যে ৫ কারণে ভারতের কাছে ফাইনালে হারলো বাংলাদেশ

  

পিএনএস ডেস্ক:১৩ ওভারে ২ উইকেটে ১১০ রান। হাতে আছে আরও ৪২ বল। জিততে হলে করতে হবে ৬৫ রান। দুই সেট ব্যাটসম্যানসহ ৮ উইকেট হাতে রেখে শেষ ৭ ওভারে ৬৫ রান আজকালের টি-টোয়েন্টি দুনিয়ায় পান্তাভাতে পেঁয়াজ-কাঁচামরিচের মতো। এক নাঈম শেখের ব্যাটিং লীলায় নাগপুরের পুরো গ্যালারিতে যখন ভারতীয় হাজার হাজার দর্শক সমর্থকদের গলা শুকিয়ে কাঠ তখন তার ৪৪ বলে খেলা ৮১ রানের বীরোচিত ইনিংসটাকে যথাযথ সম্মান জানাতে পারলো না বাংলাদেশ দল। স্মরণীয় হয়েও হারের বিষাদে ঢাকা পড়লো নাঈমের উল্লাস।

শেষ ৪২ বলে ৬৫ রান করবে তো দূরের কথা উল্টো ৩০ রানের লজ্জার হার নিয়ে হাতের নাগালে থাকা সিরিজটা ভারতকে উপহার দিয়ে ফিরলো মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা। তাতে করে ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের ইতিহাসটাও গড়া হলো না। শেষ ৭ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছে মাত্র ৩৪ রান, খুইয়েছে ৮ উইকেট। ভাবা যায়! অথচ কঠিন হলেও দিনশেষে সত্যি তো এটাই।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ভারতকে হারানো একটি দল পরের দুই ম্যাচ টানা হেরে সিরিজ হাতছাড়া করলো। গতকাল অঘোষিত সেই ফাইনালে বাংলাদেশ কেন হারলো? ম্যাচ বিশ্লেষণে কিছু কারণ নিশ্চয়ই তুলে আনা প্রয়োজন।

* শুরুতেই (দলীয় ৩৭ রানে) শফিউলের জোড়া আঘাতে ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও অপেনার শেখর ধাওয়ান আউট হলেও পরের বোলাররা চাপ ধরে রাখতে পারেননি।

* দলীয় ৩৭ রানেই ভারত তৃতীয় উইকেট হারাতে পারতো, যদি না শ্রেয়াস আয়ারের সহজ ক্যাচটি হাত থেকে ফেলে দিতেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। একবার জীবন পেয়ে সেই আয়ার শেষ পর্যন্ত থেমেছে ৩৩ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলে। দলকে দিয়ে গেছেন জয়ের শক্ত ভীত। সেই ভীতের ওপর দাঁড়িয়ে রানটাকে ১৭৪ পর্যন্ত হয়তো নিতে পারতো না ভারত, যদি মানিশ পাণ্ডিয়ার দেয়া ক্যাচটি তালুতে জমাতে পারতো সেই বিপ্লব।

* ব্যাট হাতে ২০ বছরের এক তরুণ নাঈম শেখ যেখাবে নিজের জাত চেনালেন ঠিক তার বিপরীত ভূমিকায় শুরুতেই আউট হয়ে দলকে চাপে ফেলে গেলেন লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। বাংলাদেশের জয়ের জন্য লিটন-সৌম্যর দারুণ শুরু এনে দেয়া খুব দরকারি ছিল। সেটা তারা পারেনি।

* তৃতীয় উইকেট জুটিতে একাই ভারতীয় বোলারদের শাসন করেছেন নাঈম শেখ। ব্যাটটাকে তলোয়ারে পরিণত করে উইকেটের চারপাশে চার-ছক্কার ফুলঝুড়ি করেছেন নাঈম। ৯৮ রানের জুটিতে তাকে সঙ্গ দেয়া মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাট থেকে এসেছে ২৯ বলে মাত্র ২৭ রান। টি-২০ ফরম্যাটে যেটি খুব বেমানান। মিঠুন যদি আরেকটু চালিয়ে খেলতে পারতো তাহলে হয়তো রান চেজ করাটা আরও সহজ হতো।

* লিটনের আউট হওয়ার পরের বলেই যেমন সৌম্য ফিরলেন একইভাবে মিঠুন আউট হওয়ার পরেই বলেই বোল্ড হলেন মুশফিকুর রহিম। দিনের সেরা বলটিতে নাঈমের আউটের পরের বলেই আফিফের বিদায়, ২০তম ওভারের প্রথম বলে মোস্তাফিজ ও দ্বিতীয় বলে বিপ্লবের বিদায়ে জোড়া আউটের প্রতিযোগিতায় রেকর্ডের খাতায় নাম উঠালো বাংলাদেশ। চার জোড়ায় তো আট জন গেল, মাহমুদউল্লার সঙ্গে শফিউলের জোড়া আউটের গণিতটা মিলে গেলে ম্যাচ হারলেও অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড লিখা হয়ে যেতো বাংলাদেশের নামের পাশে!

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন