দেশে ফিরলেন মদ্রিচরা

  

পিএনএস ডেস্ক :ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-৪ গোলে হার। প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও হাতছাড়া হয়েছে বিশ্বজয়ের মুকুট। তবু এতটুকু হতাশা নেই ক্রোয়াটদের। বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশকে নতুন উচ্চতায় তুলে ধরা ফুটবলারদের বীরের সম্মানে বরণ করে নিল ক্রোয়েশিয়া।

বিমান থেকে অবতরণ করা দিয়ে শুরু। এরপর হুড খোলা বাসে রাজপথে মদ্রিচদের অভিবাদন গ্রহণ, লক্ষাধিক ক্রোয়েশিয়ান উন্মত্ত চিৎকারে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে রাজধানী জাগ্রেবের আকাশ-বাতাস। ফুটবলাররাও সমর্থকদের কৃতজ্ঞতা জানাতে পিছপা হননি। সমর্থকদরে সঙ্গে হাসি-কান্না, নাচে-গানে একাত্ম হয়ে যান মানজুকিচ-রাকিটিচরা।

বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও মদ্রিচ-রকিতিচরা দেশে ফেরেন বীরের বেশে। পুরো দেশটাই যেন হয়ে পড়েছিল উৎসবের। জাগ্রেবে মদ্রিচদের স্বাগত জানাতে হাজির হয়েছিল যেন পুরো দেশের সমস্ত জনতা। ৪৫ লাখের দেশটির রাজধানী জাগ্রেব মদ্রিচদের ফেরার পর পরিণত হয়েছিল উৎসবের নগরীতে।

রোববার রাতে মস্কোর লুজিনিক স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই স্বপ্নভঙ্গ হয়ে ৪৫ লক্ষ ক্রোয়াটের; কিন্তু স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনার মধ্যেও ছিল অফুরন্ত আনন্দ। তাই ম্যাচ শেষ হতেই ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবে ক্রোয়াটদের চোখ অশ্রুতে ভরে গেলেও তা ছিল আনন্দাশ্রু। জেলাসিচ স্কোয়ারে পটকা-বাজি জালিয়ে উৎসবে মাতেন তারা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন না-হলেও দ্বিতীয় হওয়ার আনন্দে রাস্তায় নেমে উৎসব করেন ক্রোয়াটরা। দেশের জার্সি গায়ে বছর ২২-এর ক্রিস্টিজান স্টানিচ বলছিলেন, ‘আমাদের ছেলেরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে। দুর্দান্ত একটা ম্যাচ উপহার দিয়েছে আমাদের খেলোয়াড়রা। ওদের জন্য আমরা গর্বিত। ওরা সিংহের মতো লড়াই করেছে।’

ম্যাচ শেষ হতেই শহরের ভিন্ন জায়গায় পার্টি শুরু হয়। জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে গর্বিত এক সমর্থক অরোরা ক্রিনিচ চোখে অশ্রু নিয়ে বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় হয়েছি, এটাও দারুণ। আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য কষ্ট হচ্ছে। ওরা আমাদের গর্বিত করেছে। ওরা আমাদের চোখে হিরো।’

নক-আউটে টানা তিনবার পিছিয়ে থেকেও কামব্যাক! ফাইনালেও পিছিয়ে থেকে সমতা ফিরিয়েছিল দালিচের ছেলেরা। প্রথমার্ধে ২৮ মিনিটে পিছিয়ে থেকে পেরিসিচের দুরন্ত গোলে ম্যাচ ফিরেছিল ক্রোয়েশিয়া। দ্বিতীয়ার্ধেও ১-৪ পিছিয়ে থেকে ৬৯ মিনিটে ফ্রান্স গোলরক্ষক লরিসের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান কমিয়ে ২-৪ করেন মানজুকিচ। এরপর আর শেষ রক্ষা হয়নি। ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্নের দৌড় শেষ হয় ফাইনালে। রানার্স আপ হয়েই মাঠ ছাড়ে মদ্রিচ অ্যান্ড কোং। বৃষ্টিতে ঢাকা পড়ল রাকিটিচদের কান্না! ভাগ্যের কাছে হার মানতে হয় ক্রোয়াটদের। আত্মঘাতী গোল ও হ্যান্ডবলের খেসারত দিতে হল প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়াকে।

৬ গোলের থ্রিলার জিতে দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। শেষবার ১৯৯৮ সালে দেশের মাটিতে দেশমের নেতৃত্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফরাসিরা। ২০ বছর পর এবার কোচের হটসিটে বসে ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন করলেন দেশম। ২০১৬’র ইউরো হারের জ্বালা জুড়ায় সুপার কোচের। দ্বিতীয়ার্ধে ৬ মিনিটের ব্যবধানে একটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকেই ভিদা-সুভাসিচের ক্রোয়েশিয়াকে ঝাঁঝরা করে দেয় ফ্রান্স। ৫৯ মিনিটে গোল পোগবার। এরপর ৬৫ মিনিটে গোল তরুণ স্ট্রাইকার এমবাপের।

ক্রোয়েশিয়ার আত্মঘাতী গোল, পেরিসিচের দুরন্ত কামব্যাক আর গ্রিজম্যানের পেনাল্টি! লুজিনিকি’র প্রধমার্ধে নাটকের অভাব ছিল না। অ্যাড্রিনালিনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দিল এক একটা মুহূর্ত। বাদ পড়ল না ভিএআরও। ৩৮ মিনিটে ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলটিতে ভিএআরের হাত! সহকারী ভিডিও রেফারির সাহায্যে নিয়ে ফ্রান্সকে পেনাল্টি দেন আর্জেন্টাইন রেফারি।

দ্বিতীয়ার্ধে এরপর রোলার কোস্টার রাইড! প্রথমার্ধের চেয়ে উত্তেজনার পারদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল দুই ফাইনালিস্ট। পগবা-এমবাপের গোল যেমন আছে, ঠিক তেমনই সুপার কিপার লরিসের ভুলও ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে থাকবে। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ক্রোয়েশিয়ার মানজুকিচকে দিয়ে গোল করিয়ে দেন লরিস। হেড টু হেড লড়াই হল ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়ার।

বল পজিশনে ক্রোয়েশিয়ার চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে ফাইনাল জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল ফ্রান্স। ৯০ মিনিট ধরে দুরন্ত লড়াই করেও ট্র্যাজিক নায়ক হয়ে থেকে গেল ক্রোয়াটরা। ফাইনালে খলনায়ক বনে গেলেন সেমিফাইনালের নায়ক মানজুকিচ। তার আত্মঘাতী গোল নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়াল। ফাইনাল শেষে রাশিয়ার মাটিতে লুজনিকিতে উড়ল ফ্রান্সের পতাকা। চোখের কোণে জল নিয়ে বাকরুদ্ধ মদ্রিচ-মানজুকিচরা।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech