পটুয়াখালীতে আলু চাষে ব্যাস্ত কৃষকরা

  

পিএনএস, জাহিদ শিকদার (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীতে আলুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। জেলায় এ বছর প্রায় ১২০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হচ্ছে । নভেম্বরের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বরের শুরুতে এ আলু বীজ রোপন করেন কৃষক। এ আলু উত্তলন করা হবে মার্চের শুরুতে। সরকার বা কোনো কোম্পানি যদি এ অঞ্চল থেকে আলু ক্রয় করে তবে আলু চাষ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খেতে কাজ করছেন চাষিরা। কেউ সেচ দিচ্ছেন, কেউ টপ ড্রেসিং (আলু গাছের সারিতে মাটি তুলে দেয়া ও সরিয়ে দেয়ার কাজ) করছেন। আবার কেউ দিচ্ছেন রাসায়নিক সার। কেউ বা ছত্রাক, রোগ-বালাই ও ঘন কুয়াশার হাত থেকে ফসল বাঁচাতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। কৃষি অফিসের সূত্র মতে, জেলায় এ মৌসুমে আলুর লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২শ ৯০ হেক্টর। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১২০০ হেক্টর জমিতে আলুচাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯০ হেক্টর কম।
সদর উপজেলার খলিসা খালী গ্রামের ইউনুস হাওলাদার বলেন, আমি এ বছর আট করা ভূইতে আলু চাষ করছি। আল্লাহ্ দেলে ফলনও ভালো পামু।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম মাতুব্বর জানান, আমাদের এই অঞ্চলে জমি খালি হয় দেরিতে। ফলে আলু রোপন করতে সময় হয়। আমাদের এই অঞ্চলে বিনা চাষে আলু রোপন উপযোগী। সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিম গাবুয়ার কৃষক মো. নিজাম মাতুব্বর বলেন, আমার শ্বশুর গোল আলু চাষের বুদ্ধি দেয়। তার পরে আমি এ বছর চাষ শুরু করি। আল্লাহ্ দেলে ভালো ফলন পামু। আমরা নিজেরা যেভাবে প্যারেক টিক্যাল দেখে শিখছি সেভাবেই চাষ করছি। যদি সরকার বা কোনো কোম্পানি আমাগো আলু কেনতে হ্যালে আরও বড় পরিষরে চাষ করতে পারতাম।

এ সময় কথা হয় এলাকার আর একজন কৃষক রশিদ হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, গ্যালো বার জমিনে আমি আলু দেছালাম। হেইবার পঞ্চাশ মনের বস্তার দুই বস্তা আলু পাইছিলাম। হেই আলু আমরা নিজেরাই খাইছি। আমাগো এদিকে আলু কেউ কেনে না। হেইয়ার লইগ্গা এ বছর আর আলু দেই নাই।

এ অঞ্চলে যে পরিমাণ আলু উৎপাদিত হয় তা দিয়ে কৃষকরা নিজেদের চাহিদা মেটান। যদি সরকার এ অঞ্চল থেকে আলু ক্রয় করে তবে আলু চাষ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন আবদুল করিম মৃধা কলেজের কৃষি বিভাগের প্রভাষক ইউসুফ আলম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম মাতুব্বর জানান, জেলায় এ বছর ১২০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হচ্ছে। উৎপাদন মৌসুমে কৃষক নিজেদের যতটুকু প্রয়োজন তা সংরক্ষণ করতে পারবে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এ বছরও আলুর বাম্পার ফলন হবে আশা করা যায়।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech