ঢাকা 'গ্যাম্বলিং' করে জিতেছে!

  

পিএনএস ডেস্ক: শেষ ওভারে কার্লোস ব্রাথওয়েটের হাতে বল তুলে দিলেন খুলনা টাইটান্সের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জয় থেকে তখনও ছয় রান দূরে ঢাকা ডায়নামাইটস। স্ট্রাইকে ছিলেন ব্যাটিং ধ্বসের পর ঢাকার রানের চাকা সচল রাখা জহুরুল ইসলাম অমি। প্রথম চার বল থেকে মাত্র দুই রান নিয়ে পারেন অমি ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ম্যাচ হেলে যায় খুলনার দিকে। সেখান থেকে ম্যাচটা ঢাকা জিতেছে অমির ব্যাটে চড়ে। অমির ভাষ্যমতে গ্যাম্বলিং করে ঢাকাকে জিতিয়েছেন তিনি!

থার্ডম্যানকে ৩০ গজ বৃত্তের ভেতরে রেখেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তা নজর এড়ায়নি অমির। শেষ ওভারের পঞ্চম বলটা ছিল লো ফুলটস। দেখে শুনে অমি খেললেন দুর্দান্ত এক রিভার্স স্কুপ। রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ জিতে ঢাকা ওঠল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। এই শটকেই গ্যাম্বলিং বলেছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান অমি।

পাঁচ চারের মারে ৩৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলে অমি হয়েছেন ম্যাচ সেরা। সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত হয়ে জানালেন শেষ ওভারে সফল হওয়ার রহস্য, ‘ম্যাচটায় আমি দলকে বিপদে ফেলে দিয়েছিলাম। পরে চিন্তা করেছি, যেহেতু দুটি বলে ইয়র্কার করে সফল হয়েছে, আবারও ইয়র্কার করবে। আমি তাই গ্যাম্বলিংয়ের মত চিন্তা করলাম যে থার্ড ম্যান যেহেতু ওপরে, সেদিক দিয়ে উল্টো স্কুপ করব। আগে এটা কোনোদিন খেলিনি ম্যাচে। অনুশীলনে চেষ্টা করি। ম্যাচে এটিই প্রথম।’

অমি যখন মাঠে যান তখন ২৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ঢাকা। এক প্রান্ত দিয়ে কাইরন পোলার্ড ঝড় তুলেছিলেন। ছয়টি ছয় ও তিন চারের মারে ২৪ বলে ৫৫ রানের মারকুটে ইনিংস খেলেন ডানহাতি এই ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান। তার বিদায়ের পর দলকে একাই টানেন অমি। এমন একটা ম্যাচ জেতাতে পেরে বেজায় খুশি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে। আমদের যে ব্যাটিং লাইন আপ, এখানে সুযোগ পাওয়া খুবই কঠিন। স্থানীয়রা খুব একটা সুযোগই পায়নি আগে। কারণ বিদেশিদের শক্তির জায়গা বেশি, টি-টোয়েন্টিতে ওরা খুবই ভালো ব্যাটসম্যান। আজকে ১৫৫ রান তাড়ায় এত মারার দরকার ছিল না। একটু ধীরগতির শুরু হলেও আমাদের ব্যাটসম্যানদের যে সামর্থ্য, রানটা পরে পুষিয়ে নেওয়া যেত। আজকে প্রথমবার বড় চাপে পড়ে গিয়েছিলাম।’

ঢাকার টপ অর্ডারের চারজনই বিদেশি। কিন্তু দলকে জিতিয়ে ম্যাচসেরা একজন দেশি। এবার কি আগে ব্যাটিং করার সুযোগ মিলবে? জবাবে অমি বলেন, ‘বিদেশি আর স্থানীয় বলে কিছু নেই। এটি একটি দল। দলের কম্বিনেশনের জন্য যাকে আগে প্রয়োজন হয়, তকেই নামায়। এখন যেহেতু দল হয়ে গেছি, এভাবে ভাগ করা যাবে যে বিদেশি বা স্থানীয়। এমনও হতে পারে কোনোদিন আমাকে ওপেনিংয়ে নামাতে পারে,কোনও দিন তিনে। এটা টিমের পরিকল্পনা।’

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech