চট্ট. আবাহনীর কাছে ঢাকা আবাহনীর জয়

  

পিএনএস ডেস্ক: হঠাৎ জমে উঠলো পেশাদার লিগ। ১১ রাউন্ডে চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে লিগ জমিয়ে তুললো ঢাকা আবাহনী। শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই আবাহনীর লড়াইয়ে ঢাকা আবাহনী জিতেছে ১-০ গোলে। গোলশুন্য প্রথমার্ধের পর ৭৭ মিনিটে নাসির আবাহনীর জয়সূচক গোলটি করেন।

এ ম্যাচের আগে খুব বেশী না হলেও নিকট প্রতিদ্বন্দ্বি শেখ জামাল ও ঢাকা আবাহনীর চেয়ে খানিকটা পথ এগিয়েই ছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। ১০ নম্বর রাউন্ড শেষে শেখ জামাল ও ঢাকা আবাহনীর সাথে বন্দর নগরীর আকাশী হলুদ জার্সির পয়েন্ট ব্যবধান ছিল পাঁচ।

শুধু নিকট প্রতিদ্বন্দ্বিদের চেয়ে নিরাপদ দূরত্বে এগিয়ে থাকাই নয়, এ ম্যাচের আগে পর্যন্ত লিগে একমাত্র অপরাজিত দলও ছিল সাইফুল বারী টিটোর শিষ্যরা। কিন্তু শুক্রবার সে অপরাজিত থাকার কৃতিত্বটা ঢাকা পড়লো। পাশাপাশি নিকট প্রতিদ্বন্দ্বিদের সাথে পয়েন্ট ব্যবধানও গেল কমে। এ ম্যাচের আগে ১০ খেলায় চট্টগ্রাম আবাহনীর পয়েন্ট ছিল ২৬।

আর সমান খেলায় শেখ জামাল ও ঢাকা আবাহনীর সংগহ ছিল সমান ২১ পয়েন্ট করে। এখন এই দুই দলের সাথে চট্টগ্রাম আবাহনীর পয়েন্ট পার্থক্য দাড়ালো দুই। ১১ খেলা শেষে চট্টলা আবাহনীর ২৬ পয়েন্টই স্থির থাকলো। আর ঢাকা আবাহনী ও শেখ জামালের পয়েন্ট দাঁড়ালো ২৪ করে। ফরাশগঞ্জকে হারানোয় গোল ব্যবধানে ঢাকা আবাহনীর ওপরে দ্বিতীয় স্থানে শেখ জামাল।

একে তো সাপ্তাহিক ছুটি। তারওপর পাশেই মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপে ভারতের সাথে স্বাগতিক বাংলাদেশের খেলা। এর মধ্যে পেশাদার লিগের গুরুত্বপূর্ন ম্যাচে মুখোমুখি ঢাকা ও চট্টগ্রাম আবাহনী। দর্শক হবেতো ? এমন সংশয় ছিল।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দুই আবাহনীর খেলা দেখতে ঠিক মাঠে এসেছিলেন হাজার দুয়েক ফুটবল প্রেমী। তারা হতাশ হননি। খেলায় গতি ছিল। চট্টগ্রাম আবাহনীও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় খুব পিছিয়ে ছিল না। তবে ঢাকা আবাহনীর গতি ও আক্রমনের তেজ বেশী ছিল। গোল করার সুযোগও পেয়েছে ঢাকা আবাহনী বেশী।

তবে ঢাকা আবাহনীর পথে বাঁধা হয়ে দাড়ান চট্টগ্রাম আবাহনী গোলকিপার রানা। এক রুবেল মিয়ারই গোটা তিনেক গোলের প্রচেষ্টা নস্যাত করে দেন রানা। প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার চমৎকার সুযোগ পায় ঢাকা আবাহনী।

ডান দিক থেকে রুবেল মিয়ার ক্রসে নাবীব নেওয়াজ জীবনের হেড প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বেরিয়ে যায়। এরপর ওয়ালী ফয়সালের কর্নারে ছোট ডির ভেতর থেকে নাসিরউদ্দিন চৌধূরীর নেওয়া হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।

৬০তম মিনিটে গোলের দারুন সুযোগ নষ্ট হয় ঢাকা আবাহনীর। ডান দিক থেকে রুবেলের ক্রস গোলরক্ষক ফিস্ট করে ফেরানোর পর ছোট ডি বক্সের একটু বাইরে পেয়ে যান জীবন। ক্রসবার উচিঁয়ে মারেন এই ফরোয়ার্ড। একটু পর ইমন মাহমুদের বাঁকানো কর্নার ফিরিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর ত্রাতা গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা।

কিন্তু ৭৭ মিনিটে আর নিজের গোলপোষ্ট অক্ষত রাখতে পারলেন না রানা। রায়হানের লম্বা থ্রো ‘তে নাসিরের হেড রানাকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায় জালে। এক গোলে এগিয়ে যাবার পর শেষ ১২ /১৩ মিনিটে গোল ব্যবধান বাড়ানোর আরও দুটি নিশ্চিত সুযোগ হারায় ঢাকা আবাহনী। দুটিই রুবেল মিয়ার।

প্রথমে রুবেল মিয়া ওয়ান টু ওয়ানে চট্টগ্রাম আবাহনীর গোল রক্ষক রানাকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। তার শট রানা ফিরিয়ে দেন। পাঁচ মিনিটের ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে রুবেল মিয়ার আরও একটি একক প্রচেষ্টা দারুণ কৃতিত্বের সাথে রুখে দেন চট্টগ্রাম আবাহনী গোলকিপার রানা। একক প্রচেষ্টায় প্রায় ২০ গজ দৌড়ে বক্সে ঢুকে রুবেলে যে কড়া জোড়ালো শট নেন, তা রানার বুকে লেগে প্রতিহত হয়।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech