ভাঙছে ড. কামালের গণফোরাম!

  

পিএনএস ডেস্ক : গণফোরামের অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলে এবং পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের পর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর ড. কামাল হোসেনকে দুই সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছে দলটির বাদ পড়া নেতারা।

গত ১৪ মার্চ গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সদ্য ভেঙে দেওয়া কমিটির নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, দলীয় ঐক্য রক্ষায় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য গণফোরামের মুখপাত্র হিসেবে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা গণফোরামের দীর্ঘদিনের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মী হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে অনতিবিলম্বে দলীয় ঐক্য রক্ষাসহ দলকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করার দাবি জানাচ্ছি।

গত ৪ মার্চ কেন্দ্রীয় কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণা করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন ড. কামাল হোসেন। পরে গত ১২ মার্চ গণফোরামের ৭১ সদস্যের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন তিনি। যেখানে জায়গা হয়নি দলটির তিন পরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এবং মোস্তফা মহসিন মন্টুর।

নতুন কমিটিতে সভাপতির পদে আছেন কামাল হোসেন এবং রেজা কিবরিয়াকে করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক।

এবিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, কমিটি ভাঙে আবার কমিটি গড়ে। এটা অপ্রকৃতস্থ।

এদিকে গত শনিবার গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বর্ধিত সভা করেছেন নতুন আহ্বায়ক কমিটি থেকে বাদ পড়া নেতারা। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন, গণফোরামের সাবেক নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জগলুল হায়দার আফ্রিক, সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম প্রমুখ।

এবিষয়ে আবু সাইয়িদ বলেন, ড. কামাল হোসেনকে সামনে রেখে উচ্চাভিলাষী ও কুচক্রী মহল দলে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ১০ মাস কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহ্বান করেনি। ফলে দলের মধ্যে বহিষ্কার এবং পাল্টা বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে।

জানতে চাইলে মোস্তফা মহসিন মন্টুর বলেন, যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, আমি বলবো যে, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বেই এই সমস্যার সমাধান হবে। আর যদি সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে সংগঠনের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরকে নিয়ে আমরা বসবো। তাদের মতামত নিয়ে আমরা দলকে বাঁচাবো। আর মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা যদি বলে, দল ঠিক আছে তাহলে আমরা চলে আসবো। কিন্তু তারা যদি বলে- এভাবে চলতে পারে না তখন আমরা পদক্ষেপ নেবো।

দলীয় কোন্দল, পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার এবং কমিটি থেকে বাদ পড়া নেতাদের দুই সপ্তাহের আল্টিমেটামের বিষয়ে জানতে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, এসব বিষয় নিয়ে সোমবার থেকে আমরা বসবো। আর আলোচনা মাধ্যমেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।

আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সময় গণফোরামের এক সংবাদ বিবৃতিতে বলা হয়, গত বছরের ২৯ এপ্রিল গণফোরামের কাউন্সিলের পরে তিন থেকে চারজন কেন্দ্রীয় নেতা নিজেদের পছন্দ মতো কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করে সভাপতির অনুমোদন গ্রহণ করেন। কিন্তু ওই কমিটির নেতৃত্বে দলে গতি সৃষ্টির পরিবর্তে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেন। গণমাধ্যমে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত সংবাদ প্রকাশিত হয়, যা মেনে নেওয়া যায় না এবং চলতে দেওয়া যায় না।

এ পরিস্থিতিতে বিশেষ কাউন্সিল ২০১৯ কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কামাল হোসেন ২০১৯ সালের ৫ মে ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে গণফোরামে অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলে কারণে যখন পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার চলে ওই সময় গণফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশতাক আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খান সিদ্দিকুর রহমান এবং প্রবাসীকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল হাছিব চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

পরে বহিষ্কৃত এই চার নেতা দলটির সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, সহসভাপতি মহসীন রশীদ, সহসভাপতি শফিকউল্লাহ ও যুগ্ম সাধারণ মোস্তাক আহমেদকে দল থেকে বহিষ্কার করেন।

বহিষ্কৃত চার নেতা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পারি গণফোরামে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও অবাঞ্ছিত জনৈক মোস্তাক আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্রের ৪৩ (কর্মকর্তা অপসারণ) ধারা অমান্য ও অবজ্ঞা করে রাজনৈতিক চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে ও দলীয় ঐক্য বিনষ্ট করার হীন স্বার্থে চার জন কেন্দ্রীয় নেতার নামে অবৈধ, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। যা সভাপতি পরিষদ, সম্পাদকমণ্ডলী, স্থায়ী কমিটি, কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় আলোচনা হয়নি কিংবা সিদ্ধান্ত হয়নি।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন