জামায়াতের প্রেতাত্মা হেফাজতে: নওফেল

  

পিএনএস ডেস্ক: হেফাজতে ইসলামের নেতারা এখন জামায়াতের স্টাইলে বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর প্রেতাত্মা ভর করেছে হেফাজতে।

রোববার (২৯ নভেম্বর) সকালে নগরীর গোলপাহাড় মোড়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মহিম উদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় উপমন্ত্রী এ অভিযোগ করেন। দেড় দশক আগে ২০০৪ সালে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‌্যাব) কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছিলেন ছাত্রলীগ নেতা মহিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নওফেল বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত ইসলামী এখন তাদের খোলস পাল্টানোর চেষ্টা করছে। জামায়াতিদের অনেকেই এখন হেফাজতে ইসলামের ব্যানারের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। হেফাজতের নেতারা এখন বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতি স্টাইলে। অথচ বর্তমান সরকার কওমি মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জীবন নিশ্চিত করেছে। এরপরও হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা এখন যেভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন-হুঙ্কার দিচ্ছেন, তাতে মনে হচ্ছে তারা জামায়াতের প্রেতাত্মা।’

গত ১৩ নভেম্বর ঢাকার গেণ্ডারিয়ার ধূপখোলার মাঠে ‘তৌহিদী জনতা ঐক্যপরিষদের’ ব্যানারে এক সমাবেশ থেকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঢাকার ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করা হয়। একই দিনে রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে শানে রিসালাত কনফারেন্সে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মামুনুল হকও প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করেন। তিনি হুমকি দেন, ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধ না হলে দেশে আরো একটি শাপলা চত্বর পরিস্থিতি তৈরি হবে।

এই বক্তব্য দেয়ার পর আওয়ামী লীগ চুপ থাকলেও সোচ্চার হন নওফেল। বলেন, ‘ঘাড় মটকে দেবে জনগণ’। পরে মামুনুলের চট্টগ্রাম সফর নওফেল অনুসারীরা ঠেকিয়ে দিয়েছেন রাজপথের বিক্ষোভে। হাটহাজারীতে শুক্রবার এক মাহফিলে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল মামুনুলের। কিন্তু স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ তাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিলে তাকে ছাড়াই মাহফিল হয়। ওই মাহফিলের প্রধান অতিথি হেফাজতে ইসলামের আমীর জুনাইদ বাবুনগরী হুমকি দেন, যে কোনো দল ভাস্কর্য বসালে তা ‘টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেওয়া’ হবে।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বলিষ্ঠ অবস্থান নিয়ে আলোচনায় আসা আওয়ামী লীগ নেতা নওফেল বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নামি-দামি ব্যক্তিদের ভাস্কর্য আছে। ইসলামী রাষ্ট্রগুলোতেও আছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী জাতির পিতার ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড সৃষ্টি করছে। এর নেপথ্যের কারণ একটাই- সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার অপচেষ্টা। তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মপ্রিয় মানুষের মনে বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

চট্টগ্রামে স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনে মহিম উদ্দিনের ভূমিকা আছে উল্লেখ করে প্রয়াত নেতার স্মৃতিচারণ করেন নওফেল। বলেন, ‘তিনি সবসময় সাহসের সাথে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আমি এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই।’

একই সভায় স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী নির্বাচিত হলে নগরীর গোলপাহাড় মোড়কে ‘মহিম চত্ত্বর’ হিসেবে ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন।

চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিমের সভাপতিত্বে এবং যুবলীগ নেতা নুরুল আনোয়ারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন- দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা এম ইউনুস, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি, নগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, চসিকের সাবেক কাউন্সিলর কফিল উদ্দীন খান, সাবেক যুবনেতা জাহাঙ্গীর আলম, নগরীর বাগমনিরাম ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দীন।

এছাড়া ওমরগণি এমইএস কলেজের সাবেক ভিপি এম ইউনুস, সাবেক ছাত্রনেতা জসিম উদ্দীন খন্দকার, জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিথুন বড়ুয়া, সাবেক ছাত্রনেতা আসিফুর রহমান মুন্না, শরফুদ্দীন চৌধুরী রাজু, শওকত উল্লাহ সোহেল, নগর শ্রমিক লীগ নেতা আবুল হোসেন আবু, জালালাবাদ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী মো. ইব্রাহীম, সাবেক ছাত্রনেতা মেজবাহ উদ্দীন মোরশেদ, পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোবারক আলী, নগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রফিকুল ইসলাম, নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, সহ সম্পাদক সাব্বির সাকির, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অভি মুন্না বক্তব্য রাখেন।

এসময় কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মশিউর রহমান রোকন, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা শওকত হোসাইন, নাজমুল হক ডিউক, হাসান মুরাদ বিপ্লব, নগর যুবলীগ নেতা হাবিবুল্লাহ চৌধুরী নাহিদ, আসহাব রসুল চৌধুরী জাহেদ, এস এম আলম, রাজীব দত্ত রিংকু, আশরাফুল আলম, কাজী মোহাম্মদ আলমগীর, জিল্লুর রহমান রায়হান, লেলিন পাল, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জসিম উদ্দীন, মনোয়ার জাহান মনি, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আলমগীর আলম, শিবু প্রসাদ চৌধুরী, মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ শিবলী, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আবু সাঈদ সুমন ও মো. সেলিম, নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াসির আরাফাত কচি, ফখরুল আহমেদ পাভেল, একরামুল হক রাসেল, মইনুল হোসেন চৌধুরী শিমুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চৌধুরী বাবু, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আবুল মনসুর টিটু, কবীর আহমেদ, এম এ হালিম সিকদার মিতু, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম, এবং মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার পলাশ উপস্থিত ছিলেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন