রাতে মাঠে নামছে বিশ্বকাপের 'কালো ঘোড়া' বেলজিয়াম

  

পিএনএস ডেস্ক : রাশিয়া বিশ্বকাপে যখন স্পেন, ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়নশিপের মূল দাবিদার ধরা হচ্ছে, তখন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বেলজিয়ামকে বাজির কালো ঘোড়া হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মস্কোয় পা রাখার পর ফিফা ফ্যান ফেস্টে দাঁড়িয়ে পর্তুগালের নাম একবারও করেননি ফ্রান্সের প্রাক্তন বিশ্বকাপার মার্সেল দেশাই।

বরং তিনি জোর গলায় বলেছিলেন, বেলজিয়ামের বর্তমান দলটার বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা প্রবল। এটাকে সোনার প্রজন্ম হিসেবে তুলে ধরছেন সবাই। ইডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইন, ভিনসেন্ট কোম্পানি, কোর্তোয়ার মতো প্রতিভাবান ও অভিজ্ঞ ফুটবলারে ভরা বেলজিয়াম এবার বিশ্বকাপের সেরা চমক হয়ে উঠলে আশ্চর্য হব না।

দেশাইয়ের মতো ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ধারণা বা বিশ্বাস কতটা ঠিক হয়, তা কিছুটা বোঝা যাবে পানামার বিরুদ্ধে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর মধ্যে দিয়ে। গত ব্রাজিল বিশ্বকাপে বা ফ্রান্স ইউরোতে একইরকম প্রত্যাশা ছিল রবার্তো মার্টিনেজের দল বেলজিয়ামের ওপর। তবে সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ বেলজিয়াম পারফরমেন্সের ধারবাহিকতা ও ম্যাচ জেতার মানসিকতা দেখাতে না পারায়।

এবার শেষপর্যন্ত বেলজিয়াম কী করবে এখনই বলা মুশকিল, তবে এটুকু বলা যায়, গোটা দলটাই বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগে প্রচণ্ড তেতে আছে। তারা চোকার্স বদমাম ঘোচাতে মরিয়া। ফুটবলাররা এতটাই তেতে আছেন যে, অনুশীলনে একে অপরকে এতটুকু আলগা মনোভাব দেখাচ্ছেন না। দু'দিন আগের ঘটনা। অনুশীলনে কেভিন ডি ব্রুইন এমন কড়া ট্যাকল করেন সতীর্থ আদনান জানুজাজকে, যা রীতিমতো বিসদৃশ্য ঠেকেছে।

আদনানের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যেতে পারত চোটের কারণে। তবু এমন একটা বিপজ্জনক ট্যাকলের পর ডি ব্রুইন ঘুরেও তাকাননি সতীর্থদের দিকে। খোঁজও নেননি চোটটা কতটা গুরুতর। এ নিয়ে শিবিরে দু'দিন ধরে চাপা টেনশন ছিল। সেটা অবশ্য মিটিয়ে দিয়েছেন আদনান নিজেই। এমনকী কোচ মার্টিনেজও বিষয়টা বড় করে দেখাননি।

আদনান বলেছেন, অনুশীলনে সকলেই এতটা সিরিয়াস যে এমন একটা ব্যাপার হয়েছে। তবে ও সব ভুলে পানামা ম্যাচে ফোকাস করছেন সকলে। রেড ডেভিলসের হয়ে ইতিমধ্যে ৭ ম্যাচ খেলেছেন আদনান জানুজা। তবে মজার কথা হল তার ইংল্যান্ডসহ সাত দেশের জার্সিতে খেলার সুযোগ ছিল।

ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার প্রস্তাবও পেয়েছিলেন। তবু কেন বেলজিয়ামকে তার পছন্দ? আদনান জানান, 'আমি জন্মেছি বেলজিয়ামে। এখানেই বড় হয়েছি। তাই এটাই আমার দল। যাকে নিয়ে বিতর্ক সেই ডি ব্রুইন এবার কোচ মার্টিনেজের তুরুপের তাস। গুয়ার্দিওলার কোচিংয়ে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির ইপিএল জেতার অন্যতম নায়ক ডি ব্রুইন। তার গোল খিদে ও পাসিং দক্ষতার প্রশংসায় মুখর সারা বিশ্ব। মেসি, রোনালদো, নেইমারদের সঙ্গে তার নামটাও এখন উচ্চারিত হচ্ছে। গুয়ার্দিওলার মতো বেলজিয়াম টিমেও মার্টিনেজ তাকে উইথড্রয়াল ফরোয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন।

কোচ মার্টিনেজের হাতে ডি ব্রুইন ছাড়াও অনেক তারকা। নাম ও জনপ্রিয়তায় যারা ৮৬'র দলকেও ছাপিয়ে যেতে পারেন মনে করা হচ্ছে। রক্ষণে ভার্তোহেন, অল্ডারওয়েরেল্ড, কোম্পানি। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে ডেমবেলে। উইংয়ে ইডেন হ্যাজার্ড, দ্রিস মের্তেন্স। স্ট্রাইকারে রোমেলু লুকাকু। সবচেয়ে বড় ভরসা গোলে দীর্ঘদেহী কোর্তোয়া।

এদের কীভাবে নিয়ন্ত্রণ ও ম্যাচে সেরাটা বের করে আনতে পারেন কোচ মার্টিনেজ, সেটাই দেখার। তবে পানামা ম্যাচের আগে বেলজিয়াম কোচকে নতুন করে দল গোছানোর কাজটা সারতে হচ্ছে। কারণ হ্যামস্ট্রিং চোটের জন্য তিনি কোনওমতেই টমাস ভারমায়েলেনকে পাচ্ছেন না। তাকে মস্কো থেকে সোচিতে নিয়েও যাননি মার্টিনেজ।

মস্কোতে ভারমায়েলেনের রিহ্যাব চলছে। ভিনসেন্ট কোম্পানিও চোট সারিয়ে পুরো ফিট নয়। তাই পানামার বিরুদ্ধে ম্যাচে তাকেও খেলানোর ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। এতদিন চোট পাওয়া দুই ফুটবলারের কথা মাথায় রেখে সিমানকে শিবিরে রেখেছিলেন বেলজিয়াম কোচ।

তবে দুই ফুটবলারকে পরের দুটো ম্যাচে ফিট অবস্থায় পাবেন এমন আশায় সিমানকে রাশিয়া থেকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছেন মার্টিনেজ। এতে সিমান এতটুকু ক্ষোভ প্রকাশ করেননি। বরং দলগত সংহতির চূড়ান্ত নিদর্শন দেখিয়ে সিমান বলেছেন, আগে দেশ, পরে ফুটবলার। বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের সাফল্য ছাড়া আর কিছু চাই না।

মার্টিনেজও মুগ্ধ সিমানের মনোভাবে। বলেছেন, কোনও কারণে দরকার পড়লে ওকে আবার উড়িয়ে আনব। প্রতিপক্ষে প্রথম বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া পানামা। তবু তাদের হালকাভাবে নিতে নারাজ কোচ মার্টিনেজ ও তার ফুটবলার।

বেলজিয়াম কোচ তো বলেই দিলেন, পানামা প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগাতে চাইবে। একটা ছাপ রাখার লক্ষ্যে সেরা দিতে মাঠে নামবে। আমাদের কাজটা সবসময় কঠিন। দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক। তবে প্র্যাকটিসে ফুটবলারদের মনোভাব ও পরিশ্রম করার ক্ষমতা দেখে খুশি। ওরা প্রত্যাশা পূরণে মরিয়া। আপাতত এটাই চাইব শুরুটা ভালো হোক।

বেলজিয়াম কোচ মার্টিনেজ আত্মবিশ্বাসী হতেই পারেন। কারণ গত দু'বছর ধরে তার কোচিংয়ে বেলজিয়াম ১৯ ম্যাচে অপরাজিত। এখন দেখার সোচির ফিসট স্টেডিয়ামে পানামাকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সেই রেকর্ডটা আরও কতটা মজবুত করতে পারে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech