মাসুক ফেরদৌস হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে তারই বন্ধু নাঈম

  

পিএনএস, বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার আলোচিত এসওএস হারমেন মেইনার স্কুল এন্ড কলেজের মেধাবী ছাত্র জাসদ নেতা এ্যাড. এমদাদুল হক এর ছেলে মাসুক ফেরদৌস হত্যার ঘটনার কথা স্বীকার করে জেলা বগুড়ার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র ও মাটিডালি গ্রামের বেলাল হোসেন সরকারের ছেলে মো: বিদারুল ইসলাম নাঈম (১৪)। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: কামরুজ্জামানের আদালতে নাঈম এ হত্যকান্ডের ঘটনার স্বীকারোক্তিমূূলক জবানবন্দী দেয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো: আসলাম আলী জানান, বুধবার রাতে এজাহার নামীয় আসামী মো: বিদারুল ইসলাম নাঈম (১৪) কে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হলে সে আদালতের সামনে মাসুক ফেরদৌস হত্যার ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দী দেয়। সে জানায়, পূর্ব থেকে মাসুকের সাথে তার শত্রুতা ছিল। টিভিতে ক্রাইম পেট্রল সিরিয়াল দেখে সে মাসুককে হত্যার পরিকল্পনা করে। ক্রিকেট লীগে অংশগ্রহন করার কথা বলে সে মাসুকের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে।

গত ১৭ মে সন্ধ্যার কিছু আগে সে মাসুককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। আসামী নাঈম মাটিডালি বাজার থেকে ১০ টাকা দিয়ে কফি এবং ২৬ টাকা দিয়ে দুধ ক্রয় করে এবং বাকি টাকা দিয়ে কিছু ঘুমের ট্যাবলেট কিনে আনে। মাসুক নাঈমের বাড়িতে আসলে তারা দুজনে বিভিন্ন গল্প করে। একপর্যায়ে নাঈম দুধ দিয়ে কফি তৈরি করে তার ভিতর ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মাসুককে খাইতে দেয়। মাসুক কফি খাওয়ার পর জানায় তার শরীর ঝিমঝিম করছে। এরপর নাঈম মাসুককে প্রস্তাব দেয় আমরা দু’জনে মারামারি খেলব। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নাঈম ও মাসুক মারমারি শুরু করলে নাঈম মাসুকের মাথায় ইটের আঘাত করে হত্যা করে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী শেষে বিজ্ঞ আদালত নাবালক আসামী নাঈমকে যশোর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাসুক হত্যাকান্ডের সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: আসলাম আলী জানান, তদন্ত শেষ হয়নি। তদন্তে হত্যার সাথে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও গ্রেফতার করা হবে। উল্লেখ্য, গত ১৭ মে রাত সাড়ে ৯টায় বগুড়া শহরের মাটিডালি বাজার এলাকার জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা এ্যাড. এমদাদুল হক এর ছেলে মাসুককে মাথায় ইটের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত মাসুকের পিতা এ্যাড. এমদাদুল হক বাদী হয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট টেষ্ট দলের অধিনায়ক মশফিকুর রহিম মিতুর পিতা মাহবুব হামিদ তারা ও তার চাচা মেজবাহুল হামিদসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech