বাংলাদেশের তিন ‘ম’ নিয়ে ভাবনা নেই মাস্টারের

  



পিএনএস ডেস্ক: কাল বিকেলে টন্টনের সমারসেট কাউন্টি গ্রাউন্ডের প্রধান ফটকে পা রাখতেই যেভাবে বৃষ্টির কবলে পড়তে হলো, গেটে দাঁড়ানো নিরাপত্তাকর্মীও যেন তাতে বিব্রত হলেন! প্রকৃতির ওপর কি আর কারও হাত আছে? এখানে বিব্রত হওয়ার কী আছে! বৃষ্টি যেভাবে বিশ্বকাপকে ধাওয়া করেছে, আয়োজকেরা সমারসেটের এ নিরাপত্তাকর্মীর মতো ভারী অস্বস্তিতেই পড়েছেন।


ওয়েস্ট ইন্ডিজ পরে, আগে বৃষ্টির সঙ্গে লড়ে নিই—কাল বাংলাদেশ দল এ ‘প্রতিজ্ঞা’ নিয়েই যেন অনুশীলন করতে নেমে গেল। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি উপেক্ষা করে শুরুতে গা গরম, পরে ফিল্ডিং অনুশীলন। স্কিল ট্রেনিং শুরু হতেই বৃষ্টি উধাও। টন্টনের মেঘপুঞ্জ যেন বাংলাদেশের মনোবলের কাছে হার মেনে পালিয়ে গেল! ঝলমলে মিষ্টি রোদেই বাংলাদেশ সেরে নিল ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন। চোখের দেখায় বিষয়টা যদি এমনই মনে হয়, এটির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নিশ্চয়ই স্কিল ট্রেনিং বিকেলে ঠিক করা। আয়োজকেরা হয়তো পরামর্শ দিয়েছে, বিকেলের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। বাংলাদেশ সে অনুযায়ী ঠিক করেছে সূচি।

ব্রিটেনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস যারা দিয়ে থাকে, বেশির ভাগই নির্ভুল। নির্ভুল না হলে ব্রিটিশদের জীবনযাত্রাই যে থমকে যেত! এখানকার পূর্বাভাসে যদি আস্থা রাখা যায়, বাংলাদেশের দর্শকেরা স্বস্তি পাবেন, টন্টনে সোমবারের আবহাওয়া বেশ ক্রিকেট-বান্ধব! ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের আগে বৃষ্টি নিয়ে যদি মাথাব্যথা না থাকে, কোর্টনি ওয়ালশের ভাবনা নেই বাংলাদেশ দলের তিন ‘এম’—মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোস্তাফিজুর রহমান আর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে! বাংলাদেশ পেস আক্রমণ এগোচ্ছে এই তিন ‘ম’কে নিয়েই। মাশরাফি-মোস্তাফিজের পারফরম্যান্স নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, চিন্তা আছে সাইফউদ্দিনের ফিটনেস নিয়েও। লোকে এমনটি ভাবতে পারে, তবে কাল বিকেলে ‘মাস্টার’ বলেছেন, এই তিন পেসারকে নিয়ে তাঁর কোনো চিন্তাই নেই। ওয়ালশের পর্যবেক্ষণে তিন পেসার সঠিক কক্ষপথেই আছেন।

মাশরাফির পারফরম্যান্স:
‘সবাই জানি মাশরাফি লড়াকু। একটু-আধটু চোট আছে। অধিনায়ক হিসেবে সে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিতে চায়। ভালো কিছু স্পেল করেছে সে। ওর দেখাশোনা খুব ভালো করতে হবে আমাদের। সামনে থেকে দেশকে নেতৃত্ব দিতে সে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এখনই প্রশ্ন তোলার সময় হয়নি।’

মোস্তাফিজের সেরাটা বাকি:
‘আমি মনে করি না সে খারাপ বোলিং করেছে। ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে বাজে বল করলে মার খাবেই। এতে বোলিং বিশ্লেষণীটা একটু খারাপ দেখালেও বলব না সে বাজে করেছে। ৮০ ভাগ ভালো হয়েছে। বাকি ২০ ভাগ দিতে পারলে হয়তো বাউন্ডারিগুলো হতো না। ওর বোলিং ফিগারও খারাপ দেখাত না। আর নতুন বল তার হাতে তুলে দেওয়া হবে কিনা এটা নির্ভর করছে প্রতিপক্ষ আর উইকেটের ওপর। যদি শুরুতেই ছন্দ খুঁজে পায়, শুরুতেই আমাদের উইকেট এনে দিতে পারবে। বিষয়টা এখনই খারিজ করে দিচ্ছি না যে তাকে শুরুতে বোলিং দেব না।’

সাইফউদ্দিন পুরো ফিট?
‘ওর হালকা চোট আছে। কিছু ম্যাচ মনের জোরেই খেলেছে। দুদিনের বিশ্রাম পেল। আশা করি সে এখন আরও বেশি ফিট হয়ে খেলবে। ভালো বোলিং করছে। যদি ওর ৯৫ শতাংশও পাই, আমরা খুশি।’

বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে এমনি কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে প্রতিটি ম্যাচেই, টন্টনে ক্যারিবীয় বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে সেটি যে আরও বেড়ে যাবে, না বললেও চলছে। তবে ওয়ালশ তাঁর পেস আক্রমণে পূর্ণ আস্থা রাখছেন। মাশরাফি-মোস্তাফিজরা এখন মাস্টারের আস্থার প্রতিদান দিতে পারলেই হয়।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech