করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলেও পরতে হবে মাস্ক, দাবি বিজ্ঞানীদের

  

পিএনএস ডেস্ক : করোনাভাইরাস মহামারী মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে বদলে দিয়েছে আমাদের সবার জীবনযাত্রা। সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে হলে এখন মাস্ক, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় সতর্কতা বিধি মেনে চলা অত্যাবশ্যকীয়। শুধু তাই নয়, করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের পরও সরকারি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনটিই জানিয়েছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা।

করোনাকে বশে আনতে বিশ্বের প্রায় সমস্ত দেশই কোমড় বেঁধে নেমে পড়েছে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কাজে। বিজ্ঞানীদের দিনরাত এক করা অক্লান্ত পরিশ্রম এবং গবেষণা চলছে শুধুমাত্র করোনার দাপট থেকে বিশ্ববাসীকে মুক্তি দিতে।

কারণ যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে একটা টিকাই পারে মারণ করোনার হাত থেকে সকলকে বাঁচাতে। আর যার জন্যই সারাপৃথিবীর মানুষ আজ চাতক পাখির মতো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে যাচ্ছে। কবে কাটবে এই করোনার কালবেলা। আর এই করোনা আবহেই ফের সামনে এল মার্কিন বিজ্ঞানীদের চাঞ্চল্যকর এক দাবি।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রতিষেধক আবিষ্কার এবং করোনা পরিস্থিতি কেটে গেলেও ভবিষ্যতে বা এরপরও অনেকদিন মানুষকে মাস্ক পরতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।

বেইলির কলেজ অব মেডিসিনের ন্যাশনাল স্কুল অব ট্রপিকাল মেডিসিনের সহযোগী ডিন মারিয়া এলেনা বোট্টাজজি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পর করোনাভাইরাস যে পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যাবে তা নিশ্চিতভাবে বলা এখনই সম্ভব নয়। দিন, দিন যেভাবে করোনাভাইরাস নতুন নতুন উপসর্গ নিয়ে হাজির হচ্ছে তাতে সুস্থ হয়ে ওঠার পর ফের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

এদিন ‘বিজনেস ইনসাইডারকে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, এই ভাইরাস নিজে থেকেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আবার পুনরায় ফিরেও আসতে পারে।”

এদিকে বিশ্বজুড়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বিভিন্ন পর্যায়ে ১৫০টিরও বেশি ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট হিউম্যান ট্রায়ালে পৌঁছেছে। এছাড়াও ২৬টি হিউম্যান ট্রায়ালের প্রথম ধাপে রয়েছে এবং এই ২৬টির মধ্যে আরও ৫টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তৃতীয় পর্যায়ে বা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও ভ্যাকসিন আবিষ্কারের শেষ পর্যায়ে, বিভিন্ন বয়সের কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবীর ওপর এর সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে।

মডার্না, ফাইজার এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা নামক প্রভৃতি সংস্থাগুলো করোনার টিকা আবিষ্কারে দ্রুত গতিতে কাজ করে চলেছে। এই সংস্থাগুলোর তৈরি ভ্যাকসিন খুব শিগগিরই ব্যবহারের জন্য বাজারে চলে আসতে পারে। ভারতেও দুটি ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হচ্ছে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন