জামায়াত নেতাসহ আটক আরও ৫

  

পিএনএস, গাইবান্ধা : গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকান্ড দু’সপ্তাহে পড়েছে। এখনও এলাকায় পুলিশের তদন্ত ও আটক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লিটন হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে সুন্দরগঞ্জের এক ইউনিয়ন জামায়াত সেক্রেটারি মোজাম্মেল হক ভুট্টুসহ পাঁচজনকে শুক্রবার আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোর রাতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৬১ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ৮ জনকে রিমা-ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মোজাম্মেল হক ভুট্টু সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়ন জামায়েতের সেক্রেটারী ও পশ্চিম বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের পিয়ন। আটককৃতরা অন্যরা হলেন- কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুবনী কঞ্চিবাড়ি গ্রামের শিবির কর্মী এরশাদ আলী, শান্তিরাম ইউনিয়নের পাঁচগাছী শান্তিরাম গ্রামের জামায়াতের কর্মী আমীর হামজা, ছাপড়হাটী ইউনিয়নের দক্ষিণ মরুয়াদহ গ্রামের জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা ও বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামধন গ্রামের শিবির কর্মী জহুরুল ইসলাম। এদের বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতা মামলা রয়েছে বলে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিয়ার রহমান জানান, এমপি লিটনকে গুলি করে হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে জামায়াত নেতাসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। আটকদের সুন্দরগঞ্জ থানা হাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে নেয়া হবে।
ঘোড়ামারা আজিজের বার্না এন্ট্রারপ্রাইজ তালাবদ্ধ ঃ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মানববতা বিরোধী মামলার আসামি সুন্দরগঞ্জের জামায়াতের সাবেক এমপি ঘোড়ামারা আজিজ প্রতিষ্ঠিত বামনডাঙ্গার বার্ণা এন্টারপ্রাইজে এখন তালা ঝুলছে। বার্ণা এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম, পরিচালক হারুন অর রশিদ, প্রভাষক আমির উদ্দিন, প্রভাষক আজাদুল ইসলাম এমপি লিটন হত্যার দিন থেকেই বামনডাঙ্গা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে।

ঘোড়ামারা আজিজসহ এই পরিচালকরা মিলে জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রমে অর্থের যোগান দিতেই এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করে। এমপি থাকাকালিন আব্দুল আজিজ তার নিজস্ব তহবিল থেকে শেয়ার হোল্ডার হিসেবে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মূলধন বিনিয়োগ করে। সুন্দরগঞ্জ এলাকায় ইটভাটা, ঠিকাদারি এবং বেসরকারি ট্রেন পরিচালনার ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করে এবং তা জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রমে যোগান দিয়ে থাকে। এই প্রতিষ্ঠান ম্যানেজিং ডাইরেক্টরসহ ৩ পরিচালকই ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্র“য়ারি সুন্দরগঞ্জে জামায়াতের তান্ডব, সহিংসতা, নাশকতা এবং ৪ পুলিশ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। এমপি লিটন নিহত হওয়ার রাত থেকেই তারা সকলেই প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে এলাকা থেকে উধাও হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ফলে পুলিশ এখন তাদের খুজছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পিআইও’র অফিসে তালা ঝুলছে ঃ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী প্রামানিক ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত অর্থে ১৩টি ব্রীজ নির্মাণ না করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করলে এমপি লিটন তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়ে অভিযোগ করে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পার্শ্ববর্তী রংপুরের পীরগঞ্জে বাড়ি হওয়ার সুবাদে ওই পিআইও নুরুন্নবীর জামায়াতের সাথে ঘনিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে। এসব কারণে এমপি লিটনের সাথে পিআইও রীতিমত বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিল। তাকেও এই হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ ইতোপূর্বে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সম্প্রতি সে অফিসে তালা ঝুলিয়ে সুন্দরগঞ্জ থেকে উধাও হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech