পত্রিকা ব্যবসা পুনরুজ্জীবিত করতে মাইক্রোসফটের যৌথ উদ্যোগ

  


পিএনএস ডেস্ক: ইন্টারনেটের বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদপত্র শিল্পে বিপর্যয় নেমে এসেছে। তবে এমন নয় যে লোকে নিজেদের লোকদের সম্পর্কে আর জানতে চান না।

সমস্যাটি এসেছে এই বাস্তবতা থেকে যে, সামাজিক গণমাধ্যম এবং ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম ছাপা পত্রিকার প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই সংকুচিত করে এনেছে।

অনেক উপায়েই স্থানীয় সংবাদের প্রতি যা ঘটছে একই রকম পরিণতি হচ্ছে সঙ্গীত ব্যবসারও।

লোকে এখনো সঙ্গীত এবং সংবাদ চান। কিন্তু তাদের এখন আর সঙ্গীত রেকর্ডিং এবং সংবাদপত্র কিনতে হয় না।

এই পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় সংবাদপত্র প্রকাশকদের উপর একটি বড়সড় চাপ পড়েছে। ছাপা পত্রিকার আয় অদম্য গতিতে কমছে। যার ফলে ছাপা পত্রিকার বাজেট কমে যাচ্ছে, প্রতিবেদকের সংখ্যা কমে গেছে এবং পত্রিকা কেনার কারণও কমে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় সংবাদপত্র কম্পানিগুলো মরে যাচ্ছে অথবা কোনো মতে ক্ষুদ্র পরিসরে টিকে আছে।

পত্রিকা কম্পানিগুলো একটি সমস্যা সমাধানের জন্য বহুদিন ধরে সংগ্রাম করেছে যে সমস্যাটি পুরোপুরি ডিজিটাল কম্পানিগুলো হয়তো এখনো বুঝতেই পারেনি। সমস্যাটি হলো, লোকে স্থানীয় সংবাদ চান, কিন্তু তাদের অনেকেই এই সংবাদ পেতে চান ডিজিটাল প্রযুক্তিতে। একটি সামাজিক গণমাধ্যম পরিচালিত মিথষ্ক্রিয় শৈলিতে।

এখন উত্তর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি গণমাধ্যম কম্পানি মাইক্রোসফটের সঙ্গে একজোট হয়েছে নতুন কিছু একটা করার জন্য। দুটি কম্পানি উইন্ডোজ ১০ ট্যাবলেটের মাধ্যমে সংবাদ সরবরাহ করবে। পাশাপাশি গ্রাহকদেরকে সংবাদ প্রক্রিয়ার অংশ হওয়ার জন্য হাতিয়ার সরবরাহ করবে।

মাইক্রোসফট কী করছে?
এই প্রযুক্তি কম্পানিটি সিয়াটল ভিত্তিক গণমাধ্যম কম্পানি পাইওনিয়ার নিউজ গ্রুপের সঙ্গে অংশীদারিত্ব স্থাপন করেছে। পাইওনিয়ার নিউজ কম্পানির অধীনে ওয়াশিংটন, ওরেগন, ইদাহো, মন্টানা এবং উটাহ এর ২৩টি দৈনিক এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা রয়েছে। পাইওনিয়ার এর পাঠকদের জন্য ৮ ইঞ্চির উইন্ডোজ ট্যাবলেট সরবরাহ করছে। যা এর পাঠকরা মাসে ১৫ ডলার করে ১ বছরের জন্য ভোক্তা হওয়ার বিনিময়ে পাচ্ছেন।

ভোক্তারা ট্যাবলেটটির মাধ্যমে স্থানীয় পত্রিকার একটি ডিজিটাল সংস্করণ পাবেন। এছাড়া রবিবারের পত্রিকার একটি ছাপা সংস্করণ পারেবন। ভোক্তারা ইতিমধ্যেই তাদের মালিকানায় থাকা উইন্ডোজ, অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস ডিভাইসে তাদের স্থানীয় সংবাদ প্রবেশ করাতে পারবেন।

ভোক্তারা ইউরিপোর্টার নামের একটি অ্যাপও পাবেন। যা তাদেরকে কোনো সংবাদ সম্পর্কে প্রতিবেদন করতে হাতিয়ারও সরবরাহ করবে। সব মিলিয়ে এটি এমন একটি প্রচেষ্টা যার লক্ষ্য সম্পর্কে মাইক্রোসফট বলেছে, “সংবাদপত্রকে কেন্দ্রে রেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসার একটি অনলাইন কমিউনিটির মাধ্যমে বৈশ্বিক সামাজিক গণমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য নতুন একটি ইকোসিস্টেম সৃষ্টি করা।”

এটি একটি সাহসী লক্ষ্য, তবে অর্থপূর্ণ। এটি এমন একটি প্রচেষ্টা যা স্বীকৃতি দেয় যে, পত্রিকাগুলো হয়তো আর লোকে যেভাবে সংবাদ পান সেরকম থাকবে না। কিন্তু লোকে এখনো প্রতিবেদক এবং সংবাদ এর মূল্যায়ন করেন। পাশাপাশি তারা আরো মিথষ্ক্রিয়ামূলক অভিজ্ঞতাও লাভ করতে চান।

এই প্রচেষ্টা কতটুকু কার্যকর হবে?
মাইক্রোসফট এবং পাইওনিয়ার এর এই প্রচেষ্টা লোকে যেভাবে সংবাদ ভোগ করেন তা যে পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে এবং প্রকৃত অর্থেই সংবাদ মানে কী তার সংজ্ঞাও যে বদলে যাচ্ছে সে বিষয়েরই স্বীকৃতি প্রদান করে। এর মধ্য দিয়েই পত্রিকা কম্পানিগুলো স্বীকার করে নিল যে, পাঠকরা যা কিছু গ্রাহ্য করে তার সবকিছুই সংবাদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

পাইওনিয়ার সিইও মাইক গুগলিট্টো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “আমাদের শিল্পের জন্য এ এক উত্তেজনাকর বিবর্তন। এর ফলে আমাদের সম্প্রদায়ের লোকদের পরস্পরের সঙ্গে পছন্দনীয় উপায়ে যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়বে।” সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech