মানিকগঞ্জে রাজা বাবু ষাঁড়ের ওজন দেড় টন!

  

পিএনএস, মানিকগঞ্জ:মানিকগঞ্জের দেড় টন ওজনের ষাঁড় গরু লালন করে তাক লাগিয়েছেন জেলার সাটুরিয়া উপজেলার দেলুয়া গ্রামের পরিস্কার বিবি ও তার স্কুল পড়ুয়া কন্যা ইতি আক্তার। প্রতি বছরই তারা কোরবানীর ঈদ কে সামনে রেখে গরু মোটা তাজা করণ করে লাভবান হয়ে আসছে।

ফিজিয়ান জাতের ষাঁড়টিকে সম্পূর্ন প্রাকৃতিক খাবার খাওয়িয়ে বড় করেছেন মা- মেয়ে। আদর করে নাম দিয়েছেন “রাজা বাবু”। রাজা বাবুর ওজন রোববার ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ১৫৬৬ কেজি যা দেড় টনের ও বেশী । যা উৎসুক মানুষ একনজরে দেখার জন্য দূর দুরান্ত গ্রাম থেকে ভির করছে এ ষাঁড় গরুটিকে।

সাটুরিয়া উপজেলার দিঘুলিয়া ইউনিয়নের দেলুয়া গ্রামের পরিস্কার বিবি ও তার স্কুল পড়ুয়া ইতি আক্তার গরু লালন পালন করেই যাদের সংসার চলে। গেল বছর কোরবানী ঈদের সময় ২৭ মন ওজনের একটি ষাঁড় ১০ লাখ টাকা বিক্রি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। অবশ্য ১০-১২ বছর আগে থেকেই পরিস্কার বিবি ও তার স্বামী খান্নু মিয়া গরু লালনপালন করতেন।

কিছুক্ষণ তার কন্যা ইতি আক্তার দেশীয় পদ্ধদিতে গরু মোটা তাজা করন করা শুরু করেন। আর ১ম বছরেই লাভবান হওয়ায় এ বছর তিনি আরও বড় আকৃতির গরু মোটাতাজকরন শুরু করে।

গেল বছরে গরু বিক্রি করা টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করেন, বাকী টাকা দিয়ে এক বছর আগে ঢাকার কেরানিগঞ্জ থেকে ২ বছর বয়সী ফিজিয়ান একটি ষাঁড় গরু কিনে আনেন ঘরে। সেই থেকে শুরু। ইতি তার মা সাদা ও কাল রংয়ের ষাঁড়টির যত্ম নেওয়া শুরু করেন।

ষাঁড়টির নাম দেন রাজা বাবু। রাজা বাবু বল্লেই তাদের ডাকে সারা দেয় ষাঁড়টি। প্রতিদিন খাবার খাওয়ানো শুরু করেন মিষ্টি লাউ, দেশি লাউ, সবরি ও বিচি কলা, ছোলা, বোট, কুড়া, ভূষি, খর ও কাঁচা ঘাষ। মাঝে মধ্যে আংগুর, মালটা ও তেুতল খাওয়ানো বাদ যায় না।

এ ব্যাপারে ইতি আক্তার জানান, কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে এ রাজা বাবু কে লালন করেছি। রাজা বাবু মাঝে মাঝে রেগে যান, তখন ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দিয়ে সবরি কলা সমানে ধরলেই সব ঠিক হয়ে যায়। তাছাড়ও এ ষাঁড়টি খুব ঠান্ডা প্রকৃতির।

ইতি আরো বলেন, রাজা বাবুকে দিনে ২ বার ১৪ টি সেম্পু ও ৬ কন্ডিশনার সেম্পু দিয়ে গোষল করাই। ৭ ফিট ৩ ইঞ্চি লম্বায়, ভের ৯ফিট ১ ইঞ্চির এ ষাঁড়টির দাঁত আছে ৪ টি। বর্তমানে ওজন ১৫৬৬ কেজি (৩৯ মন) হলেও ঈদের আগে আরও ওজন বাড়বে ।

পরিস্কার বিবি বলেন, আমাদের রাজা বাবু ষাঁড়টি কে সম্পূর্ণ দেশী খাবার খাওয়ানো হয়। ওর পিছনে ৩ জন মানুষ সারা বছর সময় দিয়েছি। ২ টি সেলিং ফ্যান লাগানো হয় ওর মাথার ওপরে। বিদ্যুৎ চলে গেলেই বড় পাখা দিয়ে সারাক্ষণ বাতাস করি। ওর ব্যায়াম করার জন্য দিনে ২০-২৫ বার বিভিন্ন স্থানে বেধে রাখি।

সরেজমিনে রোববার বিকালে পরিস্কার বিবির বাড়িতে গেলে দেখা যায়, উপজেলা ছাড়াও আশে পাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ছোট বড় মানুষ এক নজরে রাজা বাবু কে দেখার জন্য ভির করছে । কথা হয় টাঙ্গাইল জেলার পাকুটিয়া গ্রামের মান্নান মিয়ার সাথে, তিনি জানান ইচ্ছে থাকলে এক বছরে এক গরুই মোটাতাজা করণ করে অনেক লাভবান হওয়া যায় তা স্বচক্ষে দেখার জন্য আসছি এ বাড়িতে।

এ ব্যাপারে পরিস্কার বিবির স্বামী খান্নু মিয়া জানান, আমি গ্রামের মহাজনদের নিকট থেকে সুদ করে টাকা এনে এ ষাঁড়টি কে বড় করেছি। প্রতিদিন ১০০০-১২০০ টাকার ২৫ কেজি পরিমাণ খাবার খাচ্ছে ৭-৮ মাস ধরে। সরকারীভাবে সহজ শর্তে ঋণ পেলে আর বড় পরিসরে গরু মোটাতাজা করণ করতাম।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. খুরশেদ আলম বলেন, ঈদ কে সামনে রেখে সাটুরিয়া উপজেলায় ৭ হাজার গরু মোটাতাজা করন করা হয়েছে। তার মধ্যে ইতি ও পরিস্কার বিবির লালিত এ ষাঁড় গরুর ওজন আমি নিজে মেপেছি। রবিবার পর্যন্ত ওর ওজন ১৫৬৬ কেজি, যা ৩৯ মন ও দেড় টনেরও বেশী। আমরা নিয়মিত এ গরুটির দেখভাল করেছি। ঈদের পরে এ পরিবারকে সহজ শর্তে সরকারি কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ সহায়তা দেবার জন্য আমার ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করব।

এ ব্যাপারে গরুর বেপারী শাহানুর জানান, এমন বড় ও ওজনের আকৃতি গরু সাধারণত ওজন দেখে বিক্রি হয় না। শখ করে বড় বড় কম্পানিই এমন গরু কিনে থাকেন। পরিস্কার বিবি ও ইতির এ গরুটি বাজার ভাল থাকলে ও কম্পানির চোখে পড়লে ১৫-১৭ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবে।

তবে ইতি আক্তার ও পরিস্কার বিবির তার শখের ফিজিয়ান জাতের ষাঁড় রাজা বাবু কে গতবারের লক্ষীসোনার মতো সঠিক সময়ে উপযুক্ত দাম পাবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সবাই।


পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech