ডিমলা মিথ্যা মামলার শিকার দিনমুজুর পরিবার দিন কাটে খেঁয়ে না খেঁয়ে

  

পিএনএস, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি : হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে অসহায় দিন মুজুর পরিবারের দিন কাটছে এখন খেঁয়ে না খেঁয়ে। প্রতিপক্ষের একটির পর একটি মিথ্যা মামলায় হয়রানীর শিকার হলেও বাস্তুভিটা রক্ষায় এখন পাগল প্রায় দিনমুজুর পরিবারটি। স্ত্রী ছেলে মেয়ে নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছে এ পরিবারের সদস্যরা। সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র অসহায় এ দিনমজুর এখন বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। বিচার পায়নি কোথাও। যেন বিচারের বাণী নির্ভৃতে কাঁদে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর রোববার সরজমিনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের কাকড়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের পুত্র আজিজুল ইসলাম বাড়ীতে গেলে তিনি অভিযোগ করে বলেন,দীর্ঘদিন ধরে বাব-দাদার পয়ত্রিক জমিতে বসবাস করে আসছি। কিন্তু বাস্তুভিটা সংলগ্ন প্রতিবেশী প্রতিপক্ষ অফিয়ার রহমান গং আমাকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানী করে আসছে। আমাকে আমার বসতবাড়ী থেকে উচ্ছেদের পরিকল্পনায় বিভিন্নভাবে হয়রানী করে আসলেও আমি বসতবাড়ী ও বাস্তভিটা ছাড়িনি। একারণে তারা আমার বাড়ীতে আগুন দেওয়া, বাড়ীর বেড়া ভেঙ্গে দেওয়া থেকে শুরু করে কখনও কখনও ঘরের দরজা ভেঁঙ্গে দিয়ে আমাকে মারপিট করলেও আমি আমার বসতভিটায় বসবাস করছি।

কোন কিছুতেই কাজ না হলে আমার ছেলে-মেয়ে-স্ত্রী ও ভাইদের নামে মিথ্যা মামলা করছে একের পর এক। আমি দিনমুজুরী করে যা পাই তা দিয়ে কোন মতে সংসার চললেও এসব মিথ্যা মামলা চালাতে গিয়ে এখন পরিবার পরিজন নিয়ে খেঁয়ে কখনও বা না খেঁয়েও দিন কাটছে আমাদের।

তিনি বলেন, মৌজা কাকড়া জেএলনং-৩৯, খতিয়ান নং-এসএ ৫০৮/১, খারিজ নং-৫০৮/১, হোল্ডিং নং- ১৯২০, ডিপি ১৬২৫, ১৬৬৪, দাগ নং-এসএ ২০০৭ , হাল ৩০১৬ দাগে ২১ শতংশ জমিতে বসবাস করে আসছি দীর্ঘ দিন ধরে। ২৯ ডিসেম্বর/৯৭ ইং তারিখে ৮২৫০ নং দলিল মূলে ১০ শতাংশ ও ১৩ এপ্রিল/০২ ৩৭৩৭ নং দলিলে ১১ শতাংশ জমি ক্রয় করে বসত বাড়ী নির্মাণ ও বাঁশ ও গাছপালা লাগিয়ে বসবাস করছি। কিন্তু ৫ মার্চ/ ১৪ ইং তারিখে আমার প্রতিপক্ষ অফিয়ার রহমান গং একটি ভূঁয়া ১৪৯৮ নং দলিল দেখিয়ে আমাকে হয়রানী করে আসছে মৃত মজিবর রহমানের পুত্র অফিয়ার রহমান, সফিয়ার রহমার ও অফিয়ার রহমানের স্ত্রী নাছিমা বেগম।

তারা সকলেই জাহের উদ্দিন, জাহাদ আলী, জমর উদ্দিন ও আব্দুল কুদ্দুস সকলের পিতা চাটি মামুদ নাম ব্যবহার করে ডিপি খতিয়ান ৬৬৭ নং মাত্র ৬ শতাংশ জমি থাকলেও একটি ভূঁয়া এসএ খতিয়ান ৫০৮ সৃষ্টি করে ভূঁয়া দলিলে ২০ শতাংশ জমি ক্রয় করেছে মর্মে তা পরবর্তীতে প্রদর্শন করে আমাকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানী করে আসছে। অথচ যাদের না জমিদাতা হিসেবে দেখানো হয়েছে তারা না দাবীর একটি লিখিত কপি দিয়ে জমি বিক্রয়ের বিষয়টি তারা জানে না বলেও স্বীকার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে হয়রানীর শিকার দিনমুজুর আজিজুল ইসলাম হয়রানী ও মিথ্যা মামলা থেকে পরিত্রানের আশায় বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দূর্নীতি দমন কমিশন, ভূমি মন্ত্রণালয়,ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, জেলা রেজিষ্ট্রার, জেলা প্রশাসক, সাংসদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ সংশ্লিষ্ট সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ প্রেরণ করে ডাকযোগে।

গত ১৯ র্মাচ/১৭ ইং তারিখে দূর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ১ সেগুন বাগিচা, ঢাকা এর স্বারক নং দুদক/অভি: যাচাই-বাছাই/২০০-২০১৭/১৩১৬১ মূলে অভিযোগের প্রাপ্তি স্বীকার করে একটি পত্র প্রেরণ করেন অভিযোগকারী আজিজুল ইসলামের বরাবরে। এ পত্রটিও আলোর মুখ দেখেনি এখনও। কবে হবে বিচার ? কবে পাবে এসব মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি ? আর কত দিনেই বা নিজেদের জীবন নিয়ে বাঁচতে পারবে তারা ? এসব নানা সঙ্কা এখন কাজ করছে পরিবারটিতে। এদিকে প্রতিপক্ষরা দিনমুজুর ও তার পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকী প্রদর্শন করছে প্রাণে মেরে ফেলার। ভঁয়ে আতঙ্গে দিনাতিপাত করছে পরিবারটি।

আজিজুলের অভিযোগ, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের কুচক্রে আমাকে বাস্তুভিটা ছাড়াতেই পরিকল্পনা করেই আমাকে এভাবে হয়রানী ও হুমকী দেওয়া হচ্ছে। কিছুতেই আমি বাস্তুভিটা ছেড়ে যাবো না। নির্যাতিত নিপিড়িত পরিবারটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চায়। পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিতে বাঁচতেও চায় তারা। অসহায় অতিদরিদ্র দিনমুজুরের পরিবারটিকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ কি এগিয়ে আসবে ?

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech