বিশ্বের প্রতি বিজ্ঞানীদের ‘দ্বিতীয় মহা হুঁশিয়ারি’

  

পিএনএস ডেস্ক: ১৯৯২ সালে বিশ্বের ১ হাজার ৭০০ বিজ্ঞানী প্রথমবারের মতো মানব প্রজাতির প্রতি একটি মহা হুঁশিয়ারি জারি করেছিলেন। সেসময় বিজ্ঞানীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, মানব প্রজাতি পৃথিবীর ইকোসিস্টেম বা প্রাণ ও প্রকৃতির বাস্তুসংস্থান এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছে।

ফলে পৃথিবী শুধু এখন ধ্বংসের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।

ওই হুঁশিয়ারি পত্রে বিজ্ঞানীরা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারের ফলে ওজন স্তরের ক্ষয়ে যাওয়া, বায়ু ও পানি ‍দূষণ, প্রাকৃতিকভাবে মাছ উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, মাটির উর্বরতা কমে যাওয়া, বন উজাড়, বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণির বিলুপ্তি এবং বিপর্যয়করভাবে জলবায়ুর পরিবর্তন প্রভৃতি বিষয়ের উল্লেখ করেছিলেন।

সেসময় বিজ্ঞানীরা লিখেছিলেন, আমাদের সভ্যতার বর্তমান অভ্যাসের বেশিরভাগই যদি না বদলাই আমরা তাহলে মানব সমাজ, উদ্ভিদ এবং প্রাণি জগতের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনব আমরা। আর প্রাণ ও প্রকৃতি এমনভাবে বদলে যাবে যে তা আর প্রাণ ধারণে সক্ষম থাকবে না। আগের মতো আর বাঁচতে পারবেনা কেউই।

কিন্তু ২৫ বছর আগেকার ওই হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও পরিস্থিতি একটুও বদলায়নি। বরং আরো ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে।

ওই হুঁশিয়ারি পত্রের ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিজ্ঞানীরা দ্বিতীয় আরেকটি মহা হুঁশিয়ারি পত্র জারি করেছেন। যা গতকাল সোমবার জার্নাল বায়োসায়েন্স-এ প্রকাশিত হয়েছে।

১৮৪ দেশের অন্তত ১৫ হাজার বিজ্ঞানী এতে স্বাক্ষর করেছেন।
দ্বিতীয় এই হুঁশিয়ারি পত্রে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ‘মানুষেরা পরিবেশগত হুমকিগুলোর সমাধানে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি হুমকিগুলোর বেশিরভাগই আরো মারাত্মক রুপ ধারন করছে। ’

‘শুধু তাই নয়। এমনকি আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ওই ব্যর্থতার পথ থেকে সফলতার পথে ফিরে আসাও অসম্ভব হয়ে পড়বে। ’

এতে আরো বলা হয়, ‘১৯৯২ সালের পর বিশ্বের গড় তাপমাত্রা গত ২৫ বছের আধা ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়েছে। আর বার্ষিক কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে ৬২% হারে। ’

‘এর ফলে পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির পরিমাণ কমে এসেছে। বনাঞ্চল কমে গেছে। এবং প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদনও কমে গেছে। সমুদ্রে মৃত অঞ্চলের পরিমাণ বেড়েছে। অথচ মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ২০০ কোটি! বিপরীতে অন্য সব স্তন্যপায়ী, সরিসৃপ, উভচর এবং মাছেদের সংখ্যা কমেছে ৩০% হারে।

তবে সামান্য কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে। যেমন বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তরের ক্ষয় কিছুটা কমেছ। ১৯৮৮ সালে ওজন স্তরে যতটা ছিদ্র ছিল তা কিছুটা কমে এসেছে। রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনার এবং অ্যারোসোল ক্যানসমুহে ক্লোরোফ্লোরো কার্বনের মতো রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধ করার ফলে এই সুফল লাভ করা গেছে। এর আগে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন নি:সরণের ফলে বায়ুমণ্ডলে এমন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল যা ওজন স্তরকে ধ্বংস করছিল।

ওজন স্তরের ক্ষয় কমিয়ে আনার সাফল্যের মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণিত হয় যে, আমরা চাইলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি যদি আমরা যথোপযুক্তভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করি।

বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় ১৩টি পরামর্শ দিয়েছেন। যার মধ্যে প্রকৃতি সংরক্ষণাধার প্রতিষ্ঠা, খাদ্য অপচয় কমানো, সবুজ প্রযুক্তি নির্মাণ এবং ভোগের ধরন বদলাতে অর্থনৈতিক প্রনোদনা প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো আছে।

বিজ্ঞানীরা এবার একটি নতুন সংগঠনও তৈরি করেছে যার নাম অ্যালায়েন্স অফ ওয়ার্ল্ড সায়েন্টিস্ট। এর লক্ষ্য হলো মানুষ ও পৃথিবীর ভালো থাকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোতে বিজ্ঞানভিত্তিক মতামত দান করা।

দ্বিতীয় এই মহা হুঁশিয়ারি পত্রে আরো বলা হয় যে, ‘যে ১৫ হাজার বিজ্ঞানী এবার এই দ্বিতীয় মহা হুঁশিয়ারি পত্রে স্বাক্ষর করেছেন তারা ভুয়া কোনো সতর্কতা জারি করছেন না। বরং তারা স্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছেন যে, আমরা এক অস্থিতিশীল বা টেকসই নয় এমন এক ভবিষ্যতের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি। আমর আশা করি আমাদের এই দ্বিতীয় মহা হুঁশিয়ারি পত্র পৃথিবীর পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করবে এবং বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষেরাও আলাপ-আলোচনা শুরু করবে। ’

সূত্র: এনডিটিভি

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech