প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখাই হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা : নৌপ্রতিমন্ত্রী

  

পিএনএস ডেস্ক : ২০১৯ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ‘জিডিপির ফোরকাস্ট’ সংক্রান্ত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত একটি রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘একটি জার্নালে দেখলাম দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এক নম্বরে রয়েছে।

সেখানে পাকিস্তান অনেক নিচে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের এই অর্জন হয়েছে; এর ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সকলকেই কাজ করতে হবে। এই অর্জনের ধারা ধরে রাখতে পারলে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।’

আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গত রোববার প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে থাকবে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার। এডিবির ফোরকাস্ট বলছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৮ শতাংশ। এর পর ৭.২ শতাংশ নিয়ে থাকবে ভারত। পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল ও ভুটানের পর। এডিবির ধারণা ২০১৯ সালে পাকিস্তানের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩.৯ শতাংশ।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন রক্ত দিয়ে হলেও এদেশের মানুষের ঋণ শোধ করবেন। তিনি আমাদের ঋণ শোধ করেন নাই, আমাদের ঋণী করে গেছেন।

সমগ্র জাতি বঙ্গবন্ধুর কাছে ঋণী। বঙ্গবন্ধুর ঋণ আমরা কখনেই শোধ করতে পারবো না। কিন্তু তার স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলা গড়ার। সেই সোনার বাংলা আমরা যেন তৈরি করতে পারি। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ তৈরি করতে, আমরা আমাদের কর্ম দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে কতটুকু ভালোবাসি এবং শ্রদ্ধা করি তা বোঝাতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘জাতির পিতা সারা বিশ্বের মানবতাবাদী ও শোষিতের পক্ষের নেতা ছিলেন। তার নেতৃত্বগুণে বাংলাদেশ থেকে মিত্র বাহিনীর সৈন্যরাও চলে যায়। কোনো যুদ্ধ নয়; ইরাকের হুমকির মুখে সৌদি আরবে মার্কিন সৈন্যরা আসে। কিন্তু এখনো সেখান থেকে মার্কিন সৈন্য যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করেই শেষ করেননি। তার সময়েই ১১৬টি রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। চীন ও আরবের কিছু দেশ জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।’

জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল জিয়াউর রহমান তাদেরকে মন্ত্রী বানিয়েছিল। এ জিয়াউর রহমান জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনীদের বাঁচাতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে তার রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে।’

জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘জাতির পিতা ক্ষমতার চেয়ে জনসেবা ও জনগণের পক্ষে আন্দোলনকে ভালবেসেছেন। একাত্তরে প্রমাণ হয়েছে, জাতির পিতা চাইলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেয়েছেন। তার সংবিধানের চার মূলমন্ত্রের মধ্যে সমাজতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তিনি সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলেন। ঠিক ওই সময়েই ঘাতকেরা জাতির জনককে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণা আমাদের মাঝে আছে। তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে অনেক দূর এগিয়ে এনেছেন। বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে হবে। কারণ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর কাছে অসীম ঋণে আবদ্ধ।’

মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জাতির পিতার হত্যায় দেশের সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল; তাদের সম্পৃক্ততা ছিল।’

জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে এ সেক্টর কমান্ডার বলেন, ‘২৩ মার্চ জিয়াকে অনুরোধ করার পরও ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে জিয়া কক্সবাজারের দিকে চলে যায়। সে আশেপাশে থাকলে পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি সৈনিকদের মারতে পারত না।’

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech