জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা কেমন করছেন বিপিএলে

  

পিএনএস ডেস্ক : বিপিএলের গ্রুপপর্ব প্রায় শেষের দিকে। বাকি আছে আর মাত্র আট ম্যাচ। প্রথম ৩৪ ম্যাচে দেশীয় তারকারা কে কেমন করতে পারলেন? আসুন দেখে নেওয়া যাক!

এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বেশ গুরুত্ব নিয়ে দেখছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে দেশীয় ক্রিকেটারদের দক্ষতা বাড়াতে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নেওয়া হয়েছিল লেগ স্পিনার খেলানো, ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করা পেসার আনার মতো উদ্যোগ। দেশীয় ক্রিকেটারদের যার যার অবস্থানে নামিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ারও কথা বলা হয়েছিল।

গ্রুপ পর্বে ৪২টি ম্যাচ হবে বিপিএলে। ঢাকা পর্বের মাত্র ৮টি ম্যাচ বাকি আছে। প্রথম ৩৪টি ম্যাচে কেমন করলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা? বিসিবি কি সফল হতে পেরেছে ক্রিকেটারদের দক্ষতা বাড়ানোর প্রকল্পে। এবারের বিপিএলে গতবারের তুলনায় উঁচু মানের বিদেশি ক্রিকেটারের সংখ্যা কমেছে। বিশ্বের নানা প্রান্তে একই সঙ্গে বেশ কিছু লিগ চলায় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থাকাটাও প্রভাব ফেলেছে আকর্ষণীয় ক্রিকেটারদের বিপিএলে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে। এতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগটা কমলেও, দলে অবস্থান নিশ্চিত করা বা পারফরম্যান্স ভালো করার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছিল। সে সুযোগ কি নিতে পেরেছেন তারা?

সর্বশেষ ভারত সফরের তিন টি-টোয়েন্টিতে খেলা ক্রিকেটারদের অবস্থা একটু দেখে নেওয়া যাক-

লিটন দাস
ভারতে ফর্মে না থাকা লিটনের এবারের বিপিএল হচ্ছে গড় পড়তা। জাতীয় দলের অন্যদের তুলনায় খুব একটা খারাপ না করলেও খুব আহামরি কিছুও করছেন না। ১০ ম্যাচে মাত্র ১ ফিফটিতে ৩২ গড়ে ২৯১ রান তুলেছেন। তবে স্ট্রাইক রেটটা একটু ভালো তাঁর। ১৩৯.২৩ স্ট্রাইক রেট তাঁর দল রাজশাহী রয়্যালসকে পাওয়ার প্লের সুবিধা নিতে দিচ্ছে।

মোহাম্মদ নাঈম
ভারত সফর দিয়েই জাতীয় দলে আসা নাঈম জায়গা ধরে রাখার মতোই খেলছেন। ১০ ম্যাচে ৩৩৮ রান। ২টি দারুণ ফিফটি করেছেন, গড়টাও ভালোর দিকে- ৩৭.৫৫। আক্রমণাত্মক শুরু করলেও ইনিংস জুড়ে স্ট্রাইকরেট ধরে রাখতে না পারাটাই একমাত্র দুশ্চিন্তা। আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে ওপেনারের ১১৮.৫ স্ট্রাইকরেটকে কমই বলতে হবে।

সৌম্য সরকার
ভারতে ওপেনিংয়ে নামা হয়নি সৌম্যের। বিপিএলেও তিন বা চারেই দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ৯ ম্যাচে মাত্র ১ ফিফটি। গড়ও লিটন বা নাঈমের চেয়ে কম (৩৭.৭৫)। কিন্তু স্ট্রাইকরেটে খানিকটা এগিয়ে আছেন সৌম্য। ২৪৬ রান তুলেছেন ১৪৩.০২ স্ট্রাইকরেটে। সে সঙ্গে বল হাতেও নিয়মিত সাফল্য পাচ্ছেন এই অলরাউন্ডার। তবে তাঁর ১১ উইকেটের পাশের ৮.৯৭ ইকোনমি স্বস্তি দেবে না কোনো অধিনায়ককেই।

মোহাম্মদ মিঠুন
সিলেট থান্ডার এবারের বিপিএলে খুবই বাজে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে। সে তুলনায় মিঠুন ভালোই করেছেন। ১১ ম্যাচে ৩৬.৭৭ গড়ে নিয়েছেন ৩৩১ রান। ২টি ফিফটিও আছে। কিন্তু দলের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে খেলতে দেখা গেছে কম। ১২৮.৭৯ স্ট্রাইকরেট অবশ্য বাংলাদেশের মিডল অর্ডার বিবেচনায় ভালোই।

মুশফিকুর রহিম
ভারত থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যদি কেউ ফেরেন, তবে সেটা মুশফিকুর রহিম। বিপিএলেও দারুণ ফর্মে। ৯ ম্যাচে ৩০৯ রান করেছেন সেটাও ৫১.৫ গড়ে। ১৪১.০৯ স্ট্রাইকরেট নিয়েও পেয়েছেন তিনটি ফিফটি। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাট করছেন প্রতি ম্যাচেই। এই বিপিএলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাঝে মুশফিকই সেরা।

মাহমুদ উল্লাহ
অনেক আশা করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স তাঁকে দলে নিয়েছিল। কিন্তু চোট মাহমুদউল্লাহকে মাঠে নামতেই দিচ্ছে না। মাত্র ৩ ম্যাচ খেলতে পেরেছেন। তাতে এক ফিফটিসহ ৭৬ রান। বোলিংয়েও ৪.২৫ ইকোনমিতে ১ উইকেট পেয়েছেন।


আফিফ হোসেন
বাংলাদেশ দলে টপ অর্ডারে জায়গা পান না আফিফ। রাজশাহী রয়্যালস আফিফকে নিয়মিত শুরুতে নামাচ্ছে তাঁকে। সুযোগটা ভালোই কাজে লাগিয়েছেন। ১০ ম্যাচে ৩০৬ রান করেছেন। একটি ফিফটিতে ৩৪ গড়ে এ রান তুলেছেন আফিফ। লিটনের সঙ্গে তাঁর ১৩৬.৬ স্ট্রাইকরেটে রান তোলা দলকে প্রতিদিনই ভালো শুরুর আশা দিচ্ছে। সে সঙ্গে অফ স্পিন বোলিংয়ে ৫ উইকেট পেয়েছেন আফিফ। ৭.৮৮ ইকোনমি যদিও হতাশাজনক।

আমিনুল ইসলাম
যুব পর্যায়ে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত হলেও লেগ স্পিন বোলিংই জাতীয় দলে ঢোকা ত্বরান্বিত করেছে আমিনুল ইসলামের। এবারে লেগ স্পিনে জোর দেওয়ায় আমিনুলকে নিয়মিত দেখা যাবে বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু খুলনা টাইগার্সের হয়ে মাত্র ৩ ম্যাচ খেলতে পেরেছেন। তাতে ৮.৭৫ ইকোনমিতে ৮ ওভার বল করেছেন।পেয়েছেন ২ উইকেট। মাত্র একদিন ব্যাট করার সুযোগ হয়েছিল, তাতে ৪ রান। হতাশাজনক বলাই যায়।

শফিউল ইসলাম
ভারতে দারুণ করেছিলেন শফিউল। কিন্তু বিপিএলে তাঁর পারফরম্যান্স জাতীয় দলের কোচের চিন্তা বাড়াবে। ৯ ম্যাচে মাত্র ৭ উইকেট। সেটাও ৩৮.৫৭ গড় আর ৮.৭০ ইকোনমিতে!

মোস্তাফিজুর রহমান
বিপিএলের শুরুটা ভালো হয়নি মোস্তাফিজের। বলে ধার বা গতি কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পাচ্ছেন। ১০ ম্যাচে ১৫.৪৩ গড়ে ১৬ উইকেট পেয়েছেন। ৬.৭৬ ইকোনমিও প্রশংসাযোগ্য।

আল আমিন হোসেন
তিন বছর পর জাতীয় দলে ফিরে দুর্দান্ত বল করেছিলেন আল আমিন। বিপিএলে অবশ্য ম্লান এই পেসার। ৯ ম্যাচে ১০ উইকেট পেয়েছেন। ৩১.২ গড়ের চেয়ে দুশ্চিন্তা উদ্রেক করছে আল আমিনের ইকোনমি। ওভারপ্রতি ৯.৫ রান দিচ্ছেন এই পেসার।

মোসাদ্দেক হোসেন
ভারত সফরের মাঝপথে পারিবারিক কারণে ফিরতে হয়েছিল মোসাদ্দেককে। এমনিতেও অবশ্য ভালো করছিলেন না। বিপিএলে তাঁর পারফরম্যান্স দল সিলেট থান্ডারের মতোই। ৩১.৬৬ গড়ে ১৯০ রান করেছেন বটে। কিন্তু ১০৬.১৪ স্ট্রাইকরেট দলের কোনো উপকারে আসেনি। অফ স্পিন বোলিংয়ে ৩ উইকেট পেয়েছেন ওভার প্রতি ৮ রান দিয়ে। অধিনায়কের হতাশাজনক পারফরম্যান্স দল সিলেটকেই বেশি ভুগিয়েছে।

তামিম ইকবাল
ভারত সফরে ছিলেন না তামিম। পারিবারিক কারণে না থাকলেও জাতীয় দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন এই ওপেনার। চোটের কারণে বিপিএলে বেশ কিছু ম্যাচ খেলা হয়নি। ৮ ম্যাচে ৩১৮ রান আর ৩ ফিফটি বলছে রান পেতে কষ্ট হচ্ছে না তাঁর। ৫৩ গড়ও সে সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু প্রায় দিনই ইনিংস গড়তে অনেক সময় নিচ্ছেন তামিম। ফলে পাওয়ার প্লের সুবিধা খুব একটা নিতে পারছে না ঢাকা প্লাটুন। ইনিংস গড়তে না পারলে প্রথমে বল বেশি খেলার ক্ষতিকর দিকটাও দেখিয়ে দিচ্ছে তাঁর পরিসংখ্যান। ১১৫.২১ স্ট্রাইকরেট টি-টোয়েন্টির ওপেনারের সঙ্গে একদম মানানসই নয়।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech