রোহিঙ্গাদের বসতির কারণে হুমকিতে জীববৈচিত্রা

  

পিএনএস, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : রোহিঙ্গাদের আবাসের পাশাপাশি স্থানীয় কিছু সুবিধাভোগী সরকারি বন উজাড় করায় হারাতে বসেছে এসব এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। রোহিঙ্গাদের ঘনবসতির কারণে এসব এলাকায় হাতিসহ অন্যান্য পশুপাখির উপস্থিতি যেমন কমছে, অন্যদিকে জলাভূমিতে মানব বর্জ্য মিশে যাওয়ায় হারাতে বসেছে অনেক জীব বৈচিত্র্য। উখিয়ার পাশেই বান্দরবানের ঘুনধুম। চারপাশে গাছ থাকলেও বনের ভেতরে ঢুকলেই দেখা যায় শত শত গাছ কেটে ফেলার অংশ। সরকারি জায়গা হলেও গাছ কাটার কোন অনুমতির দরকার হয়না বরং যে চিহ্নটুকু অবশিষ্ট আছে সেটুকু নিশ্চিহ্ন করার ব্যাস্ততা।

নাইক্ষ্যংছড়ির ভেতরের অনেক পাহাড় বিশেষ করে যেসব পাহাড় দিয়ে হাতি পারাপারের রাস্তা ছিলো সে স্থানগুলো লিজ নিয়ে কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে দেয়া হয়েছে। ফলে গত ত্রিশ বছরে বন্য হাতি চলাচলের রাস্তাও পরিবর্তন হয়েছে বার বার। এছাড়া গত তিন মাসে উখিয়া অংশে হাতি পারাপারের রাস্তায় রোহিঙ্গা বসতি হওয়ায় গত তিন মাসে এসব এলাকায় বন্য হাতি দেখা যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসা মানববর্জ্য এসে মিশে যাচ্ছে জলাভুমিতে। উখিয়ার ষাট হেক্টর জলাভূমি আর সেখানকার জৈববৈচিত্র এখন হুমকির মুখে। এছাড়া পাহাড় কাটায় জলাভূমিগুলো স্বাভাবিক গভীরতাও হারাচ্ছে। পরিবেশ ও পর্যটনকর্মী কলিম উল্লাহ বলেন, ‘কক্সবাজারের গভীর বনে জীব-যন্তু এবং যে প্রাণীগুলো ছিলো সেগুলো এখন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। প্রাণীগুলো হয়তো বার্মায় চলে যাচ্ছে নয়তো বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’

পরিবেশ কর্মীদের মতে, প্রকৃতির এই ক্ষতির প্রভাব পড়বে পর্যটনের ক্ষেত্রেও। কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের কর্মী দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘এখানে বন্য প্রাণী, পাখি এবং উদ্ভিদ ছিলো সেটা হারিয়ে যাচ্ছে সেগুলোকে জাগিয়ে তোলা আর সম্ভব হবে না।'যুগ যুগ ধরে উখিয়া আর বান্দরবানের স্থানীয়রা তাদের জীবনাচারে প্রকৃতিকে আশীর্বাদ হিসেবে পেয়েছেন। সেই প্রকৃতি যখন হুমকির মুখে তখন তার প্রভাব পড়বে যাপিত জীবনেও।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech