গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি শহর রক্ষায় বাঁধ হুমকির মুখে ॥ শিশুর মৃত্যু

  

পিএনএস, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধা জেলার সবগুলো নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্যানুযায়ি সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, পলাশবাড়ি, গোবিন্দগঞ্জ ও সদর উপজেলার ৪২টি ইউনিয়ন এবং গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এদিকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পানিতে ডুবে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের তালুককানুপুর গ্রামের রিয়ামনি নামে আড়াই বছরের এক শিশু মারা গেছে। সে ওই গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে।

এদিকে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের ডেভিড কোম্পানীপাড়া, বাহারবন, চকমামরোজপুর, কাজলঢোপের ৮টি পয়েন্ট একেবারে ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এরমধ্যে মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত আকস্মিকভাবে ডেভিড কোম্পানীপাড়ার ৪টি পয়েন্টে বাঁধের ছিদ্র পথে পানি চোঁয়াতে শুরু করে। এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ড, সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল ও পৌরসভার মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ তৎপরতার সাথে বালুর বস্তা দিয়ে ও রিং তৈরী করে পানি চোঁয়ানো বন্ধ করে বাঁধটিকে ধ্বংসের হাত রক্ষা করতে সক্ষম হয়।

এছাড়া বহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়া-রতনপুর ও কাতলামারী দুটি পয়েন্টে বহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর বন্যার পানির তোড়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব পয়েন্টে বাঁধ ভেঙ্গে গেলে জেলা শহরসহ সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। এ কারণে বাঁধ সংলগ্ন এলাকাগুলোর লোকজনের মধ্যে বেশি আতংক বিরাজ করছে।

অন্যদিকে পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের চেরেঙ্গা এলাকায় করতোয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১শ’ মিটার অংশ মঙ্গলবার ভেঙ্গে যাওয়ায় ৮টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে চেরেঙ্গা, কিশামত চেরেঙ্গা, শালমারা, ঝাপো, দৌলতপুর, কড়িআটা, জগন্নাথপুর ও চাকলা। অপরদিকে উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের টেংরারদহ এলাকায় করতোয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৫০ মিটার অংশ অংশ ধ্বসে যায়। এতে ওই ইউনিয়নের বড় শিমুলতলা, তেকানী, প্রজাপাড়া, কেশবপুর, চকবালা, সগুনা, পশ্চিম মির্জাপুর, কাশিয়াবাড়ী, কিশোরগাড়ী, গনকপাড়া, হাসানখোর, জাফর, মুংলিশপুরসহ ১৩টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। ওইসব গ্রামের আমন ধান ক্ষেত, বীজতলা, শাকসবজির ক্ষেত, পানের বরজ, আখক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এছাড়া সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী-ভাঙ্গামোড় সড়কের নীলকুঠি এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১০৩ সে.মি. উপর দিয়ে, ঘাঘটের পানি বিপদসীমার ৮৫ সে.মি. উপর দিয়ে এবং করতোয়ার নদীর পানি বিপদসীমার ৩৪ উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া তিস্তা নদীর পানি এখন বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল জানান, এবারের বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য এ পর্যন্ত ৫শ’ মে. টন চাল ও নগদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ১শ’ ৫০ মে.টন চাল ও সাড়ে ৩ লাখ টাকা বন্যা দুর্গত এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল



 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech