আশুগঞ্জে ৫ ট্রাক সরকারি চাল আটক

  


পিএনএস: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সরকারি খাদ্য গুদামের তিন ট্রাক চাল আটক করেছে র‌্যাব।

বৃহস্প্রতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় আশুগঞ্জের বাহাদুর এলাকায় মেসার্স উসমান গনি অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্ট নামে একটি চাল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা থেকে ট্রাকসহ এসব চাল আটক করা হয়। ঘটনায় আটক ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পরে গুদামে অভিযান চালিয়ে আরো প্রায় দুই ট্রাক পরিমাণ সরকারি সিল মারা চালের বস্তা জব্দ করা হয়।

আটক তিন ট্রাকচালক জানান, তাঁরা দুপুরে উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদাম হতে খাদ্যগুদামের লোকজনের উপস্থিতিতে ও ব্যবসায়ী মো. নাঈমের নির্দেশে ট্রাকে চাল লোড করেন।

তবে ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পরও মিল মালিক হাজি বাহা উদ্দিন কিংবা চালের মালিক মো. নাঈম কেউ ঘটনাস্থলে হাজির হননি।

উপজেলা খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, তাঁরা কোনো চাল সরবরাহ করেননি।

সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, আশুগঞ্জ খাদ্যগুদাম থেকে পাচারের উদ্দেশে কয়েকটি ট্রাক সিলেট অভিমুখে যাচ্ছে। র্যাদব ট্রাকগুলোর পিছু নেয়। তারা দেখতে পায়, ট্রাকগুলো উপজেলার বাহাদুর এলাকার মেসার্স ওসমান গনি অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টের ভিতর যায় এবং সেখানে চাল আনলোড করা হয়।

র‌্যাব চালের ব্যাপারে জানতে চাইলে চালকরা জানায়, এসব চাল জনৈক ব্যবসায়ী মো. নাঈম মিয়ার এবং এগুলো প্রসেসিং করতে খাদ্যগুদাম হতে আনা হয়েছে। পরে র্যাযব মিলমালিক মো. বাহাউদ্দিন ও চালের মালিক মো. নাইমকে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। তাঁরা প্রত্যেকে আসবে বলে জানালেও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কেউ আসেননি।

পরে র্যা ব বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল কায়ছারকে অবহিত করে। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আবু কাউছার ও খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানকে ডেকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন।

এ দিকে আটক ট্রাকচালক মো. জয়নাল আবেদিন, মো. হানিফ ও ইয়াছিন ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তার সামনেই দাবি করেন, ব্যবসায়ী নাঈমের নামে তাঁরা খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা মফিজ মিয়ার উপস্থিতিতে চাল ট্রাকে লোড করেন।

তবে খাদ্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান সেখানে এ কথা অস্বীকার করেন।

আশুগঞ্জের ইউএনও মো. আমিরুল কায়ছার জানান, র্যা রে খবরে তিনি ঘটনাস্থলে এসে আটক ট্রাকগুলো দেখতে পান। পরে মিলমালিক ও চালের মালিককে ফোন করা হলেও তাঁরা আসেননি। ঘটনায় মামলা করবে র্যারব।

এ ব্যাপারে ভৈরব র্যা ব ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর শেখ নাজমুল আরেফিন পরাগ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে চালবাহী ট্রাক আটক করা হয়। পরে মিলমালিক ও চালের মালিককে ফোন করা হলেও তাঁরা কেউ আসেননি।

পরে মিল থেকে আরো প্রায় দুই ট্রাক পরিমাণ খাদ্য গুদামের সিল মারা চালের বস্তা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিন চালককে আটক করা হয়েছে এবং মিলমালিক ও চালের মালিকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা।

পিএনএস/বাকিবিল্লাহ্

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech