কুলাউড়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, দুর্ভোগ চরমে

  

পিএনএস ডেস্ক : কুলাউড়া উপজেরার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে হাজারাে পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাস্তায় পানি উঠে কুলাউড়া উপজেলার সদরের সাথে ভুকশিমইল ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

শনিবার রাত থেকে টানা ২৪ ঘন্টার ভারি বর্ষণের ফলে কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল, জয়চন্ডী, কাদিপুর, ব্রাহ্মণবাজার, ভাটেরা ও বরমচাল ইউনিয়নের বণ্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। মানুষের বাড়ি ঘরে পানি উঠেছে। ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুকুরের মাছ।


এদিকে এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর তীরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সৃষ্ট বন্যা হাওর তীরের জনপদের রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। অকাল বন্যায় হাওর তীরের বোরো হারা মানুষ এবার ভয়াবহ বন্যায় বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানি উঠায় এবং রমযান মাস হওয়ায় হাওর তীরের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিন হাকালুকি হাওর তীরের কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল, ভাটেরা ও জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়ন ঘুরে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগের ভয়াবহ চিত্র চোখে পড়ে। ইতোমধ্যে হাওর তীরে এসব জনপদের ৮০ ভাগ রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। যেসব রাস্তাঘাট এখনও বন্যার পানিতে তলায় নি, সেগুলো হাকালুকি হাওরের বড় বড় ঢেউয়ে ভেঙে মিশে যাচ্ছে পানির সাথে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মানুষের বাড়ি ঘরে উঠেছে বন্যার পানি। রমযান মাস হওয়ায় বানভাসি এসব মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।

ভুকশিমমইল ইউনিয়নে ১৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মদনগৌরী, কাইরচক, জাব্দা, গৌড়করণ, ভুকশিমইল, বাদে ভুকশিমইল, কানেহাত, চিলারকান্দি, কালেশার, উত্তর শশারকান্দি, মনসুরগঞ্জ, মুক্তাজিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যা কবলিত। কোন কোন বিদ্যালয়ে ২ ফুট থেকে ৩ফুট পানির নিচে। মদনগৌরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কৃষক লীগ কুলাউড়া উপজেলা সভাপতি আব্দুল কাদির জানান, ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০০৪ সাল থেকে প্রায় প্রতিবছর বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ডেস্ক বেঞ্চ। এমনকি ভবনটিও অনেকটা ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়টির উন্নয়নের জন্য স্থানীয় এমপিসহ সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু সামান্য মেরামত তালিকায় বিদ্যালয়টির নাম অন্তভুক্ত হয়নি। শশারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদরুল ইসলাম জানান, হাওর এলাকায় মাঠির খুব সংকট। বিদ্যালয় মাঠ ভরাটের জন্য কিছু মাঠি দিয়েছিলেন, ভারী বৃষ্টিপাতে সেগুলো ধুয়ে মুছে নিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া হাওরের উত্তাল ঢেউয়ে বিদ্যালয় ভবনের মাঠি সওে বিরাট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যেকোন সময় ভবনের দেয়াল ধ্বসে পড়তে পারে।

ভকুশিমইল ইউনিয়ন ছাড়াও ভাটেরা ইউনিয়নের শাহমীর ও রহমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানি উঠে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের শাহপুর, ভাটি শাহপুর, বেলাগাঁও গ্রামের মানুষের চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এসব এলাকায় হাকালুকি হাওরের উত্তাল ঢেউয়ে মানুষের বাড়িঘর হুমকির মুখে রয়েছে।

ভুকশিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান মনির জানান, কুলাউড়া-কাদিপুর হয়ে ভুকশিমইল ইউনিয়নের রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামের রাস্তা তলিয়ে গেছে। মানুষের চলাচলের একমাত্র উপায় হচ্ছে এখন নৌকা। বিশেষ করে সাদিপুর, চিলারকান্দি, জাব্দা, কানেহাত, মুক্তাজিপুর এসব গ্রামে মানুষের ঘরে বন্যার ২-৩ ফুট বন্যার পানিতে পানি তলিয়ে গেছে। ভাটেরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানান, বেড়কুড়ি, শাহমীর, খামাউরা, নওয়াগাঁও ও শরীফপুর গ্রামের মানুষ চৈত্র মাসের ১৫ তারিখ থেকে অদ্যাবধি নৌকাযোগে চলাচল করছে। কিন্তু গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে মানুষের বাড়িঘরে বন্যার পানি উঠেছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে হবে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বি জানান, আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে সরেজমিন কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ও কাদিপুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখেছি। হাওরের উত্তাল ঢেউয়ে রাস্তাঘাটের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বস্তায় বালু ভর্তি করে আপাতত ঢেউয়ের কবল থেকে রক্ষার জন্য বলেছি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য আপাতত কোন বরাদ্ধ নেই। তবে ঈদের জন্য ১০৬ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্ধ পেয়েছি। সেগুলো দ্রুত বন্টন করার ব্যবস্থা করছি।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech