মোস্তাফিজ-তাসকিনদের নিয়ে চিন্তায় নির্বাচকেরা

  

পিএনএস ডেস্ক : সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশ তিন এমনকি চার পেসার নিয়েও খেলতে পারে। কিন্তু টেস্ট এলেই পেসারদের নিয়ে ভীষণ চিন্তায় পড়তে হয়। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও সে চিন্তাটা এড়াতে পারছেন না নির্বাচকেরা

বিকেলের দিকে বিসিবি কার্যালয়ে এলেন দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন ও হাবিবুল বাশার। ভারত সফরের দল প্রায় চূড়ান্ত। অনুমোদনের জন্য বিসিবি সভাপতির কাছে পাঠানোর আগে নামগুলো আরেকবার দেখে নিতে চাইছেন দুই নির্বাচক। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল জানালেন ১৮ অক্টোবর দিয়ে দেবেন দল। ২৫ অক্টোবর শুরু অনুশীলন।

এবার আর প্রাথমিক দল-টল না, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দুই সংস্করণের ১৪-১৫ জনের দলই ঘোষণা করা হবে। ভারত এমনিতেই শক্তিশালী দল, নিজেদের মাঠে তো কথাই নেই! সেই ভারতের বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করবে বাংলাদেশ। পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই কোহলিদের বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে সাকিব আল হাসানের দলকে। টেস্টে ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত কিছু করতে হলে ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য থাকতেই হবে। বাংলাদেশের কি সেটা আছে? বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ পারবে কোহলিদের কাঁপিয়ে দিতে?

কোহলির দলই দেখিয়েছে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং অর্ডার ধসিয়ে দিতে উপমহাদেশের চিরায়ত স্পিনিং কন্ডিশনে শুধু ঘূর্ণি আক্রমণে নির্ভর করলে চলে না। থাকতে হবে ধারালো পেস আক্রমণ। বাংলাদেশ পিছিয়ে তো এখানেই। ‘ডিজাইন পিচে’ খেলতে হয় বলে দেশের মাঠে তাঁরা উপেক্ষিতই থাকেন। সবশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টেও বাংলাদেশ দলে ঠাঁই মেলেনি একজন পেসারের। অথচ প্রতিপক্ষ দলে ছিল দুর্দান্ত সব স্পিনার। অনেক দিন পর দেশের বাইরে যখন পেসারদের গুরুত্ব বাড়ে, সেখানে তাঁরা থাকেন নখদন্তহীন। টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের এই হচ্ছে অবস্থা! গত এক বছরে টেস্টে বাংলাদেশের সফল চার বোলারের সবাই স্পিনার। একজন পেসারের উইকেট সংখ্যা দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেনি।

ভারত সফরে তাই পেস বোলিং আক্রমণ নিয়ে আশা কোথায়? মোস্তাফিজুর রহমানের টানা দুই টেস্ট খেলার ফিটনেস আছে কিনা, সেটি নিয়ে আছে সংশয়। চোট কাটিয়ে এখনো ফিরতে পারেননি তাসকিন আহমেদ। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের সীমাবদ্ধতা শুধুই লাল বলে। অনভিজ্ঞ আবু জায়েদ-ইবাদত হোসেন ভারতে যেয়েই কোহলি-রাহানেদের কঠিন পরীক্ষা নিয়ে ফেলবেন, সেটি আশা করা বাড়াবাড়ি!

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুলের যত চিন্তা তাই পেসারদের নিয়ে, ‘গত ছয় মাস আমরা পেস বোলারদের নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কায় আছি। এখন এমন একটি অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে এক সঙ্গে অনেক পেসার চোটে পড়েছে। যদি এক থেকে দশ জনের একটি তালিকা করি তাহলে দেখা যাবে পাঁচজনই চোটে পড়ে আছে। এইচপিতে (হাইপারফরম্যান্স) অনেকগুলো তরুণ পেসার আছে, তারাও চোটে পড়েছে। এটি আমাদের যথেষ্ট ভোগাচ্ছে। এখন কিছু খেলোয়াড় সেরে উঠেছে। আমাদের পেস বোলারদের নিয়ে সব সময়ই প্রশ্ন তাদের ফিটনেস নেই! এখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আমরা যেভাবে ফিটনেসে গুরুত্ব দিচ্ছি এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এর ফলাফল অবশ্যই পাওয়া যাবে। ফিটনেস না থাকলে দুই ইনিংস বোলিং করা আসলেই অনেক কঠিন।’

ফিটনেসের সমস্যার কারণেই দলের সেরা পেসার মোস্তাফিজকে জাতীয় লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড খেলানো হচ্ছে অনেক সতর্কভাবে। ফিজিওর বেঁধে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী মোস্তাফিজ এক দিনে ইনিংসে ১৫ ওভারের বেশি বোলিং করতে পারবেন না।

পেস বোলিং আক্রমণ নিয়ে যত শঙ্কাই থাকুক, মিনহাজুল আশা ছাড়ছেন না, ‘ম্যাচ জিততে হলে সব বিভাগেই ভালো করতে হবে। একেবারে ১৪০ কিলোমিটার গতির বোলিংই শুধু লাগে না। একটা ভালো সুইংয়ে ১২০ কিলোমিটার গতিতেও ব্যাটসম্যানকে আউট করা যায়। সঠিক জায়গায় বোলিং করছেন কতটা, সেটা জানতে হবে। একজন ফাস্ট বোলার যদি একটা টেস্ট ম্যাচের এক সেশনে ৮৫-৮৭ শতাংশ সঠিক জায়গায় বল করতে পারে অবশ্যই যেকোনো ব্যাটসম্যানকে চাপে রাখা যাবে। আমি মনে করি আমাদের বোলারদের সে সক্ষমতা রয়েছে এবং আমাদের কোচ এটি নিয়ে কাজ করছে। সামনে প্রস্তুতির যে কর্মসূচি রয়েছে, সেখানে কাজ করা হবে। আশা করি আমাদের বোলাররা এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে ভালো করতে পারবে ইনশা আল্লাহ।’

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech