শেরপুরে অন্তঃসত্বা নারীকে তাড়িয়ে, নবজাতক মৃত্যু

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া): বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে এক অন্তঃসত্বা নারীকে তাড়িয়ে দেয়া ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে খোলা আকাশের নিচে মাটির ওপর সন্তান প্রসব এবং নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০১ডিসেম্বর) জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নুরুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যরা হলেন- দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল ওয়াদুদ ও সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. হাসিনা পারভীন। জেলার সিভিল সার্জন ডা. অর্ধেন্দু দেব এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গঠিত তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। আগামি তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া তিনি নিজেও বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিন পরিদর্শন করে ডাক্তার-নার্সসহ অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে তিনি জানান। অপর এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর উক্ত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত: গেল মঙ্গলবার (২৯নভেম্বর) দিনগত রাত অনুমান ১১টার দিকে উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের গাড়ীদহ গ্রামের চাতাল শ্রমিক ইলিয়াছ উদ্দিনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মাজেদা খাতুন (৩১) প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। পরে তাঁকে মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ওয়ার্ডের নার্স সুষমা রানি ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পাশের ক্লিনিকে ভর্তি করার কথা বলেন।

এমনকি রাত অনুমান ১টার দিকে মহিলা ওয়ার্ডের প্রসবকক্ষ থেকে মাজেদাকে বের করে দেয়া হয়। এসময় নিরুপায় হয়ে স্বামী ইলিয়াছ উদ্দিন তাঁর স্ত্রীকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সামনে খোলা আকাশের নিচে মাটির ওপর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কন্যা সন্তান প্রসব করেন মাজেদা খাতুন। তবে নবজাতককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এমনকি প্রসূতি ও তাঁর স্বজণদের চিৎকারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও নার্স কেউ এগিয়ে আসেনি।

এ ঘটনায় গত বুধবার প্রসূতির স্বামী ইলিয়াছ উদ্দিন সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইলিয়াছ উদ্দিন জানান, প্রসব বেদনা উঠলে স্ত্রী মাজেদা খাতুনকে নার্স সুষমা রানী হাসপাতালের পাশে গড়ে ওঠা ক্লিনিকে নিয়ে সিজার করার কথা বলেন। কিন্তু নগদ টাকা না থাকায় মাজেদা হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা করানোর অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নার্স মাজেদাকে কয়েকটি ট্যাবলেট খাইয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত তখন ১টা। কোন যানবাহন ছিলনা। এরপরও রোগীকে বাইরে নিতে গেলে চিৎকার দিয়ে পড়ে যান।

এমনকি অন্ধকার খোলা মাঠে নারকেল গাছেরতলায় বালু মাটির ওপর বাচ্চা প্রসব করেন। পরে হাসপাতাল রোডের নৈশপ্রহরী ফজলু মিয়া ও পথচারী রিন্টু এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে ঘুম থেকে ডেকে তুলেন নার্স সুষমা, ডাক্তার পিয়াল ও হাসপাতালের নৈশপ্রহরী কাজলকে। পরে ডাক্তার মাটিতে পড়ে থাকা শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। অথচ জন্মের সময় শিশুটি বেঁচে ছিল বলে তিনি জানান।

তবে অভিযুক্ত সুষমা রানী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অন্তঃসত্বা নারীকে তাড়িয়ে দেয়া হয়নি। শুধু তাদের বাইর থেকে ওষুধ কিনে আনার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। এদিকে ডাক্তার পিয়াল জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই তার প্রসব বেদনা ওঠে। কিছু সমস্যা থাকায় অপেক্ষা করা হয়েছিল।

কিন্তু প্রসব যন্ত্রণায় ছটফটরত রোগীকে কেন হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোখলেছুর রহমান জানান, ঘটনাটি খুবই দুঃখ্যজনক। অমানবিক। তাই আগামিদিনে এসব ক্ষেত্রে তাঁরা আরও সচেতন হবেন বলে মন্তব্য করেন।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech