ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা

  

পিএনএস ডেস্ক : বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে লবিং-তদবির এবং ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সংগঠনটির নেতারা। আর কমিটিতে পদ পেতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে যখন-তখন গিয়ে হাজির হচ্ছেন পদ প্রত্যাশীরা। এমনকি সাংগঠনিক জেলা সফরও করেছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থীরা। তবে লবিং-তদবির নয়, কাউন্সিলদের মতামতের ভিত্তিতেই নেতা নির্বাচিত হবে বলে জানিয়েছেন কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্চ কমিটির সদস্যরা। ছাত্রদলের কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্চ কমিটির সদস্য ও প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ছাত্রদলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি পদে মো. মামুন খান, মো. আসাদুল আলম টিটু, রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, এসএএম আমিরুল ইসলাম এবং হাফিজুর রহমান আলোচনা রয়েছেন। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আলোচনায় রয়েছেন রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাইফ মাহমুদ জুয়েল হাওলাদার, মো. হাসান (তানজিল হাসান), ডালিয়া রহমান। তবে এদের মধ্যে সাইফ মাহমুদ জুয়েল হাওলাদার সম্পাদক পদে সবচেয়ে বেশী আলোচনায় রয়েছেন।

সূত্রটি জানায়, ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির পর বয়সসীমা বাতিল করে কমিটি দেয়ার দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছে তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের পক্ষে অবস্থান নেন রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাইফ মাহমুদ জুয়েল। হাইকমান্ডের নির্দেশে এর বিপক্ষে কাজ করেন তারা দু’জন। এছাড়াও এই দুইজন প্রার্থী দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছেন। একারণে তাদের দু’জনের নাম সবার আগে আসছে।

ছাত্রদলের কাউন্সিলের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাবেক নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, কাউন্সিল প্রক্রিয়াটা খুবই স্বচ্ছ। ছাত্রদলের ১১৭টা রাজনৈতিক জেলার ৫ জন করে ৫৮০ কাউন্সিলর স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে ভোটে অংশগ্রহণ করবেন। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে। আর সবার উপস্থিতিতে কাউন্সিলরদের যে মতামত ভোটের মাধ্যমে আসবে- সেটা গণনা করে সেখানেই ফলাফল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি এতো ভোটের মধ্যে কেউ সিন্ডিকেটের নামে প্রভাব বিস্তার করবেন- এধরণের কোন সুযোগ নাই। কারণ এখানে যোগ্যতা উল্লেখ করা আছে, আচরণ বিধিতে বলা রয়েছে যে, কোন যোগ্য ও আচরণ বিধির ফলে একজন প্রার্থী হবেন। সুতরাং সিন্ডিকেট বলতে বিভিন্ন অপপ্রচার যেভাবে চলে আসছে, এটাকে আমি কোনভাবে প্রভাবিত করার সুযোগ দেখি না। কারণ এক- দুইজন ব্যক্তি সারা বাংলাদেশের কাউন্সিলরদেরকে জিম্মি ও প্রভাবিত করবেন এতো ভোট এবং স্বচ্ছতার মধ্যে? কোন সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে স্থান পেতে গত ১৮ আগস্ট সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র কিনেন ১১০ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৪৪ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৬৬ জন। পরে গত ২০ আগস্ট ৭৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি প্রার্থী ২৭ জন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ৪৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।

সভাপতি পদে প্রার্থী যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন:

মো. মামুন খান, মো. আসাদুল আলম টিটু, আজিম উদ্দিন মেরাজ, মো. ইলিয়াস, হাফিজুর রহমান, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাজিদ হাসান বাবু, আল মেহেদী তালুকদার, মাহমুদুল হাসান বাপ্পী, তানভীর রেজা রুবেল, মো. এরশাদ খান, এবিএম মাহমুদ আলম, এম আরজ আলী শান্ত, মো. সুরুজ মণ্ডল, মো. আবদুল মাজেদ, মাইনুল ইসলাম, মো. ফজলুর রহমান, আশরাফুল আলম ফকির লিংকন, মুহাম্মদ ফজলুল হক নিরব, আরাফাত বিল্লাহ খান, এসএম আল আমিন, মো. জুয়েল মৃধা, আবদুল হান্নান, মো. শামীম হোসেন, এসএএম আমিরুল ইসলাম, সুলায়মান হোসাইন, আল আমিন কাউছার।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী যারা:

সাইফ মাহমুদ জুয়েল হাওলাদার, রিয়াজ মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, মো. ওমর ফারুক শাকিল চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, আবদুল মান্নান, নাদিয়া পাঠান পাপন, এবিএম বাকির জুয়েল, মিজানুর রহমান শরীফ, মো. ওমর ফারুক, মো. হাসান (তানজিল হাসান), মো. আলাউদ্দিন খান, রাশেদ ইকবাল খান, আমিনুর রহমান, ইকবাল হাসান শ্যামল, ইমদাদুল হক মজুমদার, মো. নাইম হাসান, কেএম সাখাওয়াত হোসেন, শাহনেওয়াজ, এএএম ইয়াহইয়া, ডালিয়া রহমান, সোহেল রানা, মোহাম্মদ কারীমুল হাই নাঈম, মো. মহিনউদ্দীন রাজু, আরিফুল হক, মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান, মো. আসাদুজ্জামান রিংকু, মো. আবুল বাশার, মো. মিজানুর রহমান সজীব, মো. জুলহাস উদ্দিন, মো. মিজানুর রহমান, মো. জাকিরুল ইসলাম জাকির, সাদিকুর রহমান সাদিক, আবদুল মোমেন মিয়া, কাজী মাজাহারুল ইসলাম, আজিজুল হক সোহেল, শেখ মো. মশিউর, মো. জামিল হোসেন, শেখ আবু তাহের, মো. তবিবুর রহমান সাগর, মাজেদুল ইসলাম, মাহমুদুল আলম শাহিন, মো. জোবায়ের আল মাহমুদ রিজভী, নাজমুল হক হাবীব, জহিরুল ইসলাম (দিপু পাটোয়ারি), আনিসুর রহমান সুমন, এমএম বাবুল আক্তার শান্ত ও মুন্সি আনিসুর রহমান।

গত ৩ জুন বিএনপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয়। এরপর আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

এগুলো হচ্ছে, প্রার্থীদের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য হতে হবে। অবশ্যই বাংলাদেশে অবস্থিত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র হতে হবে। ২০০০ সাল থেকে পরবর্তীতে যেকোন বছরে এসএসসি/ সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

এদিকে ছাত্রদলের মনোনয়নপত্র বাছাই ২৬ আগস্ট পর্যন্ত এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৩১ আগস্ট। প্রার্থীর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হবে ২ সেপ্টেম্বর। প্রার্থীদের প্রচারণা ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর মধ্য রাত পর্যন্ত।

আগামী ৪ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ, তালিকার ওপর আপত্তি ও নিষ্পত্তি ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর এবং চূড়ান্ত তালিকা ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে। আর তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীরা আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত ভোটের প্রচারণা চালাতে পারবেন।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর এই দুই পদের নেতা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। যাতে সারাদেশের ছাত্র দলের ১১৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের ৫৮০ জন কাউন্সিলর ভোট দেবেন।

সর্বশেষ ছাত্রদলের কমিটি গঠন হয়েছিলো ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর। ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আকরামুল হাসানকে নির্বাচিত করা হয়। রাজীব-আকরামের নেতৃত্বে ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা পর দীর্ঘদিন পরে এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়, যাতে ৭৩৬ জনকে পদ দেওয়া হয়েছিলো।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech