ক্যাচ মিসে সিরিজ হারলো বাংলাদেশ

  

পিএনএস ডেস্ক: তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয়টিতে নিউজিল্যান্ডকে ২৭২ রানের টার্গেটে দিয়েছিল টাইগাররা। এই মাঠে ২৬০ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। তাই বাংলাদেশের আশা ছিল ম্যাচ জেতার। কিন্তু ক্যাচ মিসের মহড়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ।

এই হারে তিন ম্যাচের সিরিজটাও হেরে গেলো বাংলাদেশ। শেষ ওয়ানডেতে জিততে না পারলে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফিরতে হবে বাংলাদেশ।

ক্রাইস্টচার্চের হাগলি ওভালে আগে ব্যাট করে তামিম ইকবালের দায়িত্বশীল ফিফটি ও পরে শেষদিকে মোহাম্মদ মিঠুনের ঝড়ো ব্যাটে ভর করে ২৭১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। ফিল্ডিংয়ে নেমে মাত্র ৫৩ রানেই তুলে নেয় কিউইদের প্রথম ৩ উইকেট। দারুণ ফিল্ডিংয়ে সরাসরি থ্রোয়ে চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটান তামিম।

কিন্তু এরপর অন্য ফিল্ডাররা যেন হাতে সাবান মেখে খেলতে নেমে পড়েন। প্রথমে তাসকিন আহমেদের বলে জিমি নিশামের হাতের ক্যাচ ছেড়ে দেন মুশফিকুর রহীম। পরে টম লাথামের ফিরতি ক্যাচ তালুবন্দী করতে পারেননি শেখ মেহেদি হাসান। এ দুজনকে সুযোগ দিয়েই ম্যাচ হাতছাড়া করে ফেলে বাংলাদেশ।

জীবন পেয়ে অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে দেখিয়েছেন বাঁহাতি টম লাথাম। শেষপর্যন্ত ১১০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে ৫ উইকেটের সহজ জয় এনে দিয়েই মাঠ ছেড়েছেন কিউই অধিনায়ক। ক্রাইস্টচার্চের মাঠে এটিই যেকোনো দলের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড। একইসঙ্গে তিন ম্যাচ সিরিজটিও জিতে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই মার্টিন গাপটিলের উইকেট হারায় কিউইরা। আগের ম্যাচে ১৩১ রানের ছোট লক্ষ্যে যেমন আক্রমণাত্মক খেলছিলেন গাপটিল, আজও আভাস দিয়েছিলেন তেমন কিছুর। তাসকিন আহমেদের বলে পয়েন্ট দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংও শুরু করেছিলেন তিনি।


কিন্তু তাকে বেশিদূর যেতে দেননি মোস্তাফিজ। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের শেষ বলটি লেগস্ট্যাম্পের ওপর কাটার ডেলিভারি করেন বাংলাদেশের কাটার বয়। লেগসাইডে খেলতে গিয়ে লিডিং এজ হয় গাপটিলের। ফলো থ্রু'তে সামনে এগিয়ে গেলেও, দ্রুতই পেছনে ফিরে নিজের বলে নিজে ক্যাচটি তালুবন্দী করেন মোস্তাফিজ।

আউট হওয়ার আগে ৩ চারের সঙ্গে ১ ছয়ের মারে ২৪ বলে ২০ রান করেছেন গাপটিল। পঞ্চম ওভারেই প্রথম উইকেট হারানোর পরও ইতিবাচক ব্যাট করতে থাকেন হেনরি নিকলস ও ডেভন কনওয়ে। মোস্তাফিজ ও তাসকিন আহমেদের জুটি বেঁধে করা ৮ ওভারের প্রথম স্পেলে ১ উইকেটে ৪৩ রান করে নিউজিল্যান্ড।

এরপর আক্রমণে আনা হয় শেখ মেহেদি হাসানকে। ফিজের এনে দেয়া দুর্দান্ত শুরুটা ধরে রাখার দায়িত্ব দারুণভাবে পালন করেন তরুণ অফস্পিনার মেহেদি। আগের ম্যাচে মুখোমুখি প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে চমক জাগানো মেহেদি, আজ নিজের পরপর দুই ওভারেই দলকে এনে দেন মূল্যবান দুইটি উইকেট।

তার প্রথম ওভারের প্রথম দুই বল ঠিকঠাক বুঝতে পারেননি হেনরি নিকলস। তৃতীয় বলটি ছিল মিডল-অফ স্ট্যাম্পের ওপর খানিক ধীরগতির ডেলিভারি। ফরোয়ার্ড ড্রাইভ করতে গিয়ে বলের কাছেও যেতে পারেননি নিকলস, সাজঘরে ফিরেছেন ১৩ রান নিয়ে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মেহেদির এটি প্রথম উইকেট, এই ওভারে কোনো রানই দেননি তিনি।

দশম ওভার করতে এসে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দুই চারের মারে হজম করে বসেন ৮ রান। তবে পরের ওভারেই এটি সামাল দেন মেহেদি, ফিরিয়ে দেন ১ রান করা ইয়ংকে। মিডল স্ট্যাম্পে পিচ করা ডেলিভারি স্কুপ করতে গিয়ে নিজের উইকেট হারিয়েছেন ইয়ং।

মেহেদির দ্বিতীয় ওভার থেকে নিউজিল্যান্ড নিতে পেরেছে মাত্র ২ রান। পরের ওভারগুলোতেও দারুণ বল করেছেন মেহেদি। তার প্রথম স্পেল ছিল ৬-১-১৪-২। কিন্তু অন্যপ্রান্ত থেকে যথাযথ সঙ্গ দিতে পারেননি মেহেদি হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন কিংবা তাসকিন আহমেদরা। যার ফলে সহজেই জুটি গড়েন কনওয়ে ও লাথাম।

বোলাররা যখন জুটি ভাঙতে ব্যর্থ, তখন ফিল্ডিংয়ে জাদু দেখান অধিনায়ক তামিম। তার সরাসরি থ্রোয়েই স্বাগতিকরা হারায় চতুর্থ উইকেট। তাসকিনের করা ইনিংসের ৩৪তম ওভারের চতুর্থ বলটি মিড অফের দিকে ঠেলে দিয়েই এক রানের জন্য দৌড় শুরু করেন কনওয়ে। কিন্তু তিনি পপিং ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই সরাসরি থ্রোয়ে ননস্ট্রাইক প্রান্তের স্ট্যাম্প ভেঙে দেন তামিম।

থার্ড আম্পায়ারের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত আসে আউট। সাজঘরে ফেরার আগে অধিনায়কের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১১৩ রানের জুটি গড়েছেন কনওয়ে। নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমে তার ব্যাট থেকে আসে ৯৩ বলে ৭ চারের মারে ৭২ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। লাথামের সঙ্গে তার জুটিতেই জয়ের ভিতটা পেয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

তবে তামিমের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের পর আরও সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। তাসকিনের করা ইনিংসের ৩৬তম ওভারের প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ৩ রানে খেলতে থাকা জিমি নিশাম। কিন্তু সেটি রাখতে পারেননি মুশফিক। একই ওভারে শর্ট মিডঅফে দাঁড়িয়ে হাঁফ চান্সকে উইকেটে পরিণত করতে ব্যর্থ হন মোহাম্মদ মিঠুন।

পরের ওভারে টম লাথাম ফিরতি ক্যাচ দেন শেখ মেহেদির হাতে। কিন্তু সহজ সেই সুযোগ হাতে রাখতে পারেননি মেহেদি। ফলে জীবন পেয়ে যান মাত্র ৫৮ রানে খেলতে থাকা লাথাম। জীবন পাওয়ার পর নিশাম করেন আরও ২৭ রান, লাথামের ব্যাট থেকে আসে ৫২ রান। এ দুজনই মূলত ম্যাচ শেষ করার কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন করেন।

নিশাম ও লাথামের পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসে ৭৬ রান। জয়ের জন্য যখন মাত্র ২০ রান বাকি, তখন ৩৪ বলে ৩০ রান করা নিশামকে সাজঘরে ফেরান মোস্তাফিজ। কিন্তু ততক্ষণে হয়ে যায় বড্ড দেরি। ড্যারেল মিচেলকে নিয়ে ম্যাচ শেষ করে ফেরেন লাথাম। ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরিতে দলকে জেতানোর পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।

এর আগে এ ম্যাচেও টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় নিউজিল্যান্ড। নিজেদের ইনিংসের প্রথম ওভারেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শুরু করেছিলেন অধিনায়ক তামিম। কিন্তু সেটি ধরে রাখতে পারেননি লিটন। ম্যাট হেনরির করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে এক্সট্রা বাউন্স করা ডেলিভারিতে পুল খেলতে চেষ্টা করেন লিটন। কিন্তু ব্যাটে-বলে ঠিকভাবে সংযোগ হয়নি।

যে কারণে ধরা পড়ে যান শর্ট স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো উইল ইয়ংয়ের হাতে। রানের খাতাই খুলতে পারেননি এ ড্যাশিং ওপেনার। মাত্র ৪ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারালেও পরে বিপদ সামাল দিয়েছেন তামিম ও সৌম্য। প্রথম পাওয়ার প্লে'তে ম্যাট হেনরি ও ট্রেন্ট বোল্টের বিপক্ষে বেশ ভুগতে হলেও, নিজেদের উইকেট হারাননি এ দুজন। এ জুটির দেখেশুনে খেলার বদৌলতে প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ২৬ রান করতে পারে বাংলাদেশ।

তবে এরপর থেকে হাত খুলতে শুরু করেন দুজনই। যার ফলে পরের দশ ওভার থেকে বাংলাদেশ পায় ৫৯ রান। কিন্তু সাজঘরে ফিরে যান সৌম্য। ইনিংসের ২১তম ওভারের প্রথম বলে উইকেট ছেড়ে এগিয়ে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পিংয়ে শিকার হন ৪৬ বলে ৩২ রান করা সৌম্য। তার বিদায়ঘণ্টা বাজান বাঁহাতি স্পিনার মিচেল স্যান্টনার।

অথচ স্যান্টনারের করা এর আগের ওভারেই দর্শনীয় এক শটে বাউন্ডারি হাঁকান সৌম্য। পরে ড্যারেল মিচেলের করা ২০তম ওভারে লংঅন দিয়ে হাঁকান ইনিংসের প্রথম ছক্কাও। কিন্তু ২১তম ওভারের প্রথম বলটি উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে খেলতে গিয়েই করে বসেন ভুল। লেগসাইডে টেনে দেয়া বলটি ব্যাটে-বলে খেলতে না পারার মাশুল দিয়ে হারান নিজের উইকেট।

দলীয় ৮৫ রানের মাথায় সৌম্যের বিদায়ের পর তৃতীয় উইকেট জুটিতে দারুণ খেলেছিলেন মুশফিকুর রহীম ও তামিম ইকবাল। তাদের জুটির রান পৌঁছে গিয়েছিল পঞ্চাশের দোরগোড়ায়। কিন্তু তখনই ক্রিকেট মাঠে ফুটবলের স্কিল নিয়ে হাজির হন নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার জিমি নিশাম।

ইনিংসের ৩১তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি আলতো করে খেলেন মুশফিক। বল বেশিদূর যায়নি, ছিল স্ট্যাম্পের পাশেই। রানের সুযোগ ভেবে দৌড় শুরু করেন তামিম। কিন্তু পপিং ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই বলের ওপর ছোট্ট কিকে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন নিশাম। রিপ্লে'তে দেখা যায় তামিমের ব্যাট তখন পপিং ক্রিজের বেশ বাইরে।

নিশামের এই চতুরতায় সমাপ্তি ঘটেছে বাংলাদেশ অধিনায়কের ১১ চারের মারে ১০৮ রানের খেলা ৭৮ রানের ইনিংসের, ভেঙেছে ৪৮ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের পঞ্চাশতম পঞ্চাশ পূরণ করার পর হাত খুলে খেলছিলেন তামিম। মাইলফলক পূরণের পর ২৪ বল থেকে তুলে নিয়েছিলেন ২৮ রান।

যা সম্ভাবনা জাগায় তার ১৪তম সেঞ্চুরির। কিন্তু শেষপর্যন্ত আর সম্ভব হলো না এটি। ৭৮ রানের ইনিংসটি খেলার পথে দুইবার আউট হওয়ার খুব কাছ থেকে বেঁচে গেছেন তামিম। প্রথমে ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে তাকে কট বিহাইন্ড আউট দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে নিজের উইকেট বাঁচান তামিম। রিপ্লে'তে দেখা যায় সেটি তামিমের থাই প্যাডে লেগে জমা পড়েছে উইকেটরক্ষক টম লাথামের হাতে।

পরে কাইল জেমিসনের ওভারে ফিরতি ক্যাচই দিয়ে বসেছিলেন তামিম। সেটি তালুবন্দীও করেছিলেন জেমিসন। কিন্তু ফলো থ্রু'তে তার হাতে থাকা বল মাটিতে স্পর্শ করলে বেঁচে যান ৩৪ রানে ব্যাট করতে থাকা তামিম। আর এ সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার করে পরে তুলে নিয়েছেন ফিফটি।

২১২ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তামিমের এটি ৬৩তম পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস। এর মধ্যে ১৩টি রয়েছে সেঞ্চুরি। আর বাকি ৫০টি পঞ্চাশ রানের ইনিংস। সেঞ্চুরি কিংবা ফিফটির পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের আর কেউই তামিমের ওপরে নেই। এই ইনিংস খেলার পথে দুইটি রেকর্ডে সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলেছেন তামিম।

এতদিন ধরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫টি পঞ্চাশ রানের ইনিংস ছিল তামিম ও সাকিবের। আজ সেটি ছাড়িয়ে ষষ্ঠ পঞ্চাশ রানের ইনিংস খেললেন তামিম। শুধু তাই নয়, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের মালিকও হয়ে গেলেন তামিম। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২ সেঞ্চুরি ও ৩ ফিফটিতে সাকিব করেছেন ৬৩৯ রান। এখন সেটি ছাড়িয়ে ৬৫৫ রান হয়ে গেছে তামিমের।

অধিনায়কের উইকেট হারানোর পর ব্যাটিংয়ে আসেন মিঠুন, সঙ্গী হিসেবে তখন ধুকতে থাকা মুশফিক। সতীর্থকে আরামে খেলার সুযোগ দিয়ে শুরু থেকেই হাত খুলে মারতে থাকেন মিঠুন। তামিম যেখানে শেষ করেন, ঠিক সেখান থেকেই যেন শুরু করেন ৩০ বছর বয়সী এ ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

ইনিংসের ৪০ ওভার পেরিয়ে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক। রানের জন্য হাঁসফাঁশ করতে করতে অযথাই স্যান্টনারের বলে বড় শট খেলতে চান তিনি। কিন্তু সেই শটে ছিল না টাইমিংয়ের ছিটেফোঁটাও। ফলে বল চলে যায় মিড অনে দাঁড়ানো হেনরি নিকলসের হাতে, ইতি ঘটে মুশফিকের ৫৯ বলে ৩৪ রানের ইনিংস।

একপ্রান্তে মুশফিক রান করতে বেগ পেলেও, মিঠুন ছিলেন শুরু থেকেই সাবলীল। মুখোমুখি নবম বলে প্রথম বাউন্ডারি হাঁকান তিনি, যেটি ছিল আবার ছক্কার মার। সেই যে শুরু, ইনিংসের বাকি সময় আর কোনো সমস্যাই হয়নি মিঠুনের। মুশফিকের সেরা ফর্মের অভাবটা বেশ ভালোভাবেই পূরণ করেছেন তিনি।

জিমি নিশামের করা ৪৫তম ওভার থেকে ইনিংসের সর্বোচ্চ ১৯ রান করে বাংলাদেশ। সেই ওভারের শেষ দুই বলে ছয় ও চার হাঁকান মিঠুন। ওভারের শেষ বলটি ছিল কোমরের ওপরে ওঠা নো বল, ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা মেরে নিজের পঞ্চাশ তুলে নেন মিঠুন। এটি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ ফিফটি।

পরে ফ্রি-হিট বলটি ওয়াইড লং অফ দিয়ে চার মেরে পূর্ণ ফায়দা নেন মিঠুন। কিন্তু আশানুরূপ খেলতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। তার কাছ থেকে ঝড়ো ক্যামিওর আশা থাকলেও ইনিংসের ৪৮তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ১৮ বলে ১৬ রানের বেশি করতে পারেননি। পরে নামা শেখ মেহেদি এক ছয়ের মারে ৫ বলে করেন ৭ রান।

ফলে শেষ ওভারে দায়িত্ব বর্তায় মিঠুনের কাঁধেই। নিশামের করা এই ওভার থেকে বাংলাদেশ পায় ১২ রান। ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে ২৭১ রানে পৌঁছে মিঠুন। তিনি শেষপর্যন্ত ৬ চারের সঙ্গে ২ ছয়ের মারে ৫৭ বলে ৭৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ২ উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্যান্টনার। এছাড়া ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্ট ও কাইল জেমিসন নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন