শেরপুরে বাহাস অনুষ্ঠান ঘিরে দু’গ্রুপ মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন নিয়ে বগুড়ার শেরপুরে দু’গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নেয়ায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যা যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় উভয়গ্রুপকে নিয়ে স্থানীয় ডিজে হাইস্কুল খেলার মাঠে উন্মুক্ত বাহাসের আয়োজন চলছে।

এ লক্ষ্যে গত বুধবার (২২নভেম্বর) সন্ধ্যারাতে শেরপুর টাউন পুলিশ ফাঁড়িতে বিবাদমান গ্রুপের নেতাদের নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠকও করা হয়। সেখানে ১০টি শর্তে আগামি ১৭ডিসেম্বর এই বাহাস অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

পুলিশ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রস্তুতি বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আসন্ন পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন উপলক্ষে গেল কয়েকদিন আগে বগুড়া শহরের সিদ্দিকীয়া দরবার শরীফ ও সুন্নতী গবেষণা কেন্দ্র মসজিদে কুবার পক্ষ থেকে শেরপুর পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ স্থানে পোস্টার ও ডিজিটাল প্যানা লাগানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদের দেয়ালে পোস্টার ও প্যানা সাটানো হয়। ওই পোস্টারে সকল ঈদের শ্রেষ্ঠ ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) ও নবীর শানে মিলাদ ও কিয়াম অস্বীকারকারীদের বেঈমান বাতিল ফেরকা হিসেবে লেখা রয়েছে। এতে আপত্তি জানিয়ে চরমোনাই পীরের অনুসারী ইমরান কামালসহ বেশকয়েক ব্যক্তি উক্ত পোস্টার ও প্যানা মসজিদের দেয়াল থেকে সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেন।

এনিয়ে মসজিদ প্রাঙনে উভয়গ্রুপের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে টাউন পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর জিল্লুর রহমান ও টিএসআই শাহ আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তবে পোস্টারে লেখা রাসুল (সা:) শানে মিলাদ ও কিয়াম অস্বীকারকারীদের বেঈমান বাতিল ফেরকা বিষয়ে উভয়গ্রুপের লোকজন নিজ নিজ অবস্থান নিয়ে বাহাসের ঘোষণা দেন। পরে ফাঁড়ি পুলিশের ওই দুই কর্তাও বাহাসের পক্ষে মতদিয়ে উদ্যোগী হন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছেন।

এদিকে এই বাহাস অনুষ্ঠানকে বিবাদমান দু’গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যা কোন সময় ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নিতে পারে। প্রস্তুতি বৈঠকে অংশ নেয়া মাওলানা মোখছেদ আলী, মুফতি মোখলেছুর রহমান, ইমরান কামাল, শাহীন আলমসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, উক্ত বিষয়ে খোলা মাঠে উন্মুক্ত দশ শর্তে বাহাসের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উভয়পক্ষ ১লাখ করে মোট ২লাখ টাকা জমা দিয়ে বাহাসে অংশ নেবেন। যারা পরাজিত হবে তাদের ১লাখ টাকা অনুষ্ঠানের খরচ হিসেবে ব্যয় ধরা হবে। একইসঙ্গে ভ্রান্ত মতাদর্শন থেকে ফিরে আসবেন বলে শর্ত মেনে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন বলে তারা জানান। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর টাউন পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই শাহ আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার বলেন, উক্ত পোস্টারে লেখা বিষয়টি নিয়ে চরমেনাই পীরের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

এমনকি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নিতে যাচ্ছিল। তাই উভয়পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। শেরপুর টাউন পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর জিল্লুর রহমান বাহাসের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শর্তসাপেক্ষে বাহাস অনুষ্ঠান করার জন্য উভয়পক্ষের লোকজনকে ডাকা হয়েছিল। এবিষয়ে তারাও একমত হয়ে প্রাথমিকভাবে খসড়া চুক্তিনামনায় স্বাক্ষর করেছেন বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech