ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি বাংলাদেশ?

  

পিএনএস ডেস্ক: টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর তবু একটা সান্ত্বনা ছিল—ওয়ানডে সিরিজ আছে না! কিন্তু প্রথম ওয়ানডেতে ১০ উইকেটে হার। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে যেন রীতিমতো বিধ্বস্ত টাইগাররা।

এমন পরিস্থিতির পর আজ কী ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বাংলাদেশ?

খেলা দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানীয় শহর কেপটাউন থেকে এক ঘণ্টার দূরত্ব পার্লে। বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি ‘ডু অর ডাই’। কিন্তু ক্রিকেটাররা কি সত্যিই ‘ডু অর ডাই’ মনে করছেন! পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এখন ভালো খেলতে পারাটাই বড় কথা। জয়-পরাজয় নিয়ে ভাবার সময় কোথায়!

এই সফর বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের কংকাল বেরিয়ে এসেছে। কিংবদন্তি কোর্টনি ওয়ালশকে বোলিং কোচের দায়িত্ব দেওয়ার পর কোথায় পেসারদের উন্নতি হবে—তা না দিন দিন আরও খারাপ করছেন পেসাররা। বছর খানেক আগেও বাংলাদেশ দলে এই একই পেসাররা খেলেছেন। মাশরাফি, তাসকিন, রুবেলদেরকে মনে হতো এক একজন ব্যাটসম্যানদের জন্য ত্রাস! কিন্তু সেই বোলাররাই দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে খাবি খাচ্ছে। বাংলাদেশের দেওয়া ২৭৯ রানের টার্গেট দক্ষিণ আফ্রিকা পেরিয়ে গেল কোনো উইকেট না হারিয়েই। বাংলাদেশের স্পিনারদের নিয়ে গর্ব ছিল! কিন্তু সেই স্পিনাররাও দক্ষিণ আফ্রিকায় পাত্তা পাচ্ছেন না।

যেখানে প্রোটিয়া স্পিনার ইমরান তাহির বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ওপর ভয়াবহ রকম চাপ তৈরি করে সেখানে বাংলাদেশের স্পিনাররা লাইন খুঁজে পায় না। ব্যাটসম্যানদের অবস্থা যাচ্ছেতাই। গত ম্যাচে এক মুশফিকুর রহিম ছাড়া বাকিদের ব্যাটিং প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য ছিল না। সবাই কেমন যেন উইকেটে সেট হওয়ার পর আউট হয়ে চলে গেছেন। অথচ ক্রিকেটে একজন সেট ব্যাটসম্যানের ভূমিকা অনেক। যখন উইকেটে কেউ সেট হয়ে যান তার ওপর দায়িত্ব থাকে ইনিংসটাকে বড় করার। যে কাজটি দারুণভাবে করেছেন মুশফিকুর রহিম। নিজের ক্লাস আরেকবার বুঝিয়ে দিয়েছেন এই তারকা ব্যাটসম্যান। তার অপরাজিত সেঞ্চুরিটি তাই প্রশংসার দাবি রাখে।

কিম্বার্লির উইকেটের মতো পার্লের উইকেটও ধীর গতির। চার বছর আগে শেষ ওয়ানডে হয়েছিল এই বোল্যান্ড পার্ক স্টেডিয়ামে। এই মাঠে প্রথমে ব্যাটিং দলের রানের গড় ২৫৮। তবে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা একবার করে তিন শতাধিক রানের স্কোরও করেছিল।

কিম্বার্লির মতো এখানকার উইকেটও ‘ব্যাটিং স্বর্গ’। তাই বাংলাদেশের বোলিং লাইন আপের জন্য অপেক্ষা করছে আরেকটি পরীক্ষা। কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান না থাকায় টাইগারদের বোলিং লাইন আপ আরও দুর্বল হয়ে গেছে। তবে শক্তিমত্তা বেড়ে গেছে ব্যাটিং লাইন আপে। ইনজুরি থেকে ফিরেছেন ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবাল।

চোটের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে পারেননি তামিম। প্রথম ওয়ানডেও একাদশে ছিলেন না। যদি তামিমের প্রথম ওয়ানডে না খেলা নিয়ে অন্যরকম গুঞ্জন রয়েছে! কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে নাকি এই তারকা ওপেনার খেলেননি। তামিমও স্বীকার করেছেন তিনি খেলতে চেয়েছিলেন। তবে ফিজিওর বাধার কারণে খেলতে পারেননি। ফিজিও নাকি বলেছেন, তামিমকে খেলানোটা ঝুঁকি হয়ে যায়। তবে এই ম্যাচে খেলছেন এই তারকা ওপেনার। তামিম ফেরায় অন্য ব্যাটসম্যানদেরও যে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে তা নিয়ে সংশয় থাকার কথা নয়।

বোলাররা তাদের কাজটা সঠিকভাবে করতে পারবেন? এই মুহূর্তে এই প্রশ্নর উত্তর কারও জানা নেই! প্রথম ওয়ানডেতে বোলার যা দেখিয়েছেন! রুবেল-তাসকিনের মতো অভিজ্ঞ বোলাররা লাইন খুঁজে পাননি। এমন বোলিং করলে তো সাড়ে তিনশ রান করলেও জেতা কঠিন। বাংলাদেশ দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর কণ্ঠেও তাই হতাশার সুর, ‘বোলারদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অনুশীলন কম করা, ম্যাচ কম খেলা। সে জন্য ওরা জানেই না কোথায় বল খেলতে হবে। ম্যাচ প্রাকটিসের জন্য বোলারদের আরও বেশি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে হবে। এর বিকল্প নেই। ’ দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিরুদ্ধে তাদের মাটিতে জয় পেতে হলে ব্যাটসম্যানদের পাশাপাশি বোলারদেরও সেরাটা দিতে। পারফরম্যান্সে সমন্বয় না থাকলে ভালো ফল আশা করা কঠিন।


পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech