খালেদা জিয়ার ‘প্রভাবশালী’ প্রেস সচিবকে অব্যহতি

  

পিএনএস ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘প্রভাবশালী’ প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করাসহ তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে এ সিদ্ধান্ত নেয় দলের স্থায়ী কমিটি। গত শনিবার দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে মারুফ কামাল সোহেল নিজের ফেসবুকে উল্লেখ করেছেন, ‘একটু সাময়িক সমস্যা হয়েছিল। আমার অতি হিতাকাঙ্ক্ষী কেউ আইডির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছিলেন। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ সময়ের মধ্যে কারও কাছে আপত্তিকর কোনো বার্তা গিয়ে থাকলে তার জন্য আমি দুঃখিত। দয়া করে উপেক্ষা করবেন। সকলকে ধন্যবাদ।’

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, মারুফ কামাল খান সোহেল বুঝে শুনেই তিনি তার ফেসবুক স্যাটাস দিয়েছেন। শুধুমাত্র নিজেকে রক্ষার জন্য ‘আইডির নিয়ন্ত্রণ’ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

২০০৯ সাল থেকে মারুফ কামাল খান বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিবের দায়িত্বে ছিলেন।

বিএনপির গঠনতন্ত্রে উল্লেখ রয়েছে, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে দলের প্রচার কার্যক্রম জোরদার ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে একটি মিডিয়া উইং প্রতিষ্ঠা করা হবে। দলের চেয়ারপারসন স্বয়ং কিংবা তার মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে তিনি এসব বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করবেন।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মারুফ কামাল খান সোহেল চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু গত ১ মার্চ সূবর্ণজয়ন্তীর ব্যানারে খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় দলের অসংখ্য নেতাকর্মীদের মতো সোহেলও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন। ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন নিয়ে এবং দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে নিয়ে সমালোচনামূলক মতামত পোস্ট করলে ব্যাপক আলোচনায় উঠে আসে বিষয়টি। এই নিয়ে গণমাধ্যমসহ দলীয় নেতাকর্মীরা পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয়। গত শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে মারুফ কামাল খান সোহেলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত হয়।

স্থায়ী কমিটির নেতাদের সূত্রে জানা যায়, যেহেতু কাগজে কলমে আর কেউ নেই, সেক্ষেত্রে নতুন করে খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আলোচনা করে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেবেন।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন