যুবলীগের নেতৃত্বে আসছেন যারা

  

পিএনএস ডেস্ক : চলমান শুদ্ধি অভিযানে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ। দুর্নীতির অভিযোগে পদচ্যুত করা হয় সংগঠনটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে।

সংগঠনটির অতীত ঐতিহ্য, দলীয় ভাবমুর্তি ফেরাতে নতুন ভাবে ঢেলে জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেস।

কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি। শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এছাড়া রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউশন মিলানায়তনে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় অধিবেশন। সেখান থেকেই নির্বাচন করা হবে যুবলীগের পরবর্তী নেতৃত্ব।

আওয়ামী লীগসহ এর প্রতিটি সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনের ভার সংগঠনটির নেতাকর্মীদের উপর। তবে সব সময় নেতাকর্মীরা নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্বটা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার উপর ছেড়ে দেন। যুবলীগের আসন্ন সম্মেলনেও নেতৃত্ব নির্বাচনের ভার শেখ হাসিনার উপরই দেবেন সংগঠনটির সকল স্তরের নেতাকর্মীরা। এবারই প্রথম যুবলীগে নেতাদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী সংগঠনটির বেশিরভাগ সিনিয়র নেতারা নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থেকে এরই মধ্যে ছিটকে পড়েছেন।

যুবলীগের নেতৃত্বে কারা কারা আসছেন এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা। যুবলীগ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন কংগ্রেসে চেয়ারম্যান পদে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস (পরশ) আসছেন, এটি নিশ্চিত। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে কে আসছেন সেটা নিয়ে চলছে আলোচনা। সেই আলোচনায় রয়েছেন যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম, সদ্যসাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য বেলাল হোসাইন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ (মহি)।

ফজলে শামস পরশ ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের বড় ভাই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিন তার বাবা-মা প্রাণ হারান। পরশের বর্তমান বয়স ৫১ বছর। এছাড়া আলোচনায় থাকা মহিউদ্দিন মহির গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থনা ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ২০০৩-১২ পর্যন্ত মহি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬-এর ২৮ অক্টোবর জামায়াত-শিবির প্রতিরোধের আন্দোলনে মুখোমুখি সংঘর্ষে সরাসরি অংশগ্রহণ ও ১/১১-পরবর্তী নেত্রী (শেখ হাসিনা) মুক্তি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন যুবলীগের এ নেতা। বর্তমানে তার বয়স ৫১ বছর ১১ মাস।
শুক্রবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কংগ্রেসের প্রস্তুতি ও মঞ্চ পরিদর্শনে আসেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় শেখ মনির ছেলে পরশ উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান পরশ। সেখানে নেতাকর্মীদের সাথে বেশ কিছু সময় অতিবাহিত করেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কংগ্রেসের প্রস্তুতি ও মঞ্চ পরিদর্শন শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

যুবলীগের নতুন কমিটি কীভাবে গঠিত হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, যুবলীগের নেতৃত্ব বাছাই কাউন্সিলররা ঠিক করবে। তাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হবে। তাদের সম্মতিতে পরবর্তী নেতৃত্ব আসবে। এখানে অবশ্যই আমাদের অভিভাবক সভাপতি রাষ্ট্রনায়ক দেশরত্ন শেখ হাসিনার মূল্যবান পরামর্শ আমরা নেব নেতৃত্বের দ্বার উন্মোচনে। এখানে কে নেতা হবেন তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তিনি বলেন, যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেসর কাউন্সিল অধিবেশনে চেয়ারম্যান-সাধারণ সম্পাদক পড়ে প্রার্থীদের নাম চাওয়া হয়েছে। একাধিক প্রার্থী হলে একজনকে বাছাইয়ের জন্য সময় দেওয়া হবে। তার মধ্যে কাউন্সিলররা সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাপ করে নতুন চেয়ারম্যান-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, যদি যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির রক্তের উত্তরাধিকারকে কাউকে এখানে চায় পরবর্তী নেতা হিসেবে, সেটা অবশ্যই যুবলীগের অধিকার আছে।

উল্লেখ্য, দেশব্যাপী চলমান শুদ্ধি অভিযান শুরু পরপরই আলোচনায় আসে যুবলীগ। সংগঠনটির শীর্ষ নেতাসহ বেশ কয়েক প্রভাবশালী নেতা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সংগঠন থেকে পদচ্যুত করা হয়। বাদ যায়নি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর দু-এক দিন সবর থাকলেও পরে সবকিছু থেকে অনেকটা দূরে সরে যান তিনি।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech