‘যদি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আসবেন তাহলে প্রথম স্ত্রীর নাম কেন লিখবেন’

  

পিএনএস ডেস্ক : ধর্মের নামে অধর্মের কাজ বা সহিংসতা যেখানেই করা হবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে বলে দৃঢ় উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফ। আজ মঙ্গলবার ‘হেফাজতের নেতৃত্বে পরিচালিত তাণ্ডবে’ আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে হামলায় আহতদের পরিবার পরিদর্শন করতে যায় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। এর নেতৃত্ব দেন মাহবুব উল আলম হানিফ। প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য আনোয়ার হোসেন । এছাড়াও এ কে এম শামীন ওসমান এমপি, নজরুল ইসলাম বাবু এমপি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এইচ এম মাসুদ দুলালসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও দলের সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে হেফাজতের হামলা ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত সোনারগাঁ উপজেলার আওয়ামী লীগের মোগড়াপারা চৌরাস্তার কার্যালয়, যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনির বাড়ি পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের এই প্রতিনিধি দল।

মাহবুব উল আলম হানিফ আরও বলেন, ‘একজন তথাকথিক, ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হককে সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে নারীসহ হাতেনাতে ধরে এলাকার লোকজন। কিন্তু তাকে কেন্দ্র করে ওই রিসোর্টে হামলা করে হেফাজতের নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর, যুবলীগের নেতার বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা, ছাত্রলীগের নেতার বাড়ি ভাঙচুর করাসহ সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করছে হেফাজতের লোকজন। এমনকি মহিলারাও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। যারা ইসলাম ধর্মের প্রচারক হিসেবে দাবি করেন সেই তথাকথিত মুসলমান রিসোর্টে কীভাবে নারী নিয়ে যান। যদিও তিনি পরবর্তীতে নির্লজ্জভাবে মিথ্যা বলার চেষ্টা করেছেন এই নারী তার স্ত্রী। যদি তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আসবেন তাহলে রিসোর্টে প্রথম স্ত্রীর নাম কোনো লিখবেন। অর্থাৎ এটা প্রমাণিত যে তিনি অনৈতিক কাজে জড়িত ছিল।’

হানিফ বলেন, ‘এখানেই গল্প শেষ নয় তিনি রিসোর্ট থেকে বের হওয়ার পর তার স্ত্রীকে ফোন করে বলেছেন যে তার সঙ্গে যিনি ছিলেন তিনি তার স্ত্রী নয়; তার বন্ধু শহিদুলের স্ত্রী।’

‘আমরা অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করলাম এই মামুনুল হককে রক্ষা করার জন্য তার পক্ষে সাফাই গাইলেন। এরমধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের কথায় এবং কাজে মিল নেই। এর ধর্মের দোহাই দিয়ে এহেন কোনো অন্যায় কাজ নেই তারা করে না। এই ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা অল্প শিক্ষিত তুলনামূলকভাবে কম বয়স যাদের তাদেরকে দিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করানো হচ্ছে’, বলেন হানিফ।

এসময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারির উদাহরণ দিয়ে হানিফ বলেন, ‘এরা একাত্তরের সেই পরাজিত শক্তি যারা বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, জাতীয় পতাকাকে মেনে নিতে পারে নাই।’

এই ঘটনায় জড়িত সবার নাম-ঠিকানার সংগ্রহ করতে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে হানিফ বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা করেছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা করেছে, মানুষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করেছে, এসব হামলার সঙ্গে যুক্তদের পরিচয় সংগ্রহ করুন। বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করুন। কে কোন ব্যবসায় যুক্ত, এসব তথ্য সংগ্রহ করুন। এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যাককেই আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’ একই সঙ্গে দলের ক্ষতিগ্রস্ত নেতাদের তালিকা করার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনাকালীন এই দুর্যোগে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে এবং মাস্ক পরিধান করে পুরো জাতিকে করোনার সুরক্ষা দিতে হবে। আর আগামী দিনে সব অপশক্তিকে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন