ব্যাঙ্গালুরুকে উড়িয়ে দিল পাঞ্জাব

  

পিএনএস ডেস্ক : লক্ষ্য ২০৭ রানের, প্রথম তিন ওভার শেষে দলের সংগ্রহ ৩ উইকেটে মাত্র ৫ রান। ম্যাচের ফলাফল কার্যত তখনই বলে দেয়া যায়। তবু এবি ডি ভিলিয়ার্স ও অ্যারন ফিঞ্চের মতো ব্যাটসম্যানরা উইকেটে থাকলে অতি নাটকীয় কিছুর আশা থেকেই যায়।

রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর সেই আশাও শেষ করতে ৮.২ ওভারের বেশি সময় নেয়নি কিংস এলেভেন পাঞ্জাব। শুরুর তিন ওভারেই দেবদূত পাড্ডিকাল, জশুয়া ফিলিপ ও বিরাট কোহলিকে সাজঘরে ফেরত পাঠানোর পর বাকি দুই কাঁটা ফিঞ্চ ও ডি ভিলিয়ার্সকে সরাতে ৮.২ ওভার সময়ে নিয়েছে পাঞ্জাবের বোলাররা।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের ৮.২ ওভারে মাত্র ৫৭ রান তুলতেই প্রথম পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেললে আর জয়ের আশা বলতে কিছু বাকি থাকে না। যেমনটা ছিল না ব্যাঙ্গালুরুর ইনিংসে। শেষদিকের ব্যাটসম্যানরা খেলে গেছেন পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে।

তাতে কাজের কাজ হয়নি কিছুই, শুধু পিছিয়েছে পাঞ্জাবের জয়ের ক্ষণ। প্রথম ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে সুপার ওভারে হারলেও, দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাঙ্গালুরুকে পাত্তাই দেয়নি পাঞ্জাব। অধিনায়ক লোকেশ রাহুলের সেঞ্চুরির পর বোলারদের দাপটে ৯৭ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নিয়েছে বলিউড তারকা প্রীতি জিনতার দল।

ব্যাঙ্গালুরুর পক্ষে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেছেন ওয়াশিংটন সুন্দর, ২৮ রান করেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, ফিঞ্চের ব্যাট থেকে এসেছে ২১ রান। টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান দেবদূত (১), ফিলিপ (০) ও কোহলি (১) আটকে গেছেন বাইনারি অঙ্কে। নিচের ব্যাটসম্যানরা চেষ্টা করলেও ১০৯ রানের বেশি যায়নি ব্যাঙ্গালুরুর ইনিংস।

পাঞ্জাবের ৯৭ রানের বিশাল জয়ে বল হাতে ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন দুই লেগস্পিনার রবি বিষ্ণুই ও মুরুগান অশ্বিন। এছাড়া বাঁহাতি ক্যারিবীয় পেসার শেলডন কটরেলের শিকার ২ উইকেট। তবে ম্যাচসেরার পুরস্কারটা জিতেছেন রেকর্ড সেঞ্চুরি করা লোকেশ রাহুলই।

এর আগে একটা সময় মনে হচ্ছিল, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের সংগ্রহটা হয়তো ১৬০ রানের আশেপাশে থাকবে। লোকেশ রাহুল একাই সব হিসেব নিকেশ পাল্টে দিলেন। এবারের আইপিএলের প্রথম সেঞ্চুরিটা এলো এই ওপেনারের ব্যাট থেকেই, সেটাও আবার বিধ্বংসীরূপে।

৬৯ বলে হার না মানা ১৩২ রান। ১৪ বাউন্ডারি আর ৭ ছক্কায় গড়া লোকেশ রাহুলের দানবীয় ইনিংসে ভর করে অবিশ্বাস্যভাবে দুইশ পার করা পুঁজি পেয়েছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

দুবাইয়ে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালোই ছিল পাঞ্জাবের। মায়াঙ্ক আগারওয়াল ২৬ রানে ফিরলেও রাহুলের দারুণ ব্যাটিংয়ে একটা সময় ১ উইকেটেই ১১৪ রান তুলে ফেলে দলটি। ইনিংসের তখন ১৩ ওভার পেরিয়েছে।

এরপরই শিভাম দুবের চমক। টানা দুই ওভারে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের দুই মারকুটে ব্যাটসম্যান নিকোলাস পুরান (১৮ বলে ১৭) আর গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে (৬ বলে ৫) অল্প রানেই ফিরিয়ে দেন এই মিডিয়াম পেসার। তাতে রানের গতিও কমে যায় পাঞ্জাবের।

দুইশ তো পরে, একটা সময় মনে হচ্ছিল কোনোমতে একটা লড়াকু পুঁজি পেলেই হবে। কিন্তু লোকেশ রাহুল যেন ভাবলেন অন্যরকম। একদম ক্যাপ্টেনস নক যাকে বলে। একটা প্রান্ত ধরে এগিয়ে গেলেন, সেট হওয়ার পর বের হলেন খোলস ছেড়ে।

মাঠের চারদিকে দারুণ সব শটে ব্যাঙ্গালুরু বোলারদের ওপর রীতিমত তাণ্ডব চালালেন রাহুল। মাঝে বিরাট কোহলি সহজ ক্যাচ তাকে যেন সেঞ্চুরির সুযোগটা করে দিলেন। ৬২ বলে এবারের আইপিএলের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন রাহুল।

এর মধ্যে ১৯তম ওভারে ডেল স্টেইনকে রীতিমত কাঁদিয়ে ছেড়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। এক ওভারে তিন ছক্কা আর দুই বাউন্ডারিতে তুলে নেন ২৬ রান। রাহুলের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ভর করেই ৩ উইকেটে ২০৬ রান তুলতে পেরেছে পাঞ্জাব।

পিএনএস-জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন