লক্ষ্মীপুরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ১১ মাসে ১৮ হাজার রোগীকে সেবা প্রদান

  



পিএনএস, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র সদর (জুলাই/১৬- মে/১৭) ইং পর্যন্ত ১১ মাসে ১৮ হাজার ১১ জন রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়। সেবা গুলোর মধ্যে মহিলাদের গর্ভবর্তী পরিচর্যা, গর্ভের পূর্বে করনীয়, নরমাল ডেলিভারি, সিজার, সাধারণ চিকিৎসা, (০ থেকে ৫ বছরের) শিশুদের চিকিৎসা ও সেবা, বাচ্চাদের টিকা, জম্মনিয়ন্ত্রনে স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহন (পুরুষ-মহিলা), দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি, স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতি, কিশোর কিশোরিদের সেবা,জরায়ু ট্রেস্ট, সন্তান ধারণ থেকে বিরত থাকতে (এম আর)।

মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. আশফাকুর রহমান মামুন, মেডিকেল অফিসার ডা. জুনায়েদ আহম্মদ মারুফ, ডা. আফরিন সুলতানা সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এ ধরনের সেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বর্তমান চিকিৎসা এবং সেবা পদ্ধতি অতি সহজে পাওয়া কারনে দিন দিন মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে রোগী সংখ্যা বেড়েই চলছে বলে কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে।

সরেজমিনে শনিবার সকালে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের প্রচন্ড ভিড়, মেডিকেল অফিসারদের প্রতিটি কক্ষে গর্ভবর্তী ও প্রসব পরবর্তী মহিলা ও শিশুরা বিভিন্ন ধরণের সেবা ও পরামর্শ নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে কল্যান কেন্দ্রে আসা রোগী ও সদর উপজেলা মান্দারী ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের ফেন্সি আক্তার (৩০) জানান, তিনি বর্তমান দুই সন্তানের জননী, বিগত দুই বছর পূর্বে তাহার ২য় ছেলে সন্তান হয়। সন্তান হওয়ার পূর্ব থেকেই তিনি মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে আসছে। কল্যাণ কেন্দ্রের সেবা নিয়ে বর্তমানে সন্তুষ্ট।

অপরদিকে দত্তপাড়া ইউনিয়নের বটতলী গ্রামের ফারিয়া সুলতানা জানান, তিনি বর্তমানে ৩ মাসের গর্ভবর্তী। গর্ভকালীন পরিচর্যা ও সেবা পেতে তিনি কল্যান কেন্দ্রে এসেছেন। রোগীদের প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যে তিনি সেবা পেয়েছেন।

মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মাসে গর্ভবর্তী পরিচর্যা বিষয়ক ৪৭১০ জন, গর্ভবতী হওয়ার পূর্বে করনীয় বিষয়ক ১৯৫৪ জন, নরমাল ডেলিভারির করানো হয় ৮১০ জন, সিজার, সাধারন রোগী ১৬৭০, (০-৫ বছরের শিশু ৫৬ জন, ১০১৬ জন শিশুকে টিকা, ৪৯৫ জনকে স্থায়ী পদ্ধতি (পুরুষ-মহিলা), স্বল্পমেয়াদী (পুরুষ-মহিলা) ৯৩৩ জন, ৯৫২ জন পুরুষকে কনডম, ১৯৯০ জন মহিলার মাঝে জম্মনিয়ন্ত্রন বড়ি, ২৫৪ জন (কিশোর-কিশোরীর) মাঝে সেবা, ক্যান্সার সহ অন্যান্য কঠিন রোগ থেকে রক্ষা পেতে ৩৯৩ জন মহিলাকে জরায়ু টেষ্ট ও ২৯৮ জন মহিলাদের অপরিকল্পিত গর্ভধারন থেকে রক্ষা পেতে এম আর করানো হয়।

মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. আশফাকুর রহমান মামুন বলেন, কল্যান কেন্দ্রে আসা রোগীদের আন্তরিকভাবে সেবা প্রধান করা হয়। সদর উপজেলার ২১ টি ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে রোগীরা কেন্দ্রে আসছে। আমরা যতটুকু সম্ভব তাদের আন্তরিকভাবে সেবা দিয়ে থাকি। এ কারনে প্রতিনিয়ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে।

গত ১১ মাসে ১৮ হাজার ১১ জন রোগীকে আমরা এই কেন্দ্র থেকে সেবা দিয়েছি। কল্যান কেন্দ্রের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা রোগীদের সেবা দিতে সদা প্রস্তুত রয়েছে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech