ছাত্রদের হলে ‘বান্ধবী’, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারি (ভিডিও)

  

পিএনএস ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একটি আবাসিক হলের গেস্টরুমে তিনজন বান্ধবীকে নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার দুপুরে দুই দফায় চলা এই মারামারিতে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন, ফাইন্যান্স বিভাগের কামরুল হাসান, দর্শন বিভাগের একরাম হোসেন রিওন, মারুফ পারভেজ, রনি, জসিম, ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের লিমন, লোক প্রশাসন বিভাগের সোহেল ও ইতিহাস বিভাগের রাজিব।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুজন নেতা ও কয়েজন প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের গেস্টরুমে বসেছিলেন ফাইন্যান্স বিভাগের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী কামরুল হাসান। এ সময় হলের গেস্টরুমে তিনজন বান্ধবী নিয়ে প্রবেশ করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাকিবুল হাসান বাকির অনুসারী একরাম হোসেন রিওন। সেখানে বসাকে কেন্দ্র করে রিওন ও কামরুলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কামরুলকে মারতে থাকেন রিওনসহ কয়েকজন। এ সময় কামরুল দৌড়ে হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে গিয়েও তাকে মারধর করা হয় এবং তার কক্ষ ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে দুপুর দেড়টার দিকে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা হলের সামনে এসে রিওনসহ কয়েকজনকে মারধর করেন। এই মারধরের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, মাদার বখশ হলের সামনের একটি দোকান থেকে একজনকে বের করে বেধড়ক পেটাচ্ছেন অন্তত ১০-১৫ জনের একটি দল। তাকে পেটাতে পেটাতে দোকান থেকে বাইরে আনা হয়। এরপর কিছুক্ষণ তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন কয়েকজন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেল স্টেশনের দিকে চলে যান। এ সময় তাকে বাঁচাতে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাকিবুল হাসান বাকি বলেন, ‘২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আমি সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলাম। সেখানে এক বছর মেয়াদি কমিটি ঘোষণা করা হয়। আমি শাখা ছাত্রলীগে কোনো পদ পায়নি। এক বছরের কমিটি তিন বছর হয়ে গেছে। এই তিন বছর ধরেই আমার ছেলেদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘গেস্টরুমে ঝামেলার পর লিওন তার বন্ধুদের নিয়ে কামরুলের রুম ভাঙচুর করে। পরে কামরুল আমাকে ও সভাপতিকে বিষয়টি জানালে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মাদার বখশ হলে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারির খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আমরা সেখানে যাই। গিয়ে তাদের শান্ত করি। পরে হল প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ‘গেস্টরুমে বসা নিয়ে দুই আবাসিক ছাত্রের মধ্যে প্রথমে ঘটনার সূত্রপাত। পরে একটি বড় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য তৎপর আছে।’



পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন