হাঁসে রাজ্জাকের মুখে হাসি

  


পিএনএস, পাবনা: পাবনার একটি গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুর রাজ্জাক হাঁস পালন করে এখন স্বাবলম্বী। কিছুদিন আগেও তার পরিবারে অভাব অনটন ছিল নিত্য সঙ্গী। কিন্ত হাঁস পালনে পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা, মুক্তি পেয়েছেন তিনি আর্থিক অভাব-অনটন থেকেও। হাঁস পালক কৃষক আব্দুর রাজ্জাক এর বাড়ী পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বাঘলবাড়ি কৈ গ্রামে। মাত্র ২২ হাজার টাকার পুঁজির ব্যবসায় এখন তিনি প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) সকালে বাঘলবাড়ি কৈ গ্রামে গিয়ে কথা হয় হাঁসের খামারি আব্দুর রাজ্জাকের সাথে। তিনি জানান, এই খামার করার শুরুতে তিনি সামান্য কিছু হাঁসের বাচ্চা কিনে শুরু করেন। জৈষ্ঠ্যমাসে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মহাশৈল গ্রামের শাহীনের হ্যাচারী থেকে ৩০ টাকা করে ২২ হাজার ৫শ' টাকায় ৭৫০ টি ক্যাম্বল জাতের হাঁসের বাচ্চা কিনে শুরু করেন খামার। এরপর তিনি দেখতে পান অল্প পুঁজিতে তার ব্যাপক মুনাফা আসতে শুরু করেছে। তখন তিনি চিন্তা করেন হাসের সংখ্যা বাড়ানো দরকার।

গত বছর তিনি চারশত হাঁস পালন করে প্রতি মাসে খরচ বাদে অন্তত ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। ডিম দেয়ার পর পরিণত বয়ষ্ক হাঁসগুলো বিক্রি করে দেন। লাভজনক হওয়ায় দৃঢ়ভাবে মনোনিবেশ করেন হাঁস চাষে। এ বছর তিনি তার খামারে পালন করছেন সাড়ে সাত’শ হাঁস। স্বপ্ন দেখছেন সুদিনের।

আব্দুর রাজ্জাক আরো জানান, পাঁচ শতক বসত ভিটা ছাড়া অন্য কোন জায়গা জমি নেই তার। কয়েক বছর আগে অন্যের পুকুর লীজ নিয়ে মাছ চাষ করতেন। পুকুরের লীজের মেয়াদ শেষ হলে ছয় বছর ধরে হাঁস পালন করছেন।

স্ত্রী জাহানারা খাতুন ও ছেলে সুলতান সবসময় সহায়তা করেন তাকে। এ ছাড়া মাসে নয় হাজার টাকা বেতনে সেলিম নামের এক শ্রমিক কাজ করেন তার খামারে। হাঁস গুলোর বয়স এখন পাঁচ মাস। ক্ষতিকর জেনেও হাঁসকে খাওয়ানোর জন্য প্রতিদিন বিলে জাল ফেলে শামুক ধরেন। এছাড়া প্রতিদিন এক মণ গম খাওয়ান হাঁসকে, যার দাম প্রায় এগারো শত টাকা। চার জনের শ্রমের মূল্য এক হাজার দুইশ টাকা হিসাবে তার প্রতিদিন খরচ আসছে দুই হাজার তিনশ টাকা।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, হাঁসগুলো পূর্ণ বয়ষ্ক হলে শতকরা ৮০ টি ডিম দিলে প্রতিদিন প্রায় ৬শ টি করে ডিম পাওয়া যাবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪ হাজার ২শ টাকা। তখন তিনি প্রতি মাসে প্রায় সোয়া লাখ টাকার ডিম বিক্রি করতে পারবেন।

আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী জাহানারা খাতুন জানান, ছেলে, বৌমা ও নাতিসহ পাঁচ জনের পরিবার। সবাই আমরা হাঁসের খামারে পর্যায়ক্রমে শ্রম দেই। ভোরে ঘুম থেকে উঠে খামার পরিষ্কার করে নৌকা থেকে শামুক নামিয়ে হাঁসগুলোকে খেতে দিতে হয়। পাঁচ মাস যাবত হাঁসের পিছনে টাকা ঢালছি। ব্র্যাক থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শামুক ধরার জন্য বড় একটা নৌকা এবং বাদাই জাল কিনেছি। বর্তমানে কয়েকটি হাঁস ডিম দেয়া শুরু করেছে। আশা করছি আগামী মাস খানেকের মধ্যে শতকরা ৮০টি হাঁস ডিম দেবে।

এখন বিলে পানি আছে বাড়ির কাছেই হাঁস রাখছি। শুষ্ক মৌসুমে হাঁস নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। সেসময় বাড়ি ছেড়ে হাঁস নিয়ে দুর দূরান্তে যেতে হয়। রাত্রে নিরাপদে হাঁস রাখার জন্য চাটমোহর মান্নান নগর সড়কের পাশে ৪ শতক জায়গা লীজ নিয়েছি। এর জন্য বছরে দুই হাজার ৫শ টাকা জমির মালিককে দিতে হয়। আলোর জন্য সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থাও করেছি। বাড়ির সবাই পরিশ্রম করছি সুখের আশায়, সুদিনের মুখও দেখতে পারছি, খামারটা বড় করার জন্য কিছু জায়গা জমি কেনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জেলার চাটমোহর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ স্বপন চন্দ্র দেবনাথ জানান, আব্দুর রাজ্জাকের সহ উপজেলায় মোট ৫৪ টি হাঁসের খামার রয়েছে। এ ছাড়াও অনেকে বাড়িতে হাঁস পালন করেন। তবে আব্দুর রাজ্জাক পরিশ্রম করে সফলতা পেয়েছে। হাঁস পালন একটি লাভজনক ব্যবসা। বেকার-নারী-পুরুষরা এক্ষেত্রে এগিয়ে এলে সরকার সব ধরনের সহায়তা করবে।

পিএনএস/কামাল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech