আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য হলো, বিএনপিকে নিধন করা: রিজভী

  

পিএনএস ডেস্ক: তথ্যমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, হাছান মাহমুদ মিথ্যার যন্ত্রে পরিণত হয়ে গিয়েছেন। মিথ্যার যন্ত্রে পরিণত হয়ে বলছেন, ‘বিএনপিকে এ ভ্যাকসিন আগে দেবেন’। তাদের উদ্দেশ্য হলো, বিএনপিকে নিধন করা।

রোববার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, খুন, গুম দিয়ে বিএনপিকে নিধন করার চেষ্টা করেছিলো। এখন ভ্যাকসিনের নিরাপত্তার জন্য বিএনপিকে আগে দিয়ে নিধন করার চেষ্টা করছে। এ সরকার মানুষের মরা-বাঁচা নিয়েও তিরস্কার শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ভারতে ভ্যাকসিন দিয়ে অনেকে মারা গেছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে। এজন্য আমরা বলেছিলাম, ‘ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা প্রমাণের জন্য ক্ষমতাসীনদের আগে ভ্যাকসিন গ্রহণ করা উচিত’। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সবার আগে ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন এবং ডাক্তার পাউসিও আগে নিয়েছিলেন। তাতে করে ভ্যাকসিনের প্রতি মার্কিনিদের আস্থা ফিরেছে, ভীতি দূর হয়েছে। সুতরাং আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিন আগে নিলে অসুবিধা কোথায়? তারা আগে ভ্যাকসিন নিলে এই ভ্যাকসিনের ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে।

আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিস্মারণ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, আরাফাত রহমান কোকো রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন না। তবে রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এদেশের কোটি কোটি মানুষের সমাদৃত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার ঘিরে রেখেছে গুলশান অফিসে।

বেগম জিয়ার গৃহবন্দিত্বের দিনগুলোর প্রতি আলোকপাত করে তিনি বলেন, তখন হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের উদ্যোগে মাঝে মাঝে ঝটিকা মিছিল দেখতাম। সারা দেশের নেতাকর্মীরা রাস্তায় অবরোধ তৈরি করেছিলো। সেই মুহূর্তে একজন মা সরকারের নিপীড়ন-অত্যাচারের শিকার। গোলমরিচ যার চোখে, সে যদি তার কনিষ্ঠপুত্রের মৃত্যুসংবাদ শুনে তখন সেই মায়ের কী অবস্থা হতে পারে? সেই বেদনা কি সইবার মতো? সেই বেদনা ছিলো হিমালয় পর্বতের মতো ভারি। সেই সময় জনগণ তা উপলব্ধি করেছিলো।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ যখন ঢাকায় আনা হয়েছিলো, তখন সারাদেশে একদিকে গুম-খুন, অত্যাচার-নিপীড়ন আর অন্যদিকে কোকোর জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছিলো। এতো অত্যাচার-নির্যাতনের মাঝেও মানুষের ঢল দেখে সেদিনই শেখ হাসিনা বার্তা পেয়ে গিয়েছিলেন। আর সেদিন থেকেই বিএনপির ওপর অত্যাচার আরো বহুমাত্রায় বেড়ে গিয়েছিল। সেদিন থেকেই শেখ হাসিনা আরো অত্যাচারী হয়ে উঠেছিলেন।

তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য সহধর্মিনী এবং বারবার যিনি স্বৈরাচারের অন্ধকার থেকে গণতন্ত্রকে উদ্ধার করেছেন, সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখনো অসংখ্য মিথ্যাচার-নিপীড়ন সহ্য করেও আপন শিরদাঁড়ায় সংগ্রাম করছেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন