নির্বাচনের আগেই অনলাইনের নিরাপত্তা জোরদার করছে সরকার - বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি - Premier News Syndicate Limited (PNS)

নির্বাচনের আগেই অনলাইনের নিরাপত্তা জোরদার করছে সরকার

  

পিএনএস ডেস্ক : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনলাইনের নিরাপত্তা জোরদার করছে সরকার। এরই অংশ হিবে ফেসবুক, ভিডিও শেয়ারিং পোর্টাল ইউটিউব, মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারসহ বিভিন্ন ধরনের ব্লগ ও ওয়েবসাইটও মনিটরিংব্যবস্থা চালু করতে ইতোমধ্যেই কনটেন্ট বা ইনফরমেশন ফিল্টারিংয়ের (পোস্ট, স্ট্যাটাস সরিয়ে বা মুছে ফেলা) জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার কিনছে আইসিটি বিভাগ।

প্রযুক্তি নিরাপত্তার এই অবকাঠামো তৈরি করা শেষ হলে বাংলাদেশ থেকে কেউ যদি অনলাইনে কোনো পোস্ট দিয়ে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করে কিংবা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায়। তবে তা আগে থেকেই প্রতিহত করা সম্ভব হবে।

আর আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই) এবং মানবিক নজরদারির মাধ্যমেই এই কাজটি পরিচালনা করবে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)। জননিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর যে কোনো তথ্য সংস্থাটি দ্রুততম সময়ে অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিতে বা মুছে ফেলার পাশাপাশি ব্লকও করতে পারবে।

সূত্রমতে, প্রায় শত কোটি টাকার ‘সাইবার সিকিউরিটি ও মনিটরিং’ প্রকল্পের অধীনে আগামী নভেম্বর মাস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এই কাজটি শুরু হবে। ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশ থেকে পোস্ট করা যে কোনো আপত্তিকর ও জননিরাপত্তায় হুমকি হিসেবে বিবেচিত কনটেন্ট মুছে দেয়ার পাশাপাশি তা যেন বাংলাদেশ থেকে দেখা না যায় সে ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, ‘২০১৩ সালের এই প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিলো। দীর্ঘদিন ধরে তা অলস অবস্থায় ছিলো। সম্প্রতি আমি এই প্রকল্পটি ফের সচল করেছি। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার কেনার বায়নাপত্রও সম্পন্ন হয়েছে। সব যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার ইনস্টল করতে মাস-দুয়েক লাগবে। আমরা আশা করছি নভেম্বর নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে কনটেন্ট ফিল্টারিং এর এই ব্যবস্থাটি চালু হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশর গেটওয়ের মাধ্যমে যাই অনলাইনে প্রকাশ করা হোক না তা সরকারের নজরদারির ভেতরেই থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু এটি একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা। তাই দেশের বাইরে থেকে ব্লক করা পোস্ট দেখা যাবে। বর্তমানে কনটেন্ট দেখভালের কাজটি বিটিআরসি’র মাধ্যমে করা হলেও আগামীতে এই কাজটি এনটিএমসি’র কাছে ন্যাস্ত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট থাকবেন।

গত ৯ আগস্ট ফেসবুকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তার সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাফা জব্বার বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। সেখানে ফেসবুকের কাছে আমাদের নানা প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়েছিলো। সাম্প্রতিক গুজব ঘটনার পর আমি ফের তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাংলাদেশে একজন প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। এবার বৈঠকে ওই কর্মকর্তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছি, তারা যদি আমাদের সহযোগিতা না করে। তবে বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য এখানে ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হবে। এই কথায় তাদের উঁচু নাক কিছুটা হলেও নিচে নেমেছে। তারা বাংলাদেশের জন্য আঞ্চলিক স্টান্ডার্ড চালু করতে সম্মত হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অনলাইন কনটেন্ট ফিল্টারিং এর ব্যবস্থাপনা মত প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনও বাধা হবে না। এটা গুজব মোকাবেলা করে জনমানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech