড়ান্ত প্রার্থী নিয়ে নানা আলোচনা হিসাব নিকাশ চলছে।

২৪ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বৃহত্তর এ আসনে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ভোটার।

কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, ১৯৯১ ও ’৯৬ সালে দুইবার বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আলী মৃধা এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। ’৯৬ ও ২০০১ সালে এ আসনে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে রাজিউদ্দিন রাজু এমপি নির্বাচিত হয়। যা ভোটের ব্যবধান প্রায় কাছাকাছি। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দৌড়ে হেরে যান আবদুল আলী মৃধা। শেষ রাতে ধানের শীষ পান সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী আলহাজ জামাল আহমেদ চৌধুরী। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের চারদিন আগে বিএনপির দলীয় শৃংখলা ভঙের অভিযোগে সাময়িক সদস্য পদ হারান মৃধা। দীর্ঘ দশ বছর পার হলেও এখনও মৃধার সাময়িক স্থগিত সদস্য পদ ফিরে পাননি।

জামাল চৌধুরী ১০ম সংসদ নির্বাচনের পর মাঠ ছেড়ে দিয়ে প্রবাসে পাড়ি জমান। ফলে তিনি বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ ও উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ হারান। তার (জামাল) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দখল করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে নেছার উদ্দিন। জামাল চৌধুরী এবারো মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু মনোনয়ন পান আশরাফ ও এ কে নেছার উদ্দিন।

মনোনয়ন লড়াইয়ে বিএনপি এখন কেন্দ্রীয় লবিং তদবীরে ব্যস্ত। আর সে সুযোগে ফাঁকা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আ’লীগের প্রার্থী রাজু।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech