সাংবাদিককে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা

  

পিএনএস ডেস্ক: দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি শিমুল হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মুমীদুজ্জামান জাহান নামে যুগান্তর ও ভোরের দর্পণ পত্রিকার সাংবাদিককে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শাহজাদপুরসহ পুরো জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে শাহজাদপুরের কর্মরত সাংবাদিকরা উপজেলার মনিরামপুর বাজারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধন থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক জাহানের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিমল কুন্ডু, সাধারণ সম্পাদক শফিকুজ্জামান শফি, সাংবাদিক হাসানুজ্জামান তুহিন, সাংবাদিক ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল-আমিন হোসেন, সাংবাদিক ওমর ফারুক, সাংবাদিক মামুন রানা, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এম এ জাফর লিটন প্রমুখ।

জানা যায়, গত শনিবার (১৫ জুলাই) ‘বাঘাবাড়ি নৌবন্দর, ছয় লাখ লিটার অবৈধ ডিজেল কালোবাজারে বিক্রি’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার শেষ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত সংবাদের ফলোআপ করার জন্য রোববার দুপুর ১২টার দিকে যুগান্তর ও বিজয় টিভির সাংবাদিক মো. মুমীদুজ্জামান জাহানসহ তিন সাংবাদিক বিপিসির বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপোতে যান।

এ সময় সাংবাদিক জাহান ডিপোতে নতুন করে আরও কিছু তেল চুরি হচ্ছে সেই ছবি তার ক্যামেরায় ধারণ করলে তেল চুরির সঙ্গে জড়িতরা নিরাপত্তা প্রহরীর উপস্থিতিতে তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে তেল চোরেরা সাংবাদিক জাহানের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করতে করতে বাইরে টেনেহিচড়ে এনে বেধড়ক মারপিট করে হত্যার চেষ্টা করে। সাংবাদিক জাহান প্রাণ বাঁচাতে যমুনা ওয়েল ডিপোর অফিস সহকারীর কক্ষে আশ্রয় নেয়।

এখানেও তেল চুরি সিন্ডিকেটের নেতা মির্জা মানিক, ছমির ও ফরিদের নেতৃত্বে অফিস কক্ষের ভেতরে ঢুকে সাংবাদিক জাহানের পরনের প্যান্ট-শার্ট ছিড়ে তাকে অর্ধ-বিবস্ত্র করে ফেলে এবং মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তবে প্যান্টের পকেটে থাকা কিছু টাকা তারা ছিনিয়ে নেয়। আশেপাশের লোকজনসহ তার সঙ্গে থাকা অপর দুই সাংবাদিক তাকে উদ্ধার করে যমুনা ওয়েল ডিপোর ম্যানেজার আব্দুল মজিদের কক্ষে নিয়ে প্রাণ বাঁচান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিক জাহানকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হলে পরবর্তীতে তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হামলার শিকার সাংবাদিক মুমীদুজ্জামান জাহান জানান, তেল চুরির ছবি তোলার পরই তার ওপর হামলা চালানো হয়। আকুতি-মিনতি করলেও তারা তাকে ছাড়েনি। তার ফোন-ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়। পকেট থেকে টাকাও ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক শ্রমিক নেতাদের জানানো হলে নেতারা মামলা ও সংবাদ না করার জন্য হুমকিও দিয়েছেন। এ ব্যাপারে মামলার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিমল কুমার কুন্ড হামলার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে জানান, মাত্র ছয় মাস আগে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পৌর মেয়রের গুলিতে সাংবাদিক শিমুল মারা যান। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই সাংবাদিক জাহান পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলেন। ঘটনাগুলো অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনাদায়ক।

তিনি আরও জানান, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মারপিট ও হত্যার শিকার হচ্ছেন। দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই। যখন-তখন হামলার শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাজা গোলাম কিবরিয়া জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ না দেয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech