আসুন আমরা সত্যকে সত্য বলি, মিথ্যাকে পরিহার করি সঠিক ইতিহাস গড়ি

  

পিএনএস (মোঃ রুহুল আমীন চৌধুরী) : সদা সত্য কথা বলিব। মিথ্যা বলিবেনা । মিথ্যা বলা মহাপাপ। ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক ধর্মীয় বাণী আমরা ছোট বেলায় অথাৎ শৈশব কালে গুরুজনদের নিকট অথবা ছোটদের ছোট ছোট গ্রান্থের মাধ্যমে ঐশী বাণী গুলো লব্দ করেছি। এমন কি আমরা যখন আত্মীয় বাড়ীতে বেড়াতে কিংবা বন্ধুদের সাথে খেলা করতে যেতাম তখন আমাদের মা বাবা ধর্মীয় অমীয় বাণীগুলো স্মরন করিয়ে দিতেন। এক সময় আমরা দেখেছি বয়বৃদ্ধ থাকুক দুরের কথা ছোট শিশুদেরকে দিয়ে চাপের মূখেও মিথ্যা বলানো যেতনা।

অত্যান্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়, বর্তমানে আমরা এমন পর্যয়ে পৌছেছি, সকালে ঘর থেকে বেড় হওয়ার আগেই মনে মনে ভেবে নেই কখন কেথায় কার সাথে মিথ্যা বলে আয় রুজীর প্রয়োজন সাময়ীক নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি এবং নীচক ব্যক্তিগত সুবিধার্থে মিথ্যাকে বাহন হিসাবে ব্যবহার করা যায় সেই প্রতিজ্ঞা নিয়ে।

আসল কথায় আসা যাক, আমরা বাঙ্গালী বাংলা আমাদের ভাষা আমরা স্বাধীন বাংলা দেশের নাগরিক। আমাদের একটা লাল সবুজ পতাকা আছে। আমাদের একটি জাতীয় সংসদ ও একটি সরকার এবং একটি জাতীয় সংগীত আছে। এমন কী ৫৬ হাজার বর্গমাইলের একটি দেশ আছে। কিভাবে আমরা এত সব অর্জন করলাম।

১৯৪৭ সালের ১৪ ই আগষ্ট বৃটিশ ও ভারতের কাছ থেকে ভাগ হওয়ার পর আমরা ভেবে ছিলাম পাকিস্তান নামে মুসলীম অধ্যুষীত কিছু অঞ্চল নিয়ে, ধর্মীয় অনুশাসনের উপর ভিক্তি করে সুখের আসায়, শান্তির আশায়, বুক ভরা আশা নিয়ে বসবাস করব। যদিও বারশত মাইল ফাঁক ও দূরত্ব রেখে দুইটি অংশে বিভক্ত জায়গা নিয়ে দ্বি-ভাষী স্বজাতী মুসলমান নিজেরা নিজেদের শাসন করব। শোষন থাকবেনা, বঞ্চনা থাকবেনা, নির্যাতন ও বিভাজন কিংবা উৎপাদিত পন্যের সুস্মম বন্টনের মাধ্যমে আমাদের পাকিস্তান রাষ্ট্রেটি পারিচালিত হবে। এই আত্ম বিশ্বাস টুকু আমাদের বঙ্গালী ও বঙ্গালী মুসলমানদের ছিল।

আমরা কি ৪৭ সালের ১৪ই আগষ্ট থেকে ৫২ সলের ২১শে ফেব্রুয়ারী মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ৫৫ ভাগ বঙ্গালীর মূখের ভাষা, মায়ের ভাষা নিয়ে শুরু হল ষড়যন্ত্র। এরপর ৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন ‘৬৬ সালে ছাত্র আন্দোলন,’ ‘৬৮ ও ৬৯ সালে অসহ যোগ ও গনআন্দোলন ’ ৭০ এর নির্বাচন। সর্বপরি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বধীনতা সংগ্রাম, এই সব কিছুতেই নীপিড়িত বিশ্বের নেতা, বাংঙ্গালী জাতীয় অবিসংবাদিত নেতা, দীর্ঘ সময় কারাবরন কারী নেতা, বাঙ্গালী জাতীয় মুক্তির অগ্রদূত হাজার হাজার নিষ্ঠাবান সহকর্মীর আত্মবিশ্বাস ও স্পন্দন একচ্ছত্র নেতৃত্বের অধিকারী একমাত্র জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। এর মাঝে কোন দ্বিধা, দন্ধ হিংসা বিদ্বেষ বা সংকোচ নেই বা থাকতে পারেনা ।

৭ই মার্চ ১৯৭১ সালে রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ সর্বস্তরের জনতার মহুর্মূহ স্লোগান ও করতালীর মাধ্যমে স্বধীনত ও মুক্তির যেই দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। জাতী গোষ্ঠী বর্ণ নির্বিশেষে এমন কি আন্তর্জকতিীক ভাবে স্বীকৃত ইহাই হলো বাঙ্গালী জাতীর মুক্তির সনদ।

আরও কথা থেকে যায় বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তারই দিয়ে যাওয়া নির্দেশনার উপর ভিত্তি করে স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধ যার যা মতো করে, সে যেই অবস্থানে ছিলেন সেই অবস্থান থেকে জীবন বাজী রেখে দায়িত্ব নিয়ে চালিয়ে গেছেন । ২৬ শে মার্চ চট্টগ্রাম কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তার দেওয়া স্বধীনতার ঘোষনা পত্র মেজর জিয়াউর রহমান পূনঃ প্রচারের মাধ্যমে জাতীকে ইস্পাত কঠিন ঐক্যবদ্ধ থাকা ও মনোবলকে শক্তিশালি করেছেন। এমন কি তিনি সেক্টর কমান্ডারও ছিলেন। এই কথাটি উজ্জল সূর্যের ন্যায় সত্য।

জেনারেল এম,এ, জি ওসমানী স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ কালীন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক থাকা সত্বেও তাকে অবর্তমানে রেখে মিত্র বাহিনী ও ভারতীয় সেনা প্রধান জেনারেল অরোরার নিকট পাক হানাদার বাহিনীর আত্ম সমর্ম্পন নিয়ে হাজার ও দ্বিধাদন্ধ ও প্রশ্ন থাকা সত্বেও জেনারেল ওসমানী মুক্তিযুুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এটাও ধ্রুব সত্য।

এইছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মেজর এম, এ জলিল, লেঃ কর্নেল আবুতাহের ও কে এম শফিউল্লাহ এবং বিঃ খালেদ মোসারেফসহ বাংলাকে এগারটি সেক্টরে ভাগ করে বাঙ্গালী সেনা অফিসার ও সেক্টর কমান্ডার বৃন্ধ জীবন বাজী রেখে দায়িত্ব পালন করেন। এ কথাটিও সত্য।

জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে যে যেই অবস্থানে থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করতে গিয়ে হাজার হাজার নেতা কর্মী জীবন বাজী রেখে স্বধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিয়েছেন ও ত্বরান্বিত করেছেন। একথাটিও সত্য। আমার পরিস্কার কথা হলো, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে যে যেই অবস্থান থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। তাদের প্রত্যেকেই ইতিহাসের অন্তর্ভূক্ত করে নেওয়া একান্ত বাঞ্চনীয়। ঐ সময়কার কোন অবদানই ছোট করে দেখা যাবেনা। অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে। নীচক দলীয় হিংসা পরিহার করে জাতীর সামনে প্রমান করতে হবে আমরা সত্যকে সত্য বলেছি আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলেছি। আসুন আমরা দেশ জাতীর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে সত্যকে সত্য বলি- মিথ্যাকে পরিহার করি সাঠিক ইতিহাস গড়ি।

গত ১৮.০৮.২০১৬ ইং তারখে “ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও জঙ্গি উথান” ও গত ২৯.০৮.২০১৬ ইং তারিখে “দলমতের উর্দ্বে উঠে এখন জনতার ঐক্য প্রয়োজন ” শির্ষক আমার আরো দুটি লেখা pnsnews24.com’এ প্রকাশিত হয়েছে। লেখা দুটি জানিনা সম্প্রতি জঙ্গি দমনে সরকার, দেশ ও জাতীয় পর্যায়ে কতটুকু সহায়ক ও গুরুত্ব পেয়েছে। সম্মানিত পাঠক বর্গ যদি জাতীয় দুর্যোগ ক্রান্তি লগ্নে প্রয়োজন বোধ কঠে থাকেন। তাহা হইলে আমি অতিব নগন্য লেখক হিসাবে আমার লেখার স্বর্থকতা খুজে পাব এবং ভবিষ্যৎ লেখার উৎসাহও উদ্দিপনা সৃষ্টি হবে।

লেখকঃ রাজনীতবিদ ও সমাজসেবক, সহ-সভাপতি কচুয়া কল্যাণ সংঘ, ঢাকা । সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ আন্তঃ বিঃ বিঃ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, সাবেক চাঁদপুর জেলা পরিষদে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচিত সদস্য এবং জাতীয় পার্টির নেতা।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech