প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে কথা বলেই গৃহবধূর আত্মহত্যা!

  

পিএনএস ডেস্ক : ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের লোকজন বলছেন, প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের কে এম ডাঙ্গি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ওই গৃহবধূর নাম সুবর্ণা বেগম (২২)। তিনি ওই গ্রামের কৃষক শেখ আবদুল খালেকের মেয়ে। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তাঁর স্বামী শামীম প্রামাণিক (২৭) পাশের সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আলমনগর গ্রামের নিজাম প্রামাণিকের ছেলে। তিন বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রবাসী শামীমের সঙ্গে সুবর্ণার বিয়ে হয়।

সুবর্ণার পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন বছর আগে শামীম তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে সুবর্ণাদের বাড়িতে আসেন। এর এক মাস পর শামীম বাহরাইন চলে যান। শামীম বাহরাইনে যাওয়ার এক মাস পর ফোনের মাধ্যমে সুবর্ণার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর গত তিন বছরেও শামীম দেশে আসেননি। সুবর্ণা শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ি দুই জায়গাতেই থাকতেন।

সুবর্ণার ভাবি বিউটি আক্তার জানান, সুবর্ণা প্রতিদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইমোতে শামীমের সঙ্গে কথা বলতেন। গতকাল বিকেলে তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন। তখন শামীম তাঁকে ফোন করে সুবর্ণার খোঁজ নিতে বলেন। বাড়ি ফিরে দেখেন, ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে সুবর্ণা আত্মহত্যা করেছেন। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় সুবর্ণাকে নামিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় বাড়িতে কেউ ছিল না বলে জানান বিউটি আক্তার।

চরভদ্রাসন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, সুবর্ণাকে মৃত অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছিল।

সুবর্ণার বাবা শেখ আবদুল খালেক বলেন, সুবর্ণার সঙ্গে তাঁর স্বামীর প্রায়ই মুঠোফোনে ঝগড়া হতো। তবে তাঁদের কী নিয়ে ঝামেলা হতো, তা জানা নেই।

চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রামপ্রসাদ ভক্ত বলেন, এ ব্যাপারে চরভদ্রাসন থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। দুই পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে লাশ দাফনের জন্য সুবর্ণার পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech