সাঈদ-তাপসের ‘মধুভাণ্ডের কাহিনী’, কী পদক্ষেপ নিবে দুদক : প্রশ্ন রিজভীর

  


পিএনএস ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গতকাল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভিশপ্ত কালো দিবসের চৌদ্দ বছরপূর্তি ছিলো। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অসাংবিধানিক তথাকথিত এক সরকার ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, নাগরিক মর্যাদা লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল। গণতন্ত্র হত্যা, মানুষের অধিকার হরণ করে দেশকে নিক্ষেপ করেছিল একটা অন্ধকার গহ্বরে। দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তিকে নির্মূল করার জন্য দীর্ঘ দিনের দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছে মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন গং এর তথাকথিত অবৈধ সরকার।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, মঈন উদ্দিন-ফখরউদ্দিন সরকার দুই বছর ধরে দেশকে ছিন্নভিন্ন করে এই গণতন্ত্রবিনাশী গোষ্ঠী মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে একটি পাতানো ভূয়া নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যাকারী ও লুটেরা গোষ্ঠী-আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে গেছে। গত এক যুগ ধরে এই আওয়ামী দস্যুরা ওয়ান-ইলেভেনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জনগণের মধ্যে বিচ্ছেদ, বিনাশ, ব্যবধান সৃষ্টি করে একদলীয় ফ্যাসিজমের ন্যায় জালিমের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।

তিনি বলেন, তথাকথিত ওয়ান ইলেভেনের পর পথ হারিয়েছে বাংলাদেশ, জনগণ হারিয়েছে গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার। দেশে মনে হয় দেশে আইনের শাসন নয়, দেশ চলছে এক প্রভুর এক আইনে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, কথিত ওয়ান ইলেভেনের অনিয়মতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক সরকারের কাণ্ডজ্ঞানহীনতার কারণে গত একযুগ ধরে জনগণের ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের এমন একটা সরকার চেপে বসেছে যাদের নীতি গুম, খুন, অপহরণ, অবিচার, অনাচার, লুটপাট, টাকা পাচার আর দুর্নীতি। অবস্থা বর্তমানে এতোটাই বিপর্যকর অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার হরণকারী নিশিরাতের এই সরকারের নেতা-মন্ত্রী-এমপি-মেয়ররা দুর্নীতির টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এখন নিজেরাই একে অপরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, সরকারের মেগা মেগা মহা দুর্নীতির মহাসাগর থেকে ছিটেফোটা চিত্র দু-একজন নেতার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে। আপনারা অবগত আছেন, নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ঢাকা সিটি দক্ষিণের মেয়রের পদ দখল করেছিলেন সাঈদ খোকন। সাঈদ খোকনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিশিরাতের এমপি পদ ছেড়ে কোনো মধুর লোভে মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফজলে নূর তাপস মেয়র পদ দখল করেছেন সেই মধুভাণ্ডের কাহিনী এখন আরব্যরজনীর গল্পের মতো মনে হলেও সেটিই বাস্তবে ঘটেছে। সাঈদ খোকন বলছেন, মেয়র তাপস শত শত কোটি টাকা লুট করছেন অপরদিকে মেয়র তাপস বলছেন, শত শত কোটি টাকা লুট করেছেন সাঈদ খোকন। দুই জনই রাজপথে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে একে অপরের দুর্নীতি, লুটপাটের ফিরিস্তি দিচ্ছেন। তবে এটি স্পষ্ট দু’জনই লুটেরা, দু’জনই দুর্নীতিবাজ। এখন দুদক কী করবে? তামাশা দেখবে, না পদক্ষেপ নিবে। দুদক পদক্ষেপ নিতে পারবে না, কারণ দু’জনই ক্ষমতাশালী ও শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজন।

এসময় মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৮৫তম জন্মবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন