ম্যাক্সওয়েল-ক্যারির জোড়া সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার জয়

  

পিএনএস ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার স্কোর যখন ৭৩/৫, তখন ৩০৩ রানের চ্যালেঞ্জটা অনেক বড়ই মনে হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয়ের আশা ছেড়ে দেয়ারই কথা সফরকারীদের।তবে ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে ম্যাক্সওয়েল-ক্যারের ২১২ রানে অসম্ভবকে সম্ভবে পরিনত করেছে।

বেয়ারস্ট'র সেঞ্চুরি (১১২) ম্লান করে সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে ব্যাটে ঝড় তুলেছে অস্ট্রেলিয়ার এই জুটি। ২ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে জিতে টি-২০ সিরিজ হারের বদলা নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

এর আগে ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড ছিল ১৬৫। ২০০৬ সালে কুয়ালামপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই রেকর্ড টপকে গেছে অস্ট্রেলিয়ার এই জুটি। ৯০ বলে চার বাউন্ডারি ৭ ছক্কায় ম্যাক্সওয়েল যখন থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১০৮ রানে,তখন জয় থেকে ১৮ রান দূরে অস্ট্রেলিয়া। ১৫ বলে ১৮ রানের সেই টার্গেট পাড়ি দিতে বেগ পেতে হয়নি অস্ট্রেলিয়াকে।এমনকি ৪৯তম ওভারে আরচ্যারের বলে থার্ডম্যানে ক্যারে (১১৪ বলে ৭ চার. ৩ ছক্বায় ১০৬) ফিরে গেলেও শেষ ওভারে ১০ রানের টাার্গেট কঠিন হয়নি।

আরচ্যারের লেন্থ লাইনে ছিল সমস্যা। তার ৪টি ওয়াইড,১টি নো ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে দিয়েছে বাড়তি শক্তি ! তবে এই ম্যাচে ইংল্যান্ড হেরেছে লেগ স্পিনার আদিল রশিদের একটি খরুচে স্পেলে। যে স্পেলে ৬ ওভারে খরচ তার ৪৯। খেয়েছেন ৪টি ছক্কা ! সেই আদিল রশিদকেই কি না দেয়া হলো ৫০তম ওভারে বোলিংয়ের দায়িত্ব। ৬ বলে ১০ রানের সেই টার্গেটে ওভারের প্রথম বলে স্টার্ক ছক্কায় জয়ের পথ দেখালো অস্ট্রেলিয়াকে। ৪র্থ বলে রশিদকে বাউন্ডারিতে ২ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে জিতে ৫ বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বি-পাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি জিতলো অস্ট্রেলিয়া।

ইনিংসের প্রথম বলে স্টার্কেকে ড্রাইভ করতে যেয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে জেসন রয় এর ক্যাচ,পরের ডেলিভারীতে ড্রাইভ করতে যেয়ে জো রুট এলবিডাব্লু। প্রথম ২ বলে ২ উইকেট ! এমন একটা অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহসই হারানোর কথা। তবে শুরুর এই বিপর্যয় সামাল দিয়ে সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ড। স্কোরটা টেনে নিয়েছে ৩০২/৭ পর্যন্ত।

তা সম্ভব হয়েছে বেয়ারস্ট'র দায়িত্বশীল সেঞ্চুরি (১১০), তৃতীয় উইকেট জুটিতে মরগানকে নিয়ে ৬৭ এবং ৫ম উইকেট জুটিতে সা বিলিংসকে নিয়ে ১১৪ রান এবং ৮ম উইকেট জুটির ২২ বলে অবিচ্ছিন্ন ৩৬ রানের পার্টনারশিপে।

শুরু থেকে বেয়ারস্ট করেছেন আক্রমনাত্মক ব্যাটিং। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে আগের দুই ম্যাচে হতাশ করেছে ইংল্যান্ড। সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে ২ টপ অর্ডারকে হারিয়েও ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে স্কোর করেছে ইংল্যান্ড ৬৭/২। বেয়ারস্ট'র ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার গর্জন থামাতে পেরেছে ইংল্যান্ড।

৪৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ন করেছেন বেয়ারস্ট। কামিন্সকে ছক্কার চুমোয় ক্যারিয়ারের ৮৩তম ওয়ানডে ম্যাচে দশম সেঞ্চুরি পূর্ন করেছেন তিনি ১১৫ বলে ১০ চার,২ ছক্কায়। থেমেছেন সেই কামিন্সের বলেই। বলের বাউন্স প্রত্যাশিত না হওয়ায় বোল্ড আউটে থেমেছেন বেয়ারস্ট ( ১২৬ বলে ১২ চার,২ ছক্কায় ১১২)। স্টার্ককে বিশাল ছক্কায় স্টেডিয়াম পার করা বিলিংস থেমেছেন সেখানে ৫৮ বলে ৪ চার,২ ছক্কায় ৫৭ রানে।

শ্লগে ও ব্যাটে ঝড় তুলেছেন ওকস (৩৯ বলে ৬ চার এ ৫৩*), আদিল রশিদ (৯ বলে ১১ নট আউট)। সিরিজ জুড়ে দারুন ধারাবাহিক ছিলেন অজি লেগ স্পিনার জাম্পা (৪/৫৫,৩/৩৬ এর পর ৩/৫১)। সিরিজের শেষ ম্যাচে মার খেয়েও সফল ছিলেন স্টার্ক ( ৩/৭৪), হেজেলউড ও ছিলেন খরুচে বোলার ( ০/৬৮)।

৪০ ওভার পর্যন্ত সমতালে রানের গতি রাখা অস্ট্রেলিয়ার জন্য শ্লগে ৬০ বলে ৮১ রানের টার্গেটটা কঠিন হতে দেয়নি ম্যাক্সওয়েল-ক্যরে। ৬ষ্ঠ উইকেট জুটির জোড়া সেঞ্চুরিই ম্লান করে দিয়েছে বেয়ারস্ট'র সেঞ্চুরি।

ইংল্যান্ড : ৩০২/৭ (৫০.০ ওভারে)

অস্ট্রেলিয়া : ৩০৫/৭ (৪৯.৪ ওভারে)

ফল : অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে জয়ী।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন