বৃষ্টির কাছে কুপোকাত ইংল্যান্ড আর আইসিসি!

  


পিএনএস ডেস্ক: বিশ্বকাপ নিয়ে খেলছে বৃষ্টি? তা বলাই যায়। অনেকে রসিকতা করে বলছেন, এবার বিশ্বকাপে টুর্নামেন্ট সেরা হবেন গ্রাউন্ডসম্যানরা! অবস্থা যেদিকে গড়াচ্ছে, সে ধরনের কিছু দেখা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে দুই সপ্তাহ হলো। এরই মধ্যে রেকর্ড গড়েছে বৃষ্টি। ১৯৭৫ থেকে ২০১৫ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মাত্র দুটি ম্যাচ যেখানে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল, সেখানে এই বিশ্বকাপেই ১৪ দিনে পরিত্যক্ত হয়েছে ৪ ম্যাচ। কাল ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচেই যে বৃষ্টির বাগড়ায় পণ্ড হওয়া শেষ ম্যাচ, তা কোনোভাবেই বলা যাচ্ছে না।

তিনটি ম্যাচে টস হয়নি আরেকটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয় খেলা চলাকালে। তাতে অবশ্য দর্শক কমেনি। সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহে ১০৭.২ মিলিয়ন দর্শকের ‘ইমপ্রেশনস’ ছিল। ইমপ্রেশনস—মানে কোনো টুর্নামেন্ট সম্প্রচারের যেকোনো সময় থেকে সেখানে দর্শকদের যোগ দেওয়া। তবে সংবাদমাধ্যম এটাও জানিয়েছে, এ বৃষ্টির জন্য বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো পণ্ড হওয়া নানা রকম সম্প্রচারক সংস্থাগুলো প্রচুর অর্থও হারিয়েছে। আর বিশ্বকাপে পছন্দের দলকে সমর্থন দিতে ইংল্যান্ডে উড়াল দেওয়া সমর্থকদের কথা না বলাই ভালো। তাঁদেরও ভোগান্তির শেষ নেই।

কিন্তু ভোগান্তির শেষ নয় এখানেই। বিশ্বকাপের বাকি সময়েও বৃষ্টির বাগড়া দেওয়ার শঙ্কাই বেশি। আর তাতে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বকাপের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, বাজে সূচি আর পরিকল্পনার অভাব নিয়ে। এর মধ্যে দুর্বল বৃষ্টি-ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনাই হচ্ছে বেশি। আইসিসি যতই বলুক ‘জুন ইংল্যান্ডের তৃতীয় শুষ্কতম মাস’, সেখানে এ সময় বৃষ্টি হবেই বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। আর তাই বৃষ্টিতে ম্যাচ বাঁচানোর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় তুমুল সমালোচনা হচ্ছে আয়োজনের দুর্বলতা নিয়ে।

ইংল্যান্ডে সবশেষ বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছে ১৯৯৯ সালে। সেবার সব ম্যাচেই ‘রিজার্ভ ডে’ ছিল। ইংল্যান্ড-ভারত ম্যাচটি নির্ধারিত দিনে বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও পরের দিন তা মাঠে গড়ায়। এবার কেন রিজার্ভ ডে নেই, সেই প্রশ্ন উঠলে তার জবাবে আইসিসি একপ্রকার ‘হাইকোর্ট দেখানো’র মতো বিবৃতি দিয়েছে। প্রতি ম্যাচের জন্য একটি করে রিজার্ভ ডে রাখা মানে স্বাভাবিকভাবেই সেই টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য অনেক বেড়ে যাওয়া। এতে ম্যাচ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনুষঙ্গের ব্যবস্থাপনা রীতিমতো দুঃসাধ্য হয়ে যায়, এসব কথাই বলেছে আইসিসি।

কিন্তু ১৯৯৯ বিশ্বকাপের উদাহরণ দিয়েই যুক্তিটি খণ্ডন করা যায়। সেবার টুর্নামেন্টে মোট ম্যাচসংখ্যা ছিল ৪২। এবার ফাইনালসহ মোট ম্যাচসংখ্যা ৪৮। মাত্র ৬ ম্যাচের পার্থক্য—অতিরিক্ত এই ছয় ম্যাচে রিজার্ভ ডে রাখার মতো সামর্থ্য গত ২০ বছরে আইসিসি তাহলে অর্জন করতে পারেনি?

পারেনি ইংল্যান্ডও। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ‘ক্রিকেটের জনক’দের মাঠ ব্যবস্থাপনা বলতে গেলে প্রাগৈতিহাসিক সময়ের! অংশ নেওয়া বাকি দেশগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে একটি তুলনাও টানা যায়। ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল হয়েছে জোহানেসবার্গে। সে ম্যাচে বৃষ্টি হানা দিলে দক্ষিণ আফ্রিকার এক সংবাদকর্মী জানিয়েছিলেন, যত বৃষ্টিই হোক না কেন, বৃষ্টি থামার আধঘণ্টার মধ্যে খেলা পুনরায় শুরু করার মতো ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা আছে জোহানেসবার্গে। শেষ পর্যন্ত কিন্তু তা–ই ঘটেছিল।

এমনকি ভারতের চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনাও অত্যাধুনিক। সেখানকার সাব-এয়ার সিস্টেম মাধ্যাকর্ষণের বলের ৩৭ গুণ বেশি গতিতে মাঠ থেকে পানি টানতে পারে। এ জন্য বৃষ্টিতে পুরো মাঠ না ঢাকলেও চলে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। এমনকি শ্রীলঙ্কাতেও কিন্তু বৃষ্টি নামলে মাঠ পুরোপুরি ঢেকে ফেলা হয়। সে তুলনায় ইংল্যান্ডের অনেক মাঠেই ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থা কিংবা সাব-এয়ার সিস্টেম নেই। বৃষ্টিতে তাদের মাঠ ব্যবস্থাপনা এখনো পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে!


পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech