শেরপুরে বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ফসলি জমি পানির নিচে

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : যমুনা নদীর পানি কমলেও বাড়ছে বাঙালি ও করতোয়ার পানি। এই দুই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে শতশত বিঘা ফসলি জমি ও সবজি ক্ষেত। এছাড়া বন্যার পানি লোকালয়েও ঢুকে পড়েছে। ফলে পৌরশহরের ৩নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ।

এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানির স্রোত অত্যধিক হওয়ায় উপজেলার সাহেবাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি যে কোন সময় ধ্বসে যেতে পারে-এমন শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। কারণ এই বাঁধটি ধ্বসে গেলে শেরপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সিরাজগঞ্জের বিশাল এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাবে। নষ্ট হয়ে যাবে হাজার হাজার বিঘার জমির ফসল।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমীন জানান, গাইবান্ধায় করতোয়া নদীর বাঁধ ধ্বসে গেছে। ফলে করতোয়ার পাশাপাশি বাঙালি নদীর পানি বাড়ছে। তবে যমুনা নদীর পানি কমা অব্যাহত রয়েছে বলে এই কর্মকর্তা জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করতোয়া ও বাঙালি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার খামারকান্দি, খানপুর, সুঘাট ও সীমাবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে চলতি মৌসুমের শতশত বিঘা আমন ধান ও সবজি ক্ষেত। এসব এলাকার কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমান জানান, এই উপজেলায় ১হাজার ২০৫হেক্টর চলতি মৌসুমে লাগানো আমন ধান ও ৪৫হেক্টর রকমারি সবজি ক্ষেত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে অন্যান্য এলাকার ফসলি জমিও তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

এদিকে পৌরসভার কাউন্সিলর নিমাই ঘোষ জানান, করতোয়া নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় তার ওয়ার্ডের শতাধিক ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। পানিবন্দি লোকজনের সীমাহীন দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে বলে এই জনপ্রতিনিধি জানান।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল



 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech