হাসি-কান্নার কোপা আমেরিকা

  



পিএনএস ডেস্ক: একদিকে অঝোরে কাঁদছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি, অন্যদিকে উল্লাসে মাতোয়ারা চিলির ফুটবালররা- এমন অসংখ্য হাসি, কান্নার মিশেল, আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা সবই আছে এই টুর্নামেন্টে।

অন্তত বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য হলেও। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফুটবল মাঠের যে দ্বৈরথ, তা পৌঁছে যায় সহস্র মাইল দূরের বাংলাদেশের পাড়া-মহল্লা, হাঁট-বাজার কিংবা চায়ের দোকান নামের ছোট্ট টঙেও।

কখনও ব্রাজিলের সাম্বার ছন্দ অথবা কখনও আর্জেন্টিনার শৈল্পিক ফুটবল। এই দুটিকেই ছাড়িয়ে আবার কখনো উরুগুয়ের আধিপত্য অথবা চিলির শিরোপা জয়। সবই ঘটে এ টুর্নামেন্টে। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন এই আসরটি তাই থাকে ফুটবল দুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

অবিশ্বাস্য ফুটবল শৈলি দেখিয়ে যে ফুটবল ক্ষুদে জাদুকর প্রতিনিয়ত হৃদয় কাড়েন সমর্থকদের, সেই মেসির উপস্থিতি একটু বাড়তি দৃষ্টি রাখতেও বাধ্য করে এখানে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই আসরটির পর্দা উঠছে শনিবার।

এবারে কোপার স্বাগতিক দেশ ব্রাজিল। উদ্বোধনী ম্যাচে সাও পাওলো স্টেডিয়ামে কাল স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বলিভিয়া। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চিলি মাঠে নামবে টুর্নামেন্ট শুরুর দুইদিন পর। তাদের প্রথম ম্যাচ এশিয়া থেকে আমন্ত্রিত দেশ জাপান। টুর্নামেন্টের হট ফেবারিট আর্জেন্টিনা অবশ্য খেলতে নামবে টুর্নামেন্ট শুরুর একদিন পরই আগামী ১৫ জুন দিবাগত রাত ৪টায় তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী কলম্বিয়া।

দুইবার বিশ্বকাপ জয়ী উরুগুয়ে শক্তিশালী দুই দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বেশিবার চ্যাম্পিয়ন এই আসরে। এখন পর্যন্ত ৪৫ আসরের ১৫টিরই শিরোপা ঘরে তুলেছে তারা। উরুগুয়ের চেয়ে মাত্র এক শিরোপা কম আর্জেন্টিনার, তবে সবচেয়ে বেশিবার ফাইনাল খেলার কৃতিত্ব তাদেরই।

কোপা আমেরিকায় সর্বোচ্চ ২৮ বার ফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৮ শিরোপা ব্রাজিলের। দুইবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে প্যারাগুয়ে, চিলি ও পেরু। একবার করে জিতেছে কলম্বিয়া এবং বলিভিয়া।

দুই ফাইনাল হারের বেদনা থাকলেও শিরোপা জিততে মেসি যে কোনো কিছুর কমতি রাখেননি। তা বোঝা যায় কোপার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৯ বার সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হওয়া ও সর্বোচ্চ ১১ এসিস্ট দেখলেই।

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডেও রয়েছেন এক আর্জেন্টাইন। ব্রাজিলের জিজিনহোর সঙ্গে যৌথভাবে কোপার সর্বোচ্চ ১৭ গোলের মালিক আর্জেন্টিনার হয় তিনবারের কোপা জয়ী নর্বের্তো মেন্ডেজ।

আরও একবার শুরু হচ্ছে ফুটবলের প্রাচীন এ টুর্নামেন্টে। যেখানে লড়বে ১২টি দল। দক্ষিণ আমেরিকার ১০ দেশের সঙ্গে আমন্ত্রণ পেয়ে খেলবে এশিয়ার দুই দেশ জাপান ও কাতার। তিন গ্রুপে ভাগ হয়ে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম রাউন্ড।

এরপর হবে ৮ দলের কোয়ার্টার ফাইনাল। তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন এবং রানারআপ ছয় দল সরাসরি চলে যাবে সেরা আটে। এছাড়া সুযোগ থাকবে গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দুই দলের। এক্ষেত্রে তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া তিনদলের মধ্যে সেরা ২টিকে দেয়া হয়ে পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট। যেখান থেকে ৪ দলের সেমিফাইনাল শেষে আগামী ৭ জুলাই ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরোয় অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।

সেই ফাইনাল শেষেও নিশ্চয়ই আবারও কান্না ভেঙে পড়বেন কেউ, আবার কেউ মাতবেন উল্লাসে। তবে তার আগে তিন সপ্তাহ কখনও ব্রাজিলের সাম্বায় অথবা কখনো শিল্পের তুলির আচঁড় দেওয়ার মতো আর্জেন্টাইন ফুটবলে মেতে উঠবে পুরো বিশ্বের ফুটবল ভক্তরা। তার সঙ্গে ফুটবলের রাজপুত্র মেসির ফুটবল পাঁয়ের কারুকাজ কিংবা ব্রাজিলীয় কৌতিনহোদের দারুণ ফুটবলে নিশ্চয়ই মন ভরবে সবার।

পিএনএস/ হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech