ডিফেন্ডারদের ভুল আর নেইমারের অভাবেই হারলো বার্সা

  

পিএনএস ডেস্ক: উত্তেজনায় ঠাঁসা, দুর্দান্ত গোল, হলুদ কার্ডের ছড়াছড়ি, প্রশ্নবিদ্ধ লাল কার্ড, শেষ সময়ে গোল, সঙ্গে আত্মঘাতী গোল। কোনা কিছুই বাদ যায়নি গতকালের এল ক্লাসিকোয়। আর রোমাঞ্চের সেই ম্যাচ শেষে ৩-১ গোলের জয়ী দলটির নাম রিয়াল মাদ্রিদ।

ম্যাচে নায়ক, খলনায়ক, আলোচনার পুরোটাজুড়েই থাকলেন রোনালদো। সঙ্গে লাল কার্ডের ধাক্কায় নিজেদের সেরা খেলোয়াড়টিকে পরের লেগে না পাওয়ার আক্ষেপও জুটেছে রিয়ালের। মাঝখানে বার্সেলোনা পুড়েছে ডিফেন্ডারদের হাস্যকর ভুল এবং আক্রমণভাগে নেইমারের অভাবে।

দুই হলুদ কার্ডের জেরে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বুধবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বার্সার থেকে ২ গোলে এগিয়ে নামলেও রোনালদোকে পাবে না রিয়াল।

রোনালদোর লাল কার্ডটি নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হতে পারে। পাল্টা আক্রমণে দুর্দান্ত এক গোল করার পর আনন্দের বাড়াবাড়ি প্রকাশে জার্সি খুলে ফেলেন সিআর সেভেন। জোটে হলুদ কার্ড।তার দুই মিনিট পরই স্যামুয়েল উমতিতির সঙ্গে ধাক্কা কাণ্ডে রোনালদো পড়ে যান বার্সার পেনাল্টি বক্সে। পেনাল্টির আবেদন করে উল্টো ডাইভ-নাটকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে সোজা মাঠের বাইরে।

পরে দেখা গেছে উমতিতির সঙ্গে লাগা ধাক্কাটির পর রোনালদোর অভিনয় কার্ড-অপরাধের মত অতটা ইচ্ছেকৃত ছিল না। কিন্তু ততক্ষণে যা ক্ষতির হয়ে গেছে। তবে লাল কার্ডের পর রেফারিকে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে আরও বড় শাস্তির পথই খুলে মাঠ ছেড়েছেন ক্রিস্টিয়ানো।

এদিকে, নেইমারের অভাবটা এদিন ভালোই টের পেয়েছে বার্সা। গত কয়েক ক্লাসিকোর সবচেয়ে ধারাবাহিক খেলোয়াড়টির অভাবে মেসি-সুয়ারেজরা বারবার আটকে গেছেন রিয়ালের রক্ষণ-দুর্গে। স্বাগতিকদের বলার মত শট কেবল ২৫ মিনিটে মেসির দারুণ একটি ফ্রি-কিক। ২৫ গজ দূর থেকে নেয়া তার সেই কিক অল্পের জন্য লক্ষ্য খুঁজে পায়নি।

অন্যপ্রান্তে অতিথিরা বলের তেমন দখল না পেলেও পাল্টা-আক্রমণে ঠিকই কাঁপিয়ে দিয়েছে বার্সা রক্ষণকে। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে গ্যারেথ বেলের বাঁ-পায়ের জোড়াল কিক বার্সা গোলরক্ষক টের স্টেগেন ফিরিয়ে দিলে বিপদ বাড়েনি স্বাগতিকদের।

শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে দুদলের জালই অক্ষত থাকে। কিন্তু হলুদ কার্ড মেলে অনেক। কাসেমিরো, বেল, কারভাহাল রিয়ালের পক্ষে; বার্সার হয়ে মেসি ও পিকে হলুদ কার্ড ডেকে আনেন।

মধ্যবিরতি থেকে ফিরে ম্যাচ জমার আভাস মেলে। কিন্তু এসময় কাজের অকাজটি করে বসেন জেরার্ড পিকে। বার্সা ডিফেন্ডারের পা ছুঁয়ে ৫০ মিনিটে এসেছে ম্যাচের প্রথম গোল। তবে প্রতিপক্ষের জালে নয়, মার্সেলোর শটে বিপদমুক্ত করতে যেয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন পিকে। সেটিই রিয়াল খেলোয়াড়দের গোল উদযাপন করার প্রথম উপলক্ষ এনে দেয়।

গোল খেয়েই হুঁশ ফেরে স্বাগতিকদের। সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে রিয়ালের রক্ষণে হামলে পড়েন মেসি-সুয়ারেজরা। ৬৫ থেকে ৭৪ মিনিটের মধ্যে সুয়ারেজের তিনটি দারুণ আক্রমণ রুখে দেন লস ব্লাঙ্কোস গোলরক্ষক কেইলর নাভাস।

আবার এর মাঝেই ৫৫ মিনিটে বেনজেমার ক্রসে কারভাহালের শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে জর্ডি আলবাও হয়ে ওঠেন বার্সার ত্রাতা। ৭১ মিনিটে মার্সেলোর শট ঠেকিয়ে বিপদ এড়ান টের স্টেগেন।

পরে ৭৬ মিনিটে নাভাসই হয়েছেন রিয়ালের খলনায়ক। নিজেদের বক্সে সুয়ারেজকে ফেলে দিয়ে বার্সাকে পেনাল্টি উপহার দেন এই কোস্টারিকান গোলরক্ষক। যদিও প্রশ্ন উঠছে রেফারির এই সিদ্ধান্তটি নিয়েও। তবে সুযোগটা কাজে লাগিয়ে মৌসুমের গোলের হালখাতা খুলেছেন লিওনেল মেসি।

কিন্তু, ৮০ মিনিটে পাল্টা-আক্রমণে ইসকোর বাড়ানো বলে খোঁচা মেরে বার্সার জালে জড়িয়ে দেন পর্তুগীজ তারকা। সঙ্গে আবেগের বশে জার্সি খুলে প্রথম হলুদ কার্ড, একটুপর আরেক কার্ডে মাঠ ছাড়া।

শেষের সময়গুলোতে প্রতিপক্ষের দশজনের বিপক্ষেও পেরে ওঠেনি বার্সা। উল্টো ম্যাচের ৯০ মিনিটে বাঁ-পায়ের জোড়াল শটে বার্সা গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন মার্কো আসেনসিও।

পরের লেগে বুধবার রাতে নিজেদের মাঠে পরিষ্কার ২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে নামবে রিয়াল।



পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech