সাপে কাটা মৃত রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা কবিরাজের!

  

পিএনএস, তানোর(রাজশাহী) প্রতিনিধি : সাপে কেটে মারা গেলেন তাজেমুল (৩৮)। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন এবং মৃত্যুর সনদপত্রও দেন। কিন্তু কবিরাজ রোগী দেখে বললেন রোগীর মৃত্যু হয়নি। এখনও জীবন আছে। চলে কবিরাজের ঝাড়-ফুঁক। শিকড়-বাকড় তুলে চলে কবিরাজি নানা কলা-কৌশল। অতপর: ৩০মিনিট কবিরাজি চিকিৎসা করার পর কবিরাজ বলে, মুখ দিয়ে নলের মাধ্যমে ঔষুধ পেটের ভেতর দিতে পারলেই রোগী বাঁচবে।

অবান্তর এমন ঘটনা ঘটে আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তানোর উপজেলার লালপুর উচ্চ বিদ্যালয় স্কুল মাঠে। শত শত মানুষের সামনে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করার কবিরাজের এমন কারসাজি দেখতে অনেকেই হুমড়ি খেয়ে পড়েন। মৃত তাজেমুল গোদাগাড়ী উপজেলার কাকানহাট পৌর এলাকার ঘুষণা গ্রামের বাসিন্দা।

এ নিয়ে লালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনি বলেন, আমাদের স্কুল মাঠে যখন এমন অবান্তর কবিরাজি চিকিৎসা চলে তখন আমি প্রতিবাদ করি এবং বলি ভন্ডামো করার জায়গা পাচ্ছেন না। ঔষুধ মুখ দিয়ে পেটের ভেতরে গেলে রোগি বাঁচবে। মার খাওয়ার ইচ্ছে হয়েছে তাই মরা মানুষকে নিয়ে ভন্ডামী চালাচ্ছেন। তারপরও কবিরাজ বারবার বলছিলেন, ‘ঔষুধ পেটে গেলেই বাঁচবে। এখনও রোগীর জান আছে।’

এ নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শি লালপুর স্কুলের অফিস সহকারী আলাউদ্দীন জানান, প্রায় আধাঘন্টা ধরে কবিরাজী চলে মৃত সাপে কাটা ব্যক্তির ওপর। বারবার মৃত ব্যক্তিটি মুখে হাত ঢুকিয়ে ঔষুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এর আগে কখনও তাকে গ্রামে এভাবে চিকিৎসা করতে কেউ দেখিনি। তাছাড়া সে বড় মাপের কোন কবিরাজও নয়। গ্রামে দু’একজনকে ঝাঁড়-ফুক করে থাকে। আজ তার এমন কান্ড দেখে গ্রামের অনেকেই অবাক হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্কিকার করে তানোর তালন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। মৃত ব্যক্তিকে কখনও জীবিত করা যায় না। এটা র্নিবুদ্ধিতার পরিচয়।

এ নিয়ে ভন্ড কবিরাজ ফিরোজ মুঠোফোনে বিষয়টি প্রথমে অস্বিকার করলেও পরে তা স্বিকার করে বলেন, তিনি চেষ্টা করে দেখেছেন মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করা যায় কি না ! পরে তার এমন চিকিৎসার জন্য ক্ষমা চান।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল




 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech