৬৮ রানের লিড নিয়ে এগিয়ে ভারত

  

পিএনএস ডেস্ক : গোলাপি আভা গায়ে মাখানোর আগে বিষের নীল বেধেছে টাইগারদের গায়ে। প্রথম দিনে মাত্র ৩০.৩ ওভারে ১০৬ রানে অলআউট হয়ে কোহলিদের ব্যটিংয়ের সুযোগ করে দেয় মুমিনুল বাহিনী। এবাদত দুটি উইকেট নিয়ে কিছুটা গ্লানি কমালেও কোহলিরা মাঠ ছেড়ে গেছেন ১৭৪ রানে। ৬৮ রানের লিড নিয়েছে নীল জার্সি পরিহিতরা।

মায়াঙ্ক আগারওয়াল, রোহিত শর্মা, চেতেশ্বর পুজুরা আউট হয়ে সাজ ঘরে ফিরলেও ক্রিজে রয়ে গেছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তার সংগ্রহ ৫৯ রান। ২৩ রানে অপরাজিত আছেন আজিঙ্কা রাহানে।

মায়াঙ্ককে সাজঘরে পাঠান পেসার আল আমিন। পরের দুটি উইকেট এবাদ হোসেনের। রোহিত ও পুজারাকে আউটের পর সাকিব আল হাসানের আদলে স্যালুট করেছেন এই সিমার।

মায়াঙ্ক ২১ বলে ১৪ রান করে বিদায় নেওয়ার পর চা বিরতির পরপরই ফিরে গেছেন রোহিত। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে এবাদতের পিচ করা বল ব্যাট উঁচিয়ে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন রোহিত। কিন্তু বল অনেকটা সুইং করে আঘাত করে এই ব্যাটসম্যানের প্যাডে। ঘুরে দাঁড়িয়েই স্যালুট তোলেন এবাদত। রোহিত ফিরেছেন ২১ রানে। অর্ধশতক হাঁকিয়ে বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি পূজারা। এবাদতের বলে স্লিপে ধরা পড়েছেন সাদমান ইসলামের হাতে। ১০৫ বলে ৫৫ রান করেন তিনি। এবারও স্যালুট তুলতে ভোলেননি এবাদত।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংস গত ম্যাচের মতোই ফিকে। ইডেন গার্ডেন্সের মাটিতে প্রথমবার গোলাপি বলের খেলা আর নতুন ইতিহাস দুটোই হাতছাতি দিচ্ছিল বাংলাদেশ দলকে। কিন্তু অধিনায়ক মুমিনুল, রান মেশিন মুশফিক আর সাইলেন্ট কিলার খ্যাত মাহমুদউল্লাহরা দেখাতে পারেননি কোনো কারিশমা।

আজ শুক্রবার দুপুর ১টায় টস জিতে ব্যটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুমিনুল। ইমরুল-সাদমান ওপেনিংয়ে নামেন কিন্ত নামের পাশে কাজের প্রমাণটা রাথকে পারেননি তিনি।

এক নজরে খেলার একাংশ-

জীবন পেয়েও পারলেন না ইমরুল
প্রথমবার আউট হওয়ার পর জীবন ফিরে পেয়েছিলেন বাংলাদেশি ওপেনার ইমরুল কায়েস। কিন্তু দিবারাত্রির ঐতিহাসিক এই টেস্ট ম্যাচটি বেশিক্ষণ স্থায়ী করতে পারেননি তিনি। ওই ওভারেই এলবিডব্লিউ’র শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।
ইশান্ত শর্মার বলে ৬ ওভার ১ বলের সময় ইমরুলকে আউট দেন আম্পায়ার। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি। এর এক বল পরেই আবার এলবিডব্লিউর শিকার হন এই বাঁহাতি ওপেনার। এবারও আম্পায়ার আউট দিলে রিভিউ নেন, কিন্ত বল স্টাম্পে যাওয়াতে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন মাত্র চার রান করেই। এবারও বলটি সেই ইশান্ত শর্মার।
মুমিনুল ০, মিথুন ০, মুশফিক ০
এক ওভারেই জোড়া উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। ১০ ওভার তিন বলের সময় রোহিত শর্মার দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন মুমিনুল। আর পাঁচ বলের সময় বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফেরেন মোহাম্মদ মিথুন। উমেষ যাদবের এক ওভারে তারা দুজন সাজঘরে ফেরেন।তাদের সাজঘরে ফেরার পর মুশফিকুর রহিমের উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ শামি। শূন্য রানে তাকেও ফিরতে হয়।
আশা দেখাতে পারলেন না মাহমুদউল্লাহও
গোলাপি বলে টেস্ট খেলতে নেমে ধূসর বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট বিলিয়ে দিচ্ছে টাইগাররা। ইমরুল, মুমিনুল, মুশফিক, সাদমান, মিথুনরা যখন আউট হয়েছেন তখন বাংলাদেশকে আশা দেখাতে পারতেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশ দলের এ নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ও আশা দেখাতে পারলেন, ফিরলেন মাত্র ৬ রানে।
২১ বল খেলে ইশান্ত শর্মার বলে ঋদ্ধিমানের হাতে ক্যাচের শিকার হন মাহমুদউল্লাহ।
মাথায় আঘাত নিয়ে মাঠ ছাড়লেন লিটন
ভারতের বিপক্ষে ইডেন গার্ডেন্সে গোলাপি বলে টেস্ট খেলতে নেমে ধূসর বাংলাদেশ। তবে আশা জাগাচ্ছিলেন লিটন দাস। সেই আশাও দীর্ঘায়িত হলো না বাংলাদেশের। মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন টাইগারদের আশা জাগানিয়া লিটন দাস।
মোহাম্মদ শামির বলে মাথায় আঘাত পেয়ে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছেড়েছেন লিটন দাস। ২৭ বল খেলে ২৪ রান করে দলকে আশার মুখ দেখিয়েছিলেন লিটন, তখনই শামির বল যেন তির হয়ে এলো তার দিকে।
রানের দেখা নেই উইকেট যাচ্ছে অহরহ
প্রথম ইনিংসের প্রথম সেশন শেষে মাঠে নামেন এবাদত হোসেন ও নাঈম হাসান। নাঈম দুই ওভারে যখন দুটি চার মারলেন তখন অনেকেই আশায় বুক বেঁধেছিলেন, তবে তাকে সঙ্গ দেওয়া এবাদতও চলে গেলেন মাত্র ১ রানে। ইশান্ত শর্মার বলে আউট হন এ ক্রিকেটার।

নাঈম হাসানকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইডেন টেস্টে তিনি একাদশে না থাকলেও মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়া লিটন দাসের পরিবর্তে খেলতে নেমেছেন তিনি। ব্যাটিংয়ে নেমে ভাল কিছু করতে পারলেন না মিরাজও। তিনি ১৩ বল খেলে মাত্র ৮ রান করে ইশান্ত শর্মার বলে চেতেশ্বর পুজারার হাতে ক্যাচ তুলে দেন।

আল আমিন হোসেনও তেমন সঙ্গ দিতে পারেননি। নাঈম যতটুকু খেলছিলেন, আউটের পর শেষ হয় যায় আশা। ১০৬ রানের পাশে উইকেট সংখ্যা তখন ১০।
এ ম্যাচের লিটন মাঠ ছাড়ার পর তার বদলে খেলতে নামেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাটিং করে ১১ খেলোয়াড়। কিন্তু তারপরও নীল বিষে গোলাপি আভা ফিকে হয়ে গেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech